Sharing is caring!

DSCN6648ইমরান আলী শিবগঞ্জ থেকে \ ভারতীয় রফতানিকারকদের দফায় দফায় পাথরের মূল্য বৃদ্ধি, সরবরাহে কৃত্রিম সংকট ও জটিলতা তৈরি করায় চরম ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছেন সোনামসজিদ স্থলবন্দরের পাথর আমদানিকারক, সরবরাহকারী ও ব্যবসায়ীরা। এ সংকটের নিরসন না হওয়ায় শনিবার থেকে পাথর আমদানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন এই স্থলবন্দরের আমদানিকারকরা। আর যদি পাথর আমদানী বন্ধ হয়, তাহলে পদ্মা সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পের কাজ বিঘœ ঘটার আশঙ্কা করছেন অনেকে। সরেজমিন সোনামসজিদ স্থলবন্দর ঘুরে ও সোনামসজিদ আমদানি ও রফতানিকারক গ্রæপ সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের বৃহৎ দুটি প্রকল্প পদ্মা সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে পাথরের ব্যপক চাহিদার কারণে ভারতীয় পাথর রফতানিকারকরা এটিকে পুঁজি করে ফায়দা লুটতে চাচ্ছে। তারা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের এক ধরনের জিম্মি করে অধিক মুনাফা আদায় করছে। ভারতীয় পাথর রফতানিকারকদের আচরণে ত্যক্ত-বিরক্ত দেশী আমদানিকরকরা সংকটের সমাধান না পেয়ে শনিবার থেকে পাথর আমদানি বন্ধের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দেশীয় আমদানিকারকরা অভিযোগ করছেন, দফায় দফায় পাথরের মূল্য বৃদ্ধি, পাথরবাহী ভারতীয় ট্রাককে সরাসরি বাংলাদেশে ঢুকতে না দিয়ে মহদীপুরে ডাম্পিং করা এবং সেখানে নিম্নমানের পাথর মেশানো, ইচ্ছাকৃত যানজট সৃষ্টির মতো কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দেশীয় আমদানিকারকদের বিপাকে ফেলে ফায়দা লুটতে চাচ্ছে ভারতীয় রফতানিকারকরা। এ বিষয়ে জিয়াউল হক, আলহাজ মোহাম্মদ মেরাজুল হক, আতাউর রহমান রাজুসহ কয়েকজন পাথর আমদানিকারক এবং আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের অর্থ সম্পাদক রকিবুল আলম রাকিব জানান, পাথরবাহী ট্রাক সরাসরি সোনামসজিদে ঢুকতে না দিয়ে কৃত্রিম সংকট তৈরির পাশাপাশি মহদীপুরে ডাম্পিং করে নিম্নমানের পাথর মেশানো হচ্ছে। এছাড়াও গত দুই মাসে দফায় দফায় পাথরের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। এতে করে একদিকে যেমন দেশী আমদানিকারকরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, অন্যদিকে পদ্মা সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে পাথর সরবরাহ বন্ধের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে। তারা দৈনিক চাঁপাই দর্পনকে আরো জানান, ৭ মাস আগে ভারতের রফতানিকারকরা রকম ভেদে যে পাথরের দাম নিত প্রতি সিএফটি ১৮-২২ রুপি, ২ মাস আগে তা নির্ধারণ করে ২৮-৩০ রুপি। বর্তমানে প্রতি সিএফটির পাথরের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬-৩৭ রুপী। তারা জানান, বর্তমান বাজার মূল্য দিয়ে পাথর আমদানি করে বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সে কারণে পদ্মা সেতু ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে পাথর সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে করে চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে বলেও জানান তারা। ভারতীয় রফতানিকারকদের খেয়াল খুশিমতো পাথরের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে কয়েক মাস ধরেই বৈঠকের পর বৈঠক করেছেন দেশীয় আমদানিকারকরা। গত ৫ ডিসেম্বর ভারতের মহদীপুর এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে বৈঠকে বসেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। তার তিন দিন পর অর্থাৎ গত ৮ ডিসেম্বর সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি ও রফতানিকারক গ্রæপের প্রধান কার্যালয়ে আবারো বৈঠকে বসেন দেশী আমদানিকারকরা। বৈঠকে পাথর আমদানি বিষয়ে ভারতীয় রফতানিকারকদের সৃষ্ট বিভিন্ন জটিলতা নিরসন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে কয়েকটি সিদ্ধান্ত ও প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়, সর্বশেষ গত ৩০ জানুয়ারী শনিবার পাথর আমদানি বন্ধের কথা জানিয়ে ভারতের মহদীপুর এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি দেয়া হয়। চিঠিতে ভারতীয় রফতানিকারকদের বিভিন্ন অযৌক্তিক খরচের হিসাব ছাড়াও পাথরের মান ও দফায় দফায় মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদ জানানো হয়। চিঠিতে আরও বলা হয়, ভারতীয় রফতানিকারকদের কারণে বাংলাদেশী আমদানিকারকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। এ ঘটনার সুরাহা না হলে শনিবার থেকে পাথর আমদানি স্থগিত করা হবে। এদিকে চিঠির সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় ৪ ফেব্রুয়ারী সোনামসজিদ আমদানিকারক গ্রুপের কার্যালয়ে পাথর আমদানীকারকদের আবারো এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ভারতের পক্ষ থেকে কোন রকম সহযোগীতা না পাওয়ায় সর্বসম্মতিক্রমে ৬/০২/২০১৬ইং তারিখ শনিবার থেকে সমসার সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত সকল প্রকার পাথর আমদানী থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন বলে জানান সোনামসজিদ আমদানি ও রফতানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবু তালেব। এমন সিদ্ধান্ত সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানি ও রফতানিকারক গ্রুপ, শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (কাষ্টমস), সোনামসজিদ স্থল বন্দর, সভাপতি, মালদা মার্চেন্টস্ চেম্বার অব কমার্স, মালদা, ভারত, সহকারী পরিচালক, বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষ, পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেড কর্তৃপক্ষ, সোনামসজিদ স্থল শুল্ক বন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশন, সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক, মহদীপুর সিএন্ডএফ এজেন্ট ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন, মহদীপুর, মালদা, ভারত কে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেয় বলেও জানান মোঃ আবু তালেব। তবে বাংলাদেশী আমদানিকারকদের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ভারতের মহদীপুর স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি শ্রী ভূপতি মন্ডল। চাঁপাই দর্পনকে তিনি বলেন, ‘এসব আসলে কোনো সমস্যা না। মূল সমস্যা হচ্ছে বাংলাদেশী আমদানিকারকরা লোড গাড়ি নিতে পারছেন না। যে কারণে এ পারেও (মহদীপুরে) যানজটসহ কিছু সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে তা সাময়িক।’ তিনি আরো জানান, চাহিদা থাকলে পণ্যের দাম বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। সোনামসজিদ স্থলবন্দর শুল্ক বিভাগের সহকারী কমিশনার সাঈদ আহমেদ রুবেল জানান, ভারতীয় রফতানিকারকদের পাথরের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি দেশীয় আমদানিকারকরা লিখিতভাবে জানিয়েছেন। আমরা সেটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তবে এ সংকটের দ্রুত সমাধানে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন দেশীয় সরবরাহকারী, ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা। তা না হলে একদিকে দেশী আমদানিকারকদের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকি যেমন বাড়বে, তেমনি পদ্মা সেতা ও রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজে চরম বিঘ্ন ঘটনার সম্ভাবনাও রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *