Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার ও ভোলাহাট প্রতিনিধি \ জেলার ভোলাহাট উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরই কর্মকর্তা শুন্য। তাই কাক্সিক্ষত সেবা মিলছেনা সাধারণ মানুষের। দীর্ঘদিন থেকেই ভারপ্রাপ্ত, দায়িত্বপ্রাপ্ত আর অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েই জোড়াতালি দিয়ে চলছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তর। ফলে বিভিন্ন সরকারী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উপজেলার হাজার হাজার মানুষ। তথ্যে জানা গেছে, গত ২৮ ডিসেম্বর উপজেলা প্রশাসনের সর্বোচ্চ অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফিরোজ হাসান উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করার জন্য বিদেশ গমন করায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পদটি শূন্য হয়। অতিরিক্ত দায়িত্ব দেয়া হয় গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে। কিন্তু ভোলাহাটে এসে প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারেননি তিনি। এদিকে, দীর্ঘ ২৫ বছর পর উপজেলা ভূমি অফিসে একজন সহকারী কমিশনার (ভূমি) যোগদান করলেও তিনিও ক’দিন থেকেই বদলি হয়ে যান অন্যত্র। এ পদটিও শুন্য হয়ে যায়। এ পদটিরও দায়িত্বের ভার অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপর। এরপর একই অবস্থা সম্পৃক্ত বরেন্দ্র বহুমূখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের। এখানেও দীর্ঘ দিন ধরে সহকারী প্রকৌশলীর প্রধান পদটি শূন্য। এ পদটিরও দায়িত্বটিও গোমস্তাপুর উপজেলার বরেন্দ্র কর্মকর্তার উপর। এবার উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা পদটি শূন্য। দীর্ঘদিন থেকে দায়িত্ব পালন করছেন নিজের ইচ্ছেমত শিবগঞ্জ উপজেলার হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা। উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তার পদটি কখন থেকে শূন্য রয়েছে, তা সংশ্লিষ্ট অফিসের কর্মচারীরাই বলতে পারেন না। এ পদের দায়িত্বেও রয়েছেন শিবগঞ্জ উপজেলার কর্মকর্তা। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পদটি প্রায় দেড়যুগ ধরে শূন্য। দীর্ঘদিন এর ভার কাঁধে নিয়ে চলে আসছেন সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা। উপজেলা প্রকৌশলী পদটি শূন্য হয় গত ২৮ ডিসেম্বর। এর দায়িত্বও পালন করছেন গোমস্তাপুর উপজেলা প্রকৌশলী। এছাড়া প্রানি সম্পদ কর্মকর্তার শূন্য পদের দায়িত্বেও গোমস্তাপুর উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা। অন্যদিকে, গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতেও স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তার পদ শূন্য। কোনভাবে জোড়াতালি দিয়ে দায়িত্বরত এমবিবিএস চিকিৎসকেরা চালিয়ে নিচ্ছেন। এবারে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, এটিও পদ শূন্য। এ পদের দায়িত্ব পালন করছেন গোমস্তাপুর উপজেলার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার পদটিও শূন্য। শিবগঞ্জ উপজেলার কর্মকর্তা দিয়ে চলছে ভোলাহাটের এ বিভাগের কাজ। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার পদটিও শূন্য। চলছে শিবগঞ্জ উপজেলার কর্মকর্তা দিয়ে। অপরদিকে উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তার পদটিও শূন্য। ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে এর কাজ। সব মিলিয়ে প্রায় সকল উপজেলা কর্মকর্তার পদই শুন্য ধরা যায়। যেদিকেই ফিরে দেখেন, শুন্য আর শুন্য পদ। এভাবে আর কতদিন চলবে ভোলাহাট উপজেলা। পদগুলো কি পুরণ হবে? এমনই প্রশ্ন অবহেলিত উপজেলার অভিজ্ঞ মহলের। নিজের দপ্তরের কার্যক্রম সামলানো, তারপর ভারপ্রাপ্ত অফিসের কাজ। এমনিতেই নিজ অফিসের কাজ করেই সময় থাকেনা, আবার অন্য দপ্তর? কিন্তু উপায় নেই কোনভাবে দায়িত্ব পার করা। আর এজন্যই যেসব অফিসের কর্মকর্তা নেই, এসব অফিসের কাজের জন্য কর্মচারিদের ফাইল সই করতে যেতে হয় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে অন্য উপজেলায়। আর কখনও যদি এ সব দায়িত্বরত কর্মকর্তারা ভোলাহাটে আসেন, তবে ক’য়েক ঘন্টার জন্য দায়সেরে চলে যান। দীর্ঘদিন থেকেই ভোলাহাটের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তার পদগুলো শুন্য থাকায় উন্নয়ন কর্মকান্ডও ব্যহত হচ্ছে। এসব গুরুত্বপূর্ণ পদ জরুরী ভিত্তিতে পুরণ করে ভোলাহাট উপজেলার সুবিধা বঞ্চিত নাগরিকদের সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, এমনটায় আশা করছেন ভোলাহাটবাসি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *