Sharing is caring!

ভোলাহাটের মেয়ে ক্রিকেটার বাবলী

♦ ভোলাহাট প্রতিনিধি

ভোলাহাটের মেয়ে বাবলী এখন জাতীয় ক্রিকেট খেলোয়াড়। ডানপিটে মেয়ে বাবলী। বাবার অনুপ্রেরণায় ক্রিকেট ও ফুটবল খেলা শুরু। গ্রামের স্কুলপড়ুয়া ছোট্ট মেয়ে বাবলীর সাহস বাড়িয়ে দেন তাঁর বাবা। দুুপুরে বাড়ির সবাই যখন ঘুমিয়ে থাকত, তখন বেরিয়ে পড়তেন খেলার মাঠে। গ্রামে মেয়েদের কোন ফুটবল বা ক্রিকেট দল ছিল না। তাই বিকেলে ছেলেদের সাথে প্যান্ট সার্ট পরেই খেলতেন বাবলী। তাই গ্রামের খেলার সাথীরা তাকে ভাই বলে ডাকে। ক্লাসমেট, গ্রামের খেলার সাথীরা সবাই তার ভাই ও বন্ধু। পরিবার থেকে পুরো সহযোগিতাই পেয়েছেন। পরিবারের সবার সহযোগিতার জন্যই আজ গ্রাম অঞ্চলে জন্ম নিয়ে মহিলা প্রমিলা ক্রিকেট ক্লাবে খেলছেন বাবলী। কীভাবে এলেন ক্রিকেটে বাবলী? উত্তরে বাবলি যা বললেন, ‘আমার কানারহাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পড়ালেখা শুরু। তখন থেকেই খেলাধুলা করতাম। ২০১১ সালে কানারহাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ফুটবল খেলা তার সাথে ক্রিকেট খেলাটাও চলতো পাড়ার ছেলেদের সাথে। যেহেতু মেয়েরা ফুটবল, ক্রিকেট দল করে খেলতেন না তাই আমি ছেলেদের সাথেই খেলতাম। ২০১১ সালে প্রথম বঙ্গমাতা ফুটবল টুর্নামেন্ট ইউনিয়ন পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে রার্নাস আপ, আর স্কুল পর্যায়ে হয়েছিলাম চ্যাম্পিয়ন। ২০১২ সালে হাইস্কুলে খেলার সুযোগ তেমন ছিলনা। তার পরেও গ্রামের বন্ধুদের সাথে মাঠে খেলতাম। বাবার সাথে খেলতাম। বাবাও খেলা ভালবাসতো। বল করতেন আমাকে শিখিয়ে দিতেন, কি রকম বল আসলে কিভাবে মারতে হবে। আমার বাবা খেলার জন্য আমাকে অনেক উৎসাহ দিয়েছেন। মা তেমন কিছু বলতো না, তবে দুপুর বেলা না ঘুমিয়ে খেলতে চলে যাওয়ায় জন্য বকা দিতেন। ২০১২ সালে বি.কে.এস.পিতে চলে গেলাম। ট্রায়াল দিলাম কিন্ত সুযোগ পেলামনা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় প্রশিক্ষণ নিয়ে ২০১৩ সালে আবার বি.কে.এস.পিতে ট্রায়াল দেওয়ার পরে টিকে গেলাম। কিন্তু চিরকুটে নাম আসলো না। এসএসসিতে ভালো রেজাল্ট করতে হবে বলে প্রাকটিস ২ বছর বন্ধ করতে হয়। একদমই খেলা বন্ধ করিনি। পড়ার ফাঁকে ফাঁকে বাড়িতে ক্রিকেট খেলা দেখতাম। আঙ্গিনায় খেলতাম। লেখাপড়ার পাশাপাশি এইভাবে চলতে থাকে খেলা। ২০১৭ সালে বজরেটেক সবজা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ+ পেয়ে এসএসসি পাশ করি। উচ্চ শিক্ষার জন্য রাজশাহী চলে যায়। লেখাপড়ার পাশাপাশি ক্রিকেট কোচ মিজানুর রহমান মিলন ভায়ের কাছ থেকে আরো ভালো ভাবে ক্রিকেট প্রশিক্ষণ নিতে লাগলাম। ২০১৮ সালে (১ম বিভাগ মহিলালীগ) ঢাকা প্রমিলা ক্রিকেট ক্লাবে চান্স পেয়ে গেলাম। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলা প্রত্যন্ত অঞ্চল বজরাটেক শাহপাড়া গ্রামে ২০০১ সালের ১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন প্রমিলা ক্রিকেটার বাবলী। গ্রামে সায়নি নামে পরিচিত। বাবা ভোলাহাট সাইফুন্নেসা ক্লিনিকে চাকরিজীবি বজলুর রহমান শাহ্ ও মা গৃহিণী দিলারা আফরোজ এর তিন সন্তানের মধ্যে বাবলী মেজ। মেজ মেয়ে বাবলী এখন বাংলাদেশ প্রমিলা নারী ক্রিকেটার। তিনি ডানহাতি অপেনার ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলে থাকেন, ফিল্ডিং করেন বাউন্ডারিতে। এখন তিনি বাংলাদেশ প্রমিলা ক্রিকেট ক্লাব থেকে খেলছেন। তিনি কুস্তিতেও পারদর্শী। রাজশাহী বিভাগীয় (স্থানীয়) কুস্তি প্রতিযোগীতা ২০১৮-২০১৯ পেয়েছেন স্বর্ণ পদক। বজলুর রহমান শাহ্ ও মা গৃহিণী দিলারা আফরোজ বলেন, যতই ঝড় আসুক, তার মেয়ে বাবলীকে জাতীয় মানের ক্রিকেটার হতে যা করা লাগবে, তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে। তারা বলেন, বাবলী একদিন জাতীয় ক্রিকেটার হয়ে ভোলাহাট ও জাতির মুখ উজ্জ্বল করবে এমন প্রত্যাশা করেন। বর্তমানে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ৫ম সেমিস্টারে পড়ছেন। দেশের জন্য খেলতে পারাটা আসলেই অনেক সম্মানের।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *