Sharing is caring!

ভোলাহাট সংবাদদাতা \ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার মন্জুর আহমদ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে নিয়োগ নিয়ে ৩০ বছর ধরে চাকুরী করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে জানা গেছে, বর্তমান বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ ১৯৮৬ সালে স্নাতক ডিগ্রী পরীক্ষায় পাশ না করে স্কুল কর্তৃপক্ষকে এ্যাপিয়ার দিয়ে নিয়োগ নেন। কিন্তু ১৯৮৬ সালে পরীক্ষায় ফেল করেও আবার ১৯৮৭ সালে পরীক্ষা দেন। কিন্তু এ বছরেও তিনি ফেল করেন। এ দিকে ১৯৮৮ সালেই স্কুলটি এমপিও ভূক্ত হলে শিক্ষক নিয়োগের অযোগ্য আবুল কালাম আজাদ শিক্ষক নিয়োগের সঠিক নিয়ম দেখিয়ে সরকারী নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে সরকারী বেতন ভাতা ভোগের মাধ্যমে অর্থ লোপাট করার সুযোগ নিয়ে বসেন। শিক্ষক আজাদ এ্যাপিয়ার দিয়ে নিয়োগের ২ বছর ১৯৮৮ সালে স্নাতক ডিগ্রী পাশ করেন। কিন্তু তিনি নিয়মিত সরকারী সুযোগ সুবিধা ভোগ করলেও অনিয়মিত শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট নিয়োগ সংক্রান্ত ক্ষেত্রে দেয়ার কথা থাকলেও তা নিয়মিতই দেখানো হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে ১৯৮৮ হতে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত তিনি সরকারী বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ সুবিধা সরকারী বিধি দেখিয়ে অবৈধভাবে ভোগ করেছেন এবং তার সার্টিফিকেট অনুযায়ী সহকারী শিক্ষক পদ থাকছে না। কিন্তু তারপরও তাকে ২০১৩ সালে এ স্কুলে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের এ নিয়োগও নিয়মতান্ত্রীক ভাবে অবৈধ বলে অভিযোগ উঠেছে। এ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বর্তমানেও নানা অনিয়মের অভিযোগে এলাকাবাসি অতিষ্ঠ বলে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও স্কুল সভাপতি বাবর আলী বিশ্বাস জানান। তিনি বলেন, আমার সময় প্রধান শিক্ষক নিয়োগ হলেও তিনি অভিযোগের এতো বেশী কিছু জানেন না। তবে বর্তমানে তিনি ২ নম্বরি করছে এবং এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক ডিগ্রী ৩য় বিভাগে পাশ করেন তার বিরুদ্ধে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে তার প্রতিকারের দাবী জানান তিনি। এ ঘটনায় ঐ এলাকার ফারুক বিশ্বাস জানান, এক সময় অভিযোগ করা হয়েছিলো তবে সে বিষয়ে তদন্ত হয়ে বিষয়টি নিস্পত্তি হয়ে গেছে বলে জানান। এ ঘটনায় বর্তমান বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আতাউর রহমান বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন এবং এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে ইউএনও বরাবর অভিযোগ করা হলে রহস্যজনক কারণে তদন্ত প্রক্রিয়া আলোর মুখ দেখেনি। তবে এ ঘটনার দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানান তিনি সংশ্লিষ্টদের কাছে। এ ঘটনায় স্কুল প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ জানান, ১৯৮৮ সালে স্কুলটি এমপিও ভূক্ত হয় এবং তিনি নিম্ন মাধ্যমিক পদে ৮৭ সালে জুনিয়ার শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তবে তার বিরুদ্ধে এ ধরণের ঘটনায় জড়িয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার ও তৎকালিন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ করা হলে তার পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হয় বলে দাবী করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *