Sharing is caring!

Photo-Mohanondaভোলাহাট প্রতিনিধি \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটের একমাত্র নদী ‘মহানন্দা’ কালের বিবর্তনে তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। নদীটি দিন দিন সরকারের সুদৃষ্টি না দেয়ায় আর অবহেলায় তার সৌন্দর্য্য বৃদ্ধি না করে ছোট্ট খালে-বিলে পরিণত হয়েছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা মহানন্দা নদীর বাম তীর রক্ষা বাঁধের অবস্থা বেহাল। জরুরীভাবে সংস্কার প্রয়োজন। অন্যথায় এলাকার সীমাহীন ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে। এক সময় ছিলো, যে মহানন্দা নদী না থাকলে স্থানীয় জনগণ ব্যবসা-বাণিজ্য, আত্মীয়-স্বজনের বাড়ী হোক নতুবা চাকুরীর ক্ষেত্রে যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন ছিলো এ মহানন্দা নদী। ঐতিহাসিকদের মতে, এ নদী পথে পাল, গৌড়, মোগলদের বাণিজ্য ও যাতায়াতের একমাত্র পথ ছিলো মহানন্দা নদী। কালের বিবর্তনে এর নাব্যতা হারিয়ে খালে-বিলে পরিণত হয়েছে। দেখা গেছে, ভোলাহাট উপজেলায় যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে এর যাতায়াতের ক্ষেত্রে ব্যবহার না থাকলেও এ নদীর বড়-ছোট সব ধরণের মাছ দেশের আনাচে-কানাচে প্রসিদ্ধ ছিলো। এখনো জেলেরা তাদের জীবিকার তাগিদে এ নদীতে জাল ফেললে তারা দু’চারটি পুরানা মাছ, টেংরা-পুটি, বৈল, ভেদা, আইড়, ঘাড়–য়া, ইলিশ তাদের জালে ধরে বাজারে বিক্রি করতে আসে। সর্বোপরি মহানন্দা নদীর প্রতি সরকারের সুদৃষ্টি পড়লে অবশ্যই এর পুর্বের অবস্থা ফিরে না আসলেও কিছুটা হলেও জনসাধারণের ব্যবহারের কাজে এসে লাখ লাখ গরীব-দু:খী মানুষেরা নানা বিষয়ে উপকৃত হবে বলে অভিজ্ঞমহলের মতামত। বর্তমান এ মহানন্দা নদী মরা খালে পরিণত হলেও এর বামতীর র¶া বাঁধটি স¤প্রতি সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে স্থানীয় জনগণের চলাচল সহ নানা কাজে সহায়ক হিসেবে কাজ করলেও তা এখন ভেস্তে যেতে বসেছে। মহানন্দা নদীর বামতীরটি উপজেলার দলদলী ইউনিয়নের পোল্লাডাঙ্গা গ্রামের ঘোড়াদৌড় হতে পুরাতন হাজিপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৩’শ গজ বাঁধ ভেঙ্গে নদীতে মিশে গেছে। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে ঐ দু’টি গ্রামের হাজার হাজার জনসাধারণ নদীগর্ভে ভেসে যাবে বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন। মহানন্দা নদীর এ ৩’শ গজ বাঁধটি ভাঙ্গন রোধে অতীব জন গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষএমনটায় আশা এলাকার অভিজ্ঞমহলের।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *