Sharing is caring!

ভোলাহাটে জঙ্গী পরিবারকে বাঁচাতে মাঠে আওয়ামীলীগ ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান

♦ স্টাফ রিপোর্টার

‘ভোলাহাটে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়ম ॥ প্রকৃত অসহায়রা বঞ্চিত ॥ পেয়েছে জঙ্গির পরিবারও বাড়ি’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর জঙ্গী সারোয়ারের পরিবারকে বাঁচাতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, আওয়ামীলীগের বেশ কিছু নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানও। স্বাধীনতার মাসে ১৫ মার্চ ‘দৈনিক চাঁপাই দর্পণ’সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে ভোলাহাটে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ প্রকল্পে অনিয়মের সাথে জড়িত ভোলাহাট উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক মো. রাব্বুল হোসেন, অন্যান্য সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় সাংবাদিক ভোলাহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মো. গোলাম কবিরসহ জড়িতরা। ঘটনা মিডিয়ায় প্রকাশের পর জঙ্গী সারোয়ারের ভাই এর বরাদ্দকৃত বাড়ি তালিকা থেকে বাতিল না করে, উল্টো হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় অন্যতম মাস্টার মাইন্ড ও অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষক জঙ্গি সারোয়ারের বড় ভাই মনিরুলের পক্ষে স্থানীয় মানুষকে ভুল বুঝিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করে এই স্বার্থান্বেসীরা।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার মেডিকেল মোড়ে অনুষ্ঠিত সমাবেশে নিজেদের দোষ ঢাকতে তথ্যদাতাদের বিরুদ্ধে নানা অসংলগ্ন কথা বলেন এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদকে ভিন্নখাতে প্রবাহের চেষ্টা করে ‘সরকারের উন্নয়ন কাজে’ বাধা দানের মিথ্যা তথ্য দিয়ে কথা বলেন। সংবাদে সরকারের উন্নয়ন কাজ নিয়ে কোন ভিন্নমত বা বিরোধী কোন তথ্য দেননি সচেতন মহল ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও যুবলীগ নেতা এবং স্থানীয়রা। অনিয়মগুলো চিহ্নিত করেছেন মাত্র, যেন প্রশাসন বিষয়টির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করেন। অন্যদিকে, ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে ‘হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনাকারী সারোয়ার জাহানের ভাই মনিরুলকে বাড়ি প্রদানের বিষয়ে আগেই অভিযোগ করে স্থানীয়রা। প্রেক্ষিতে,উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জঙ্গি সারোয়ার জাহানের পরিবারের লোক ও জমি থাকা নিয়ে একটি অভিযোগ হলেও শুধুমাত্র ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, চেয়ারম্যান এবং স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের সুপারিশে পরিবারটিকে বাড়ি দিয়েছেন।

প্রকৃতপক্ষে জঙ্গী পরিবারকে বাড়ি দেয়া এবং কিছু পরিবারকে বাড়ি থাকার পরও প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ি দেয়ার বিষয়ে ভোলাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরাসরি দোষী নয়। তাঁকে স্থানীয় স্বার্থান্বেষী মহল ভুল তথ্য সরবরাহ করে বাড়িগুলো বরাদ্দ করিয়েছেন বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান জানিয়েছিলেন। গণমাধ্যমকর্মীরা ও প্রতিবেদক জানান, এছাড়াও বাড়ি পাওয়ার পরও বাড়িতে বাস করছেনা, তাহলে অবশ্যই তাদের আগের বাড়ি রয়েছে। যার বাড়ি নেই, সেইতো বাড়ি পাওয়ার কথা। কিন্তু সরজমিনে বাড়িতে বাস না করে ফাঁকা পাওয়া যায়। আর ফাকা বাড়ি পেয়ে সেখানে মাদকের আড্ডা হওয়ার কথা জানান স্থানীয়রা। এখানে সরকারের উন্নয়ন কাজ নিয়ে কোন সমালোচনা করা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে প্রকল্পের ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দেয়ার জন্য স্থানীয়রা গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়গুলো জানিয়েছেন এবং আওয়ামীলীগ নেতাও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রভাষক রাব্বুল হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান গরিবুল্লাহ দবির, ইউপি চেয়ারম্যান ইয়াজদানী জর্জ, আব্দুল কাদের, আরজেদ আলী ভুটু, মসফিকুল ইসলাম, ভোলাহাট প্রেসক্লাব সভাপতি গোলাম কবির, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা কামরুজ্জামান সরদার, সমবায় কর্মকর্তা আব্দুল হালিম, ইউপি সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন ভুটু, শওকাত হোসেন লিটন, হাবিবুর রহমান লিটনসহ অন্যরা। উল্লেখ্য, ভোলাহাটে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ন প্রকল্পে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত অসহায় ও ভূমিহীন পরিবারগুলো বঞ্চিত হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রীর এই বাড়ি উপহার হিসেবে পেয়েছেন হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় অন্যতম মাস্টার মাইন্ড ও অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষক জঙ্গি সারোয়ারের বড় ভাই মনিরুল। জেনে শুনেও এই জঙ্গীর পরিবার ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের উপহার’ পাওয়ায় ক্ষুদ্ধ স্থানীয় আওয়ামীলীগ, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল। বাড়ি নিয়ে বসবাস না করে, সেখানে গবাদী পশু পালন ও সুযোগ পেয়ে মাদকসেবীদের আস্তানা গড়ে উঠেছে সেখানে। নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে এলাকায় এমন ঘটনায়। তবে, উপজেলা প্রশাসনের দাবী, ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দের সুপারিশেই পরিবারটিকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেয়া হয়েছে মর্মে স্থানীয় ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *