Sharing is caring!

Raped-2ভোলাহাট প্রতিনিধি \ জেলার ভোলাহাটে পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ২ সন্তানের জননী তানজিলা। ধর্ষণের পর হাতের আঙ্গুল কেটে নেয় ধর্ষকরা \ এঘটনায় হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে নি:স্ব-অসহায় তানজিলা। যেনো দেখার কেউ নেই। থানায় অভিযোগ করেও বিচারের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হাসপাতাল ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জামবাড়ীয়া ইউনিয়নের স্বামীর ঘরে বসবাসরত তানজিলা (৩০) স্বামী তাঁকে ফেলে অন্যত্র বিয়ে করায় তানজিলা রুজির তাগিদে তাদেরই এলাকার বাজারে রুটি তৈরী করে জীবন-যাপন করে আসছিলো। এরই মধ্যে বিভিন্ন অজুহাতে উপজেলার ফতেপুর-খাসপাড়া গ্রামের মৃত আইনাল ভোতার ছেলে আব্দুর রহিম (৪০) তানজিলাকে নানা কৌশলে ম্যানেজ করে টাকা-পয়শা হাওলাত নেয়া অব্যাহত রাখে ও এক সময় হাওলাদি টাকার পরিমান দাড়ায় ৪৫ হাজারে। তানজিলা তার পাওনা ৪৫ হাজার টাকার জন্য রহিমকে বার বার চাওয়া সত্বেও টাকা ফিরিয়ে দেয় না। প্রেক্ষিতে গত ৬ ডিসেম্বর ২০১৫ ইং তারিখে টাকা দেয়ার নাম করে প্রতারক-লম্পট আব্দুর রহিম কৌশলে বিলভাতিয়া বিলের সোনাজল নামক স্থানে জনাকীর্ন ফাঁকা জায়গায় টাকা দেয়ার নাম করে ডেকে তানজিলাকে জোরপুর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণ শেষে রহিম ধারালো হাসুয়া দিয়ে তানজিলাকে হত্যা করার জন্য উদ্দ্যেত হলে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ধর্ষিতার ডান হাতের বুড়া আঙ্গুল হাসুয়ার কোপে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে তানজিলা যন্ত্রনায় চিৎকার দিলে বিলের লোকজন জমায়েত হয়। পরে স্থানীয়রা তারজিলাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার জন্য রহিমকে বলে। রহিমের ট্রলিতে হাসপাতালে নেয়ার পথে ফোনে রহিমের ৩ বোন-রুমেলা, কমেলা ও জুমেলাসহ তার সহোদর ভাই করিমকে ডেকে এলোপাথারী ভাবে তানজিলাকে মেরে ফেলার জন্য নির্যাতন করে বলে অভিযোগে প্রমাণ। উল্লেখ্য, আব্দুর রহিম এতেও ক্ষান্ত না হয়ে গত ২১ডিসেম্বর দিবাগত রাত প্রায় ১২টায় তার দলবলসহ তানজিলার বসবাসরত ঘরবাড়ী ভাংচুর করে ঘরে থাকা প্রায় ৭/৮ হাজার টাকা মুল্যের মালামালের ক্ষয়ক্ষতি করে। বর্তমানে তানজিলা তার হাতের আঙ্গুল কেটে ফেলায় হাতের যন্ত্রণায় হাসপাতালের বেডে কাতরাচ্ছে। যেনো দেখার কেউ নেই। দু’সন্তানের জননী তানজিলা বেগম হতে পারতো কারো বোন, কারো বা মা-খালা। এ সংসারের মায়াজালে পরে মানুষ কি এতোই নির্দয়-পাষন্ড সীমারের মত আচরণ করতে পারে? এ দুনিয়াতে নারীরা অবলা, আর এ অবলা নারীকে সহজ-সরল পেয়ে তাঁর নিকট টাকা-পয়শা নিয়ে তাঁকে নি:¯^-অসহায় করে এমনকি তাকে টাকা দেয়ার প্রলোভণে ধর্ষণ করে ক্ষ্যান্ত না হয়ে তানজিলাকে প্রাণে মেরে ফেলার চেষ্টা চালায় লম্পট রহিম ও তার ভাই-বোনেরা। কান্নাজড়িত কন্ঠে তানজিলা এ প্রতিবেদককে বলেন, ভাই হামি গরীব মানুষ। কোনমতে জোড়াতালি দিয়ে বাজারে একটি রুটির দোকান করে জীবন-যাপন করে আসছিনু। এরই মধ্যে রহিম ও তার ভাই-বোনেরা হামাকে যে অবস্থা করলো, এর কি হামি ন্যায্য বিচার পাবো না? থানায় জিডি করেছি ২ জানুয়ারী ২০১৬ ইং তারিখে, জিডি করে আর আপনাঘেরে সরনাপন্ন হয়ে হামার ন্যায্য বিচার করে দেন বলে কান্নায় ভেঙ্গে পরে। ঘটনাটির ব্যাপারে অভিযুক্ত লম্পট আব্দুর রহমানের মোবাইল-০১৭৪১-৩১৬০৪৮ নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তিনি তানজিলার পাওনা টাকা, তাঁকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ ও প্রাণে মেরে ফেলার ঘটনাটির কথা সম্পুর্ণ অস্বীকার করে। অভিযোগটি সম্পুর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তানজিলা ফাঁসানোর জন্য চেষ্টা করছে। ব্যাপারে কিছুই জানি না বলে ব্যাপারটি এড়িয়ে যান। থানায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে অফিসার ইনচার্জ মহসীন আলী বলেন, ঘটনাটি নি:সন্দেহে ন্যাক্কারজনক। তবে এ ব্যাপারে ২ জানুয়ারী ২০১৬ ইং তারিখ জিডি হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *