Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার ও ভোলাহাট প্রতিনিধি \ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার অধিকাংশ এলাকায় ভারতীয় সীমান্ত ঘেরা। উভয় দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সহাবস্থান রয়েছে এসব এলাকায়। তবে কোন কোন সময় অনাকাক্সিখত সমস্যা দেখা দেয়। কিন্তু কিছুদিন থেকেই ভোলাহাট সীমান্ত এলাকার কিছু অসাধূ ব্যক্তি অবৈধভাবে ভারতীয় অংশের মাটি কেটে ভাটায় বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছেন মোটা অংকের অর্থ। তবে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে মসজিদ ভরাটের নামে মাটিগুলো কেটে নিয়ে গিয়ে প্রতিদিনই শতাধিক ট্রলি মাটি বিভিন্ন ইট ভাটায় বিক্রি করছে এলাকার অসাধূ মাটি ব্যবসায়ীরা। তবে এঘটনা নিয়ে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ এর সাথে যে কোন সময় উত্তেজনার আশংকা করছেন স্থানীয়রা। জে.কে পোল্লাডাংগা বিজিবি ক্যাম্পের আওতায় ২০১ মেইন পিলারের সাব পিলার ৬৪ ময়ামারী গ্রামের পূর্ব দিকে ভারতের অভ্যন্তর থেকে এই মাটি কেটে নিয়ে আসা হচ্ছে। তবে বিজিবি সদস্যদের পক্ষ থেকে এব্যাপারে কোন মাথাব্যথা নেই বলেও অভিযোগ স্থানীয় সচেতন মহলের। একারণে কোন বড় ধরণের সমস্যার সৃষ্টি হলে দূর্ভোগ পোহাতে হবে এলাকার মানুষদেরই। কাজেই কোন ধরণের সমস্যা সৃষ্টির আগেই বিষয়টি সরজমিন তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরী বলেও মনে করছেন স্থানীয়রা। জানা গেছে, জে.কে পোল্লাডাংগা বিজিবি ক্যাম্পের আওতায় ২০১ মেইন পিলারের সাব পিলার ৬৪ ময়ামারী গ্রামের পূর্ব দিকে ভারতের অভ্যন্তরে বিজিবি’র কিছু সদস্যের পরোক্ষ সহায়তায় এলাকার দূর্বৃত্তরা মাটি কেটে বাণিজ্য করার উৎসবে মেতে উঠেছে। ক্যাম্পের মসজিদে মাটি ভরাটের নামে ২/৩ মাস ধরে মাটি কাটার মহোৎসব চালিয়ে যাচ্ছে তারা। মাটিগুলো প্রতিদিন ৮০/৯০ ট্রলি উপজেলার বিভিন্ন ইট ভাটায় চড়া মূল্যে বিক্রয় করা হচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে আরও বলেন, এর আগে আদাতলা গ্রামের পূর্বে ২০১ মেইন পিলারের ৭০ সাব পিলারের কাছে ভারতের অভ্যন্তরেও মাটি কাটার কাজ চালিয়েছেন দূর্বৃত্তরা। ভারতের অভ্যন্তরে যেভাবে এলাকার দূর্বৃত্ত পোল্লাডাংগা নামোটোলা গ্রামের কুদ্দুসের ছেলে রফিকুল মিস্ত্রী, ময়ামারী গ্রামের সাজেদ আলীর ছেলে ফারুক ও আদাতলা গ্রামের সদর আলীর ছেলে ফজলুকে নিয়ে কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে মাটি কাটার কাজ অব্যহত রেখেছেন, তাতে উভয় দেশের মধ্যে যে কোন সময় উত্তেজনা আশংকা প্রকাশ করেছেন। সহিংস ঘটনা এড়াতে দ্রুত উর্ধ্বতন কর্তৃপ্ষর হস্ত¶েপে দূর্বৃত্তদের এবং এদের সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে অবৈধভাবে ভারতীয় মাটি কেটে ভাটায় বিক্রির সাথে জড়িত রফিকুল মিস্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ইট ভাটায় মাটি বিক্রয় করে মসজিদের খরচ চলানো হচ্ছে। একই ব্যাপারে জে.কে পোল্লাডাংগা বিজিবি ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার আলী শাহ নেওয়াজের সাথে যোগাযোগ করা হলে মসজিদের জন্য ভারতের মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে বলে সত্যতা স্বীকার করেন এবং বিষয়টি ব্যাটালিয়ন কমান্ডার অবহিত আছেন বলেও জানান তিনি। এছাড়া ভারতের বিএসএফ’র সাথে যোগাযোগের মাধ্যমেই ভারতের অভ্যন্তরের মাটি কাটা হচ্ছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *