Sharing is caring!

ভোলাহাট প্রতিনিধি \ জেলার ভোলাহাটে সরকারী নির্দেশনা ছাড়াই গরুর বীট খাটালের নামে অবৈধভাবে ব্যাপক অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, উপজেলার আশরাফুল ইসলামের চরধরমপুর বীট খাটালে প্রতিদিন আসছে হাজার হাজার গরু। গত ২৭ আগষ্ট শুরু হয় গরুর বীট খাটালেন কার্যক্রম। গেল ২৭ আগষ্ট হতে ৬ সেপ্টম্বর পর্যন্ত এই খাটালে মোট ৫ হাজার ৯৩টি গরু আসে। আর এই সব গরু  প্রতি ৪ হাজার ৫শত টাকা করে আদায় করছে এই অসাধু খাটাল মালিক। যার অর্থ আদায়ের পরিমাণ মোট ২ কোটি ২৯ লাখ ১৮ হাজার ৫শত টাকা। আর তাদের আদায়কৃত অর্থ থেকে সরকার রাস্বজ পেয়েছে মাত্র ২৫ লাখ ৪৬ হাজার ৫শত টাকা। বাঁকী টাকা বীট খাটাল মালিকেরা হরিলুট করেছে। বীট খাটালে কর্মরত নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কিছু ব্যক্তি জানান, কাষ্টমস রাজস্ব নেয় গরু প্রতি মাত্র ৫শত টাকা। আর  ২৪ ঘন্টা বীট খাটালে রেখে খাবারসহ অন্যান্য সুযোগ দেয়ার কারণে ৫০ টাকা নেয়ার কথা থাকলেও অতিরিক্ত ৩ হাজার ৯শত ৫০টাকা আদায় করছে বীট মালিকরা। সূত্রটি আরো বলেন, বীট খাটাল মালিকেরা গরুর পাইকারদের কাছ থেকে যে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে তা থানা পুলিশের নামে ১শত, বিজিবি’র নামে ৬শত টাকা দেয়া হয় বলে। এদিকে গরুর পাইকার সোনা মিয়া, সাইফুল ইসলাম, আব্দুর রহিম, সাদিকুলুল ইসলাম সাদেকসহ অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, গরু জোড়া প্রতি ৯ হাজার টাকা করে অতিরিক্ত টাকা নেয়ায় ব্যবসায় চরম ক্ষতির মূখে পড়তে হচ্ছে। এ ব্যাপারে বীট খাটাল মালিক আশরাফুল ইসলামের সাথে তার ০১৭২৬-০০৬৭৯৬ নম্বর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বীট খাটালে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় ভোলাহাট থানার অফিসার ইনর্চাজ ফাছির উদ্দীন জানান, তিনিও শুনেছেন সরকারী নিয়মের বাইরে বীট খাটালের মালিক অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। তবে তাদের কোন টাকা দেয়া হয় না বলে জানান। চরধরমপুর বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক আব্দুর রহিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বীট খাটাল থেকে বিজিবি টাকা নেয়া তো দূরের কথা এক কাপ চা পর্যন্ত খাননি তাঁরা। এদিকে ভারত থেকে অবৈধ ভাবে আসা বীট খাটালে অবস্থান করা ৪৬টি গরু ৩ সেপ্টম্বর বেলা ১১টার দিকে ৫৯ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল রাশেদ আলী সঙ্গিয় বিজিবি সদস্য নিয়ে উপস্থিত হয়ে জব্দ করেন। এদিকে ভারত থেকে অবৈধ ভাবে গরু নিয়ে আসার দায়ে ৮জনকে আটক করা হয়। পরে স্থানীয় ভোলাহাট ও গোহালবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান যথাক্রমে ৩শত টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়। বীট খাটালের নামে সরকারের শর্ত ভঙ্গ করে বিভিন্ন প্রকার অনিয়মসহ প্রকাশ্যে চলছে এক প্রকার চাঁদাবাজি। এ নিয়ে জনগণনের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *