Sharing is caring!

ঠিকমত ঔষধ না দেয়া ও অসাদাচরন

ভোলাহাট আদাতলা কমিউনিটি ক্লিনিকে নানা অনিয়ম \ অভিযোগকারীকে স্বাস্থ্য সহকারীর হুমকী

♦ স্টাফ রিপোর্টার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার আদাতলা কমিউনিটি ক্লিনিকে সঠিকভাবে ও সময়মত ওষুধ না পাওয়া, রোগীদের সাথে দূর্ব্যাবহার, স্বজনপ্রীতি, কেউ প্রতিবাদ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে যাওয়া, সরকারী ঔষধ এলাকার অসহায়-দরিদ্র রোগীদেরকে না দিয়ে আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে বিতরণসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। দিনের পর দিন ঘুরেও ওষুধ ছাড়াই ফিরে যেতে হয় সেবা নিতে আসা রোগীদের। যে কজন ঔষধ পান, সেটাও সামান্য। এমন অভিযোগ করাই সয়ং অভিযোগকারীকেই সরসারি হুমকী দিয়েছেন আদাতলা কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারী সালাউদ্দিন আহমেদ রাজু। পিঠের চামড়া তুলে নেয়াসহ নানান কথায় গালিগালাজ করা হয় অভিযোগকারী গোলাম আজমকে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। বতর্মান সরকার স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দৌড়গোড়ায় পৌছে দেয়ার লক্ষে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই অংশ হিসেবে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে মা ও শিশুসহ অসহায় দরিদ্র রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা দিতে কমিউনিটি ক্লিনিকে প্রয়োজনীয় ঔষধ ও জনবল নিয়োগ দিয়েছেন। কিন্তু কিছু অসাধু ও স্বেচ্ছাচারী কর্মকর্তা-কর্মচারীর কারণে সরকারের আসল উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। সরকারের সদিচ্ছা থাকলেও এসব কর্মচারীর কারণেই সরকারের বদনাম হচ্ছে এবং কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না এলাকার মানুষ। এমনই ঘটনা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার আদাতলা কমিউনিটি ক্লিনিকে। দিনের পর দিন ঘুরেও ওষুধ বা সেবা সঠিকভাবে পাচ্ছেন না এলাকাবাসী এমনই অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে। চিকিৎসা নিয়ে আসা এবং সেবা বা ঔষধ না পাওয়া কয়েকজন রোগী জানান, এখানকার কর্মকর্তারা ‘মানুষের চেহারা দেখ্যা ওষুধ দেয়। হারা (আমরা) গিয়ে ঠিকমতো ওষুধ পাইনা। কহে (বলে) ওষুধ নাই, পরে আসবে। ওষুধের জন্য গেলে শুধু নাই নাই করে। পরে গেলে বেশি ওষুধ দেইনা। দুটা/একটা ট্যাবলেট ধরিয়ে দিয়ে কহে (বলে) আর হবেনা।’ এমনই একজন স্থানীয় গোলাম আজম ১১ জানুয়ারি শনিবার সকালে শিশুপুত্রের জন্য ওষুধ নিতে আদাতলা কমিউনিটি ক্লিনিকে যান। সেখানে গিয়ে কর্তব্যরত চিকিৎসকের দেখা পাননি। কর্তব্যরত নার্স সালমার কাছে শিশুর সর্দি-জ্বরের ওষুধ চাইলে আজ ওষুধ দেয়া হবেনা বলে ফিরিয়ে দেয়া হয়। পরে কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বাসায় নাস্তা করছেন বলে জানান। কিছুক্ষণ পর আবার কল করলে গোলাম আজমকে ‘আমি তোমার চাকর নাকি, যে চাইবে আর ওষুধ দিব’ রুক্ষস্বরে এমনটা জবাব দেন। গোলাম আজম বলেন, ‘আমি আমার সন্তানকে সর্দি ও জ্বরের ওষুধ নেয়ার জন্য গেলে ওষুধ না দিয়ে ফেরৎ দেয়। এমনকি অসৌজন্যমমূলক আচরণ করে। ইনচার্জকে ফোন দিলে সে ডিউটি অবস্থায় বাসায় আছি, বলে পরে দেখা করতে বলেন। পরে যোগাযোগ করা হলে বলে ‘তোমার আমি চাকর না’ বলে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে বলেন, আমাদের যাকে ইচ্ছে ঔষুধ দিব, যাকে ইচ্ছে দিব না, বলে চলে যেতে বলে।’ এদিকে, ওষুধ না পাওয়ায় কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন অনেকে। প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে। আব্দুল হালিম নামের স্থানীয় একজন বলেন, ‘অনেকদিন আগে গিয়েছিলাম সেবা নিতে। বলে ওষুধ নাই। সামনে সপ্তাহে আসিও। আবার তারা খারাপ ব্যবহার করে। তাই আর যায়না।’ অভিযোগ উঠেছে, সরকারি ওষুধ নিজেদের কাছে রেখে পরিবার আত্মীয়-স্বজন মাঝে বিতরণ করে। এছাড়া সেখানে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরকারি ওষুধ কারসাজি হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। এবিষয়ে নার্স সালমা বেগম বলেন, খারাপ ব্যবহার করা হয়নি। সবাইকে ওষুধ দেয়া হয়। দশ দিনের কাজে একদিন এরকম হতেই পারে। আমরা এ প্লাস ক্যাপসুলের দিনে ওষুধ দিইনা। এদিনে ওষুধ না দেয়ার জন্য কোনো নির্দেশনা আছে, কিনা নাকি নিজেদের ইচ্ছাতেই ওষুধ দেয়া বন্ধ থাকে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না কোনো নির্দেশনা নেই। এদিনে এমনিতেই ঔষধ দেয়া হয় না।’ এদিকে এসব কথা গণমাধ্যমের কাছে বলায় স্বাস্থ্য সহকারী সালাউদ্দিন আহমেদ রাজু গোলাম আজমকে সামনা সামনি সরসারি হুমকী দিয়ে বলেছেন, ‘তুমি এসব করে বেড়াচ্ছ, তোমার পিঠের চামড়া থাকবে না, তোমাকে দেখে নেয়া হবে’। বিষয়টি মিডিয়ার কর্মীদের আবারও অবহিত করেন গোলাম আজম। এব্যাপারে আদাতলা কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্য সহকারী সালাউদ্দিন আহমেদ রাজু এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ওষুধ ঠিকমতো দেয়া হয়। এরকম বিশেষ দিনে ওষুধ না দেয়ার কোনো বিধান নেই। তবুও কেন রোগীকে ফিরিয়ে দেয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ফিল্ডে ডিউটিতে ছিলাম। সবাই ব্যস্ত সেজন্য হয়ত এরকমটা হতে পারে। সরকারের এমন মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সঠিকভাবে কাজ করবেন না বা গুরুত্বের সাথে কাজ করবেন না। যাঁদের অর্থে সরকারী কর্মচারীদের বেতন-ভাতা হয়, তাদের সাথেই দূর্বাবহার করে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে, এমন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এমনটায় আশা করছেন ভূক্তভোগী এলাকাবাসী।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *