Sharing is caring!

ভোলাহাট প্রতিনিধি \ অবশেষে ৪৬ বছর পর বিজয়ের মাসে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পিলারে লেখা পাকিস্তানের না তুলে নিয়ে বাংলাদেশের নাম বসালো বিজিবির ৫৯ ব্যাটালিয়ন। বুধবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট-ভারত সীমান্তে ১২টি পিলারে বাংলাদেশ সম্মুখে পাক লেখা ছিলো ৪৬ বছর ধরে। দীর্ঘদিন পর স্বাধীনতা বিরোধী অপশক্তি পাকিস্তানের নাম বাংলার বুক থেকে উঠেছে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ৫৯ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল রাশেদ আলী দায়িত্ব নেয়ার পর পিলারে পাক নামটি লেখা দেখে হেড কোয়াটারে নামটি মুছে ফেলার উদ্যোগ নেন। তিনি উদ্যোগ গ্রহণ করায় অনুমোদন সাপেক্ষে ভারত সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ’র উচ্চ পর্যায়ের কমান্ডেন্টের সাথে যোগাযোগ করেন। ফলে উভয় দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর উপস্থিতিতে চাঁনশিকারী বিজিবি ক্যাম্পের আওতায় ১৯৮ মেইন পিলারের ২,৩ ও ৪ এস, ১৯৯ মেইন পিলারের ২, ৪ ও ৬ এস, চামুশাসা বিজিবি’র আওতায় ১৯৬ মেইন পিলারের ৪ ও ৬ এস, গিলাবাড়ী বিজিবি’র আওতায় ২০০ মেইন পিলারের ১, ২ ও ৪ এস এবং ২০১ মেইন পিলারের ১ এস পিলারে পাক প্লেটটি তুলে ফেলে বাংলাদেশের বাংলা প্লেট লাগানো হয়। এ সময় ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল রাশেদ আলী উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও চাঁনশিকারী বিজিবি কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার শাহ আলম, পোল্লাডাংগা কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার আলি নেওয়াজ, গিলাবাড়ী বিজিবি ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার আনোয়ার হোসেনসহ অন্যান্য বিজিবি জোয়ানেরা উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে ভারত থেকে উপস্থিত ছিলেন, বিএসএফ এর কুমারপুর বিএসএফ ক্যাম্পের এসআইজি কেরাকাটা, এএসআই বিরেন্দ্র সিং ও আইনটি হাবিলদার অর বিন্দু কুমার। বিজয়ের এ মাসে দেরিতে হলেও পাকিস্তানের নাম পিলার থেকে তুলে ফেলার জন্য উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের কমান্ডার আলহাজ্ব নুরুল হক বিজিবিকে অবিনন্দন জানিয়েছেন। এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের যুগ্ম আহবায়ক গোলাম কবির ও এ উদ্যোগের প্রসংশা করে বিজিবি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। বিজিবি’র ৫৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল রাশেদ আলী জানান, সীমান্ত পিলারগুলোতে পাক লেখা দেখে তাদের হেড কোয়াটারে যোগাযোগ করা হলে পূর্ব থেকে বিষয়টি অনুমোদন করা ছিলো। পরে বাস্তবায়ন করার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করে বিএসএফ এর হাই কমান্ডের সাথে যোগাযোগ করেন। পরে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বিএসএফ এর হাই কমান্ড কর্তৃপক্ষের সমর্থন পেয়ে উভয় দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর উপস্থিতিতে পাক তুলে দিয়ে বাংলা স্থাপন করা হলো।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *