Sharing is caring!

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আশায় সহিংস

কৌশল বিএনপি-জামায়াতের

সারাদেশে একের পর এক আওয়ামী লীগ অফিসে বিএনপি-জামায়াতের হামলা, ভাঙচূর, বোমা হামলা, কর্মী হত্যার মাধ্যমে কোন পথে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন! এ নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কোনো কোনো রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মতে নির্বাচনের একদিন আগেই নির্বাচন বর্জন করতে পারে ঐক্যফ্রন্ট তথা বিএনপি-জামায়াত।

বিষয়টিকে বিএনপির রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন কিছু কিছু বিশ্লেষক। ১০ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া দলটি নিজেদের গুছিয়ে নিতে নির্বাচনে অংশগ্রহণকেই উপযুক্ত মাধ্যম হিসেবে মনে করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
নির্বাচনের আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন। নির্বাচনী পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এরই মাঝে ব্যাপক সহিংসতা চালিয়েছে দলটি। সহিংসতাকে চূড়ান্ত রূপ দিতে বিএনপি-জামাতের সহিংসতার টার্গেট হয়েছে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়। সর্বশেষ এই হামলার শিকার হয়েছেন ঠাকুরগাঁও জেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের সিংগিয়া শাহাপাড়া গ্রামের হিন্দু সম্প্রদায়। সাজানো হামলা, দলীয় অন্ত:কোন্দলকে সরকারী প্ররোচনা বলে নানাভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করে আসছে দলটি। নির্বাচনী পরিবেশ নেই, এটি বিদেশী পর্যবেক্ষককে বোঝাতে পুরো ঢাকা শহরে ধানের শীষের কোনো পোস্টার লাগায়নি দলটি।

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে এ পর্যন্ত প্রায় ২০ জনের মতো আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়াও গত এক সপ্তাহে সারাদেশে সহিংস তাণ্ডব চালায় বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা। যেমন- বিকল্পধারার যুগ্ম-মহাসচিব এবং মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে মহাজোটের নৌকা মার্কার প্রার্থী মাহী বি চৌধুরীর বাসভবন লক্ষ্য করে গুলি করে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা। এতে বাসার জানালার কাঁচ ভেঙে যায়। আটপাড়া গ্রামে আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন কার্যালয় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এরা। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অফিসে বোমা হামলার ঘটনা ঘটায় জামায়াত শিবিরের কর্মীরা। বোমা হামলায় রিপন নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী আহত হয়। ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চোরকোল বাজারে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী অফিসে গত বুধবার সন্ধ্যার পর দুর্বৃত্তরা বোমা হামলা চালায়। তারা অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। চেয়ার টেবিল ভাংচুর করে। সেখানে উপস্থিত ৮ থেকে ১০ জন কর্মীকে মারধর করে। ৩০টি হাতবোমা উদ্ধার করে পুলিশ। মাগুরার শালিখা উপজেলায় আওয়ামী লীগের নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, বোমা বিস্ফোরণ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটায় বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা। উপজেলার সীমাখালি বাজারের ওই কার্যালয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যার এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের তিন কর্মী আহত হয়। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে দশটার দিকে ঢাকা-১৫ আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কামাল মজুমদারের প্রচার কেন্দ্রে হামলা চালায় বিএনপি জামায়াতের কর্মীরা। মিরপুরের ৬০ ফিট সড়ক সংলগ্ন মোল্লাপাড়ার প্রচারকেন্দ্রে এই হামলায় গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। হামলায় একজন গুরুতর আহত হলেও কেউ গুলিবিদ্ধ হয়নি। এই তথ্য নিশ্চিত করেন মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাদন ফকির। ঢাকা-১৫ আর ঢাকা-১৬ আসনেও এমন ঘটনা ঘটে। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের করে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা। গত সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মাটিকাটা বাস স্ট্যান্ডে অবস্থিত পার্টি অফিসে এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। গত শনিবার ও রবিবার কক্সবাজারের চকরিয়ায় পৃথক দুটি আওয়ামী লীগের অফিসে হামলা, ভাংচুর, গুলি ও পাঁচজন আহত হয়। হোমনায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী সেলিমা আহমাদ মেরীর নির্বাচনী অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়।

নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগেই বিএনপি-জামায়াতের এসব সহিংসতাকে বিএনপির নির্বাচন বর্জনের কৌশল হিসেবে দেখেছেন বিশ্লেষকরা। নির্বাচন বর্জন করে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আশায় দলকে গুছিয়ে নিয়ে আবার সরকার পতনের ডাক দিতে পারে দলটি। তবে বিশ্লেষকরা এটিও মনে করিয়ে দিন যে, নির্বাচনের তিন দিন আগে থেকে শুরু করে নির্বাচন বর্জনের এক সপ্তাহ পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের সহিংসতা ২০১৪ সালের নির্বাচনের সহিংসতাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *