Sharing is caring!

মহাজোট ২৪৮টি আসনে জয়ী হবে :

আরডিসির নতুন জরিপ

পৌষের শীতে দেশে বিরাজ করছে নির্বাচনী উত্তাপ। বাসা বাড়ির উঠান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার চায়ের দোকানে ওঠছে নির্বাচন নিয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ঝড়। দেশের এই নির্বাচনের ঝড় প্রভাব ফেলেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। দেশি-বিদেশি অনেক সংবাদ মাধ্যম বলছেন যে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (আরডিসি) এর এক প্রতিবেদনে বলেছে, ভোটের মাসের শুরুতে ৯ থেকে ১৬ ডিসেম্বর দেশের ৫১টি সংসদীয় আসনে সোয়া দুই হাজার ভোটারের ওপর জরিপ চালানো হয়েছে। এই জরিপের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো আসন্ন নির্বাচনে কোন দল এগিয়ে থাকবে। সোয়া দুই হাজার ভোটারের জরিপের মতামত অনুযায়ী এগিয়ে আছে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৪৮টি আসনে জয়ী হবে। বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৪৯টি আসনে জয় পেতে পারে। বাকি তিনটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয় দেখছে আরডিসি। আরডিসির পক্ষ থেকে এই জরিপ পরিচালনায় যুক্ত মার্কিন পরামর্শক ফরেস্ট ই কুকসান। তিনি ডেভেলপমেন্ট ইন ডেমোক্রেসি নামে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি গবেষণা সংস্থার অর্থনীতিবিদ। তিনি রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে এই জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন। বাংলাদেশে বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপ সংস্থার পাশাপাশি পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বিভিন্ন জরিপেও পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন বলে অনুষ্ঠানে জানান ফরেস্ট ই কুকসান।

আগস্ট মাসে করা আরডিসির আরেকটি জরিপের বরাতে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ডিসেম্বরের মাঝামাঝি এক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছিলেন, নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সর্বোচ্চ ২২০ আসনে জয় পেতে পারে। বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর বর্জনে ২০১৪ সালের বাংলাদেশে ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩টিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন একক প্রার্থীরা। এ নির্বাচনে সব মিলিয়ে ২৩২টি আসনে জয় পেয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টি ৩৩টি, ওয়াকার্স পার্টি ছয়টি, জাসদ পাঁচটি, জেপি একটি, তরিকত ফেডারেশন একটি, বিএনএফ একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১৩টি আসনে জয় পান।

এর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠাতা পেয়েছিল৷ দুই বছর জরুরি অবস্থার পর ২০০৮ সালের ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৩০, বিএনপি ২৯, জাতীয় পার্টি ২৭, জাসদ তিনটি, ওয়ার্কার্স পার্টি দুটি, জামায়াতে ইসলামী দুটি, এলডিপি একটি, বিজেপি একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা চারটি আসনে জয়ী হন।

আরডিসির করা জরিপে ৬০ শতাংশ উত্তরদাতা আওয়ামী লীগকে বেছে নিয়েছেন তাদের পরবর্তী কাণ্ডারি হিসেবে। ২২ শতাংশ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট এবং ৪ শতাংশ ভোটার জাতীয় পার্টিকে সমর্থন করেছেন। আর ১০ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, তারা এখনও নিশ্চিত নন। তিন শতাংশ ভোটার উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। আর এক শতাংশের কম ভোটার বলেছেন, তাদের ভোট দেওয়ারই আগ্রহ নেই।

আরডিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী জরিপে অংশগ্রহণকরী পুরুষের মধ্যে ৫৮ দশমিক ৬ শতাংশ মহাজোটের পক্ষে, ২২ দশমিক ৬ শতাংশ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে এবং ৪ দশমিক ২ শতাংশ জাতীয় পার্টির পক্ষে নিজের অবস্থানের কথা বলেছেন।
নারী ভোটাররা ৬২ দশমিক ২ শতাংশ মহাজোটের পক্ষে, ২২ শতাংশ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষে এবং ৩ দশমিক ১ শতাংশ জাতীয় পার্টির পক্ষে জয়ের কথা বলেছেন।

আওয়ামী লীগ গত নির্বাচনী ইশতেহারে যা বলেছেন তা শতভাগ করার চেষ্টা করেছেন। দেশের জনগণকে হতাশ করেনি। নিরলসভাবে কাজ করে গেছে দেশের উন্নয়নে এবং দেশের জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে। এজন্যই দেশের সকল মানুষ আস্থা রেখেছে আওয়ামী লীগের উপর। আর এই আস্থার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হবে ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *