Sharing is caring!

Harun  Manda Nady Pic 01 05.06
নওগাঁ থেকে আহাদ আলী \ নওগাঁর মান্দায় এক সময়ের খরস্রোতা আত্রাই নদীতে বছরের বেশির ভাগ সময় পানি থাকে না। ভারতের নদী আগ্রাসনে ও এক তরফা পানি প্রত্যাহারের কারণে ব্রি-ধান মওসুমে পানির প্রবাহ স্বাভাবিকের চেয়ে অত্যন্ত কম হওয়ায় কৃষকেরা দিনদিন তাদের উৎপাদিত ফসল চাষাবাদ নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। তাছাড়া যেটুকু পানি প্রবাহিত হয় তাও সেচ চলাকালে এক শ্রেণীর কৃষকরা নদীর উজানে বাঁধ দিয়ে পানি আটকানোয় জিম্মি হয়ে পড়ে নদীর ভাটির দিকের কৃষকরা। প্রতি বছর ১৫-থেকে ২০দিন নদীটি একেবারে শুকিয়ে যায়। তাই প্রয়োজনের মুহুর্তে ভাটির দিকের কৃষকেরা পানির অভাবে ভালো মতো কৃষি কাজ করতে পারেন না। এক সময় প্রতি বছরে যে নদীর প্রবল বন্যার পানিতে উপজেলার নদীর উভয় তীরে তীব্র ভাঙ্গনে ঘরবাড়ি ও ফসলের  জমি গ্রাস করত। তা এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। এখন আর তেমন বন্যার দেখা পাওয়া যায় না। ভরা বর্ষা মওসুমেও পানি তেমন একটা বাড়ে না। সরেজমিনে দেখা যায়, ভারতের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত আত্রাই নদীটি প্রথমে দিনাজপুর হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। আবার ভারতে প্রবেশ করে নওগাঁর ধামইরহাট দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ৮০ এর দশকের সময় ও নদীটির দু’পারের বাসিন্দারা বিভিন্নভাবে নদীর উপর নির্ভরশীল ছিল। আগের ৮৫ ভাগ মৎস্য জীবীরা এ নদীতে মছ ধরে তাদের সংসার চালাত। কিন্তু বর্তমানে নদীতে পানি কম থাকায় আগের মতো তেমন কোন মাছ পাওয়া যায় না। তাই মৎস্যজীবীরা তাদের পরিবার নিয়ে মানবেতন জীবন যাপন করছেন। আবার অনেকে পেশা বদলিয়ে কৃষি শ্রমিকসহ বিভিন্ন পেশায় জড়িত হয়েছে। এলাকাবাসী দেশী মাছের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এক সময় এখানকার প্রায় ৭০ভাগ কৃষকেরা সরাসরি নদীর পানি সেচের মাধ্যমে চাষাবাদের কাজ করত। বর্তমানে নদীর বেশিরভাগ স্থানে শুকিয়ে গিয়ে বড় বড় চর পড়ে থাকে। তাছাড়া নদীর পানি প্রবাহিত কম হওয়ায় পলি কম পড়ে। ফলে জমির উর্বরতা শক্তি ও হ্রাস পেয়েছে। ব্রি-ধান সেচের মাঝপথে নদীটি পুরোপুরি শুকিয়ে যায়। এতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। বর্তমানে বেশির ভাগ টিউবওয়েলে বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যাচ্ছে না। যার ফলে পানিতে আর্সেনিকের মাত্রা বেড়ে গেছে। প্রসাদপুর বাজারের হাসান আলী শেখ, ইব্রাহীম হোসেন সরদার, প্রসাদপুর গ্রামের ৯০ বছর বয়স্ক তনজেব আলী মন্ডল, অঅরতাব হোসেনসহ এলাকাবাসী জানান, ৮০এর দশকে এ নদী ছিল স্থানীয় যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রধান চালিকা শক্তি। নদীটিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল প্রসাদপুর বাজার, কালিকাপুরবাজার, পঁাঁটাকাঠাহাট, জোতবাজার, পাঁজরভাঙ্গাহাট, মিঠাপুকুরহাট, দাসপাড়া প্রভৃতি হাট বাজারসহ গঞ্জ ও বন্দর। এক সময় নদীতে যাত্রী বহনে ও মালামাল পরিবহনে লঞ্চ, ফেরিসহ বড় বড় নৌকা চলাচল করলেও তা বর্তমানে অতীত। এখন এসব বন্দরের কোন জৌলুস নেই। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ ৪৪ বছর ধরে সংস্কার না হওয়ায় নদীটি এখন এলাকাবাসীর তেমন কোন কল্যাণে আসতে পারছেনা। শুষ্ক মওসুমের আগেই নদীটির পানি শুকিয়ে যাওয়ায় দু’পারের বাসিন্দারা ধান, গম, মরিচ, টমেটো, আলু, মিষ্টি আলু, পেঁয়াজ, রসুন, তিলসহ রকমারী ফসলের চাষাবাদ করছেন। এলাকাবাসীর দাবী অচিরেই নদীটিকে বাঁচাতে হলে একতরফা নদী আগ্রাসনের হাত থেকে যেমন রক্ষা করতে হবে, তেমনি বিকল্প উপায়ে নদীর ডেজিং করতে সরকারকে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *