Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ তদবীর কথার অর্থ কি? শিবগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে মামলার জন্য তদবীর না করলে মিথ্যা মামলা হলেও বাদীর কথামত এবং উৎকোচের বিনিময়ে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার ঘটনা ঘটেছে। খোদ শিবগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ এর স্বীকারোক্তি মোতাবেকই বোঝা যায় মামলার তদবীর করতে হয়। না হলেই মনগড়া বা ইচ্ছেমত অথবা বাদীর কথা ও অর্থে প্রভাবিত হয়ে রিপোর্ট দেয়া। তাহলে, শিবগঞ্জ থানার ওসির কথার তদবীরের অর্থ দাড়ায় মামলার উৎকোচ না দিলেতো এ অবস্থা হবে। এমনই কথা বললেও শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুল ইসলাম হাবিব। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মিডিয়াকর্মীরা। একই বাদীর একটি সাজানো এক চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের কাছে খারিজ হয়ে গেলেও একই ব্যক্তি আবারও একই ধরণের অভিযোগ করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে মিথ্যা ও সাজানো এক চাঁদাবাজি মামলায় বাদীর পক্ষে শিবগঞ্জ থানা পুলিশের দেয়া তদন্ত প্রতিবেদনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক চাঁপাই দর্পণ’ ও রাজশাহী থেকে প্রকাশিত উত্তরা প্রতিদিনের শিবগঞ্জ প্রতিনিধি রিপন আলি রকি, তার পিতা, চাচা ও ভাইসহ বেশ কয়েকজন হয়রানীর শিকার হয়েছেন। এছাড়া একই প্রতিবেদনে ‘দৈনিক মানব জমিন’ এর শিবগঞ্জ প্রতিনিধি ও ‘দৈনিক চাঁপাই দর্পণ’র স্টাফ রিপোর্টার মোহা. ইমরান আলীকে জড়িয়ে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, পুলিশের কাছে কোন তদবীর না করায় এমন-ই সাজানো এক চাঁদাবাজি মামলায় সাংবাদিক রকির বাবা ও ছোট ভাইসহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন শিবগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস.আই) শাহ আলম। সার্বিক বিষয় দেখেশুনে তদন্ত রিপোর্ট পাঠানোর কাজ সম্পন্ন করেছেন শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুল ইসলাম হাবিব। তবে, দায়িত্ব অবেহলার মত কথা বলে বিষয়টি না জেনেই ঘটেছে বলে দায়সারার বৃথা চেষ্টা করছেন ওসি। ওসি চরম গর্বের সাথে বলেন, তবদীর না করলে তদন্ত প্রতিবেদন আমরা এইভাবেই দিয়ে থাকি। যে ব্যক্তি আমার কাছে তদবীর করবে তদন্ত প্রতিবেদন তাঁর পক্ষেই যাবে। কিন্তু দুঃখজন হলেও সত্য গত ৫ অক্টোবর রাতে আবু তালেবের নেতৃত্বাধীন সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক রিপন আলি রকি ও তাঁর ছোট ভাই রাসেলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে এক খোলা মাঠে দড়ি দিয়ে বেঁধে ও মুখে কাপড় গুজে দিয়ে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করে। পরের দিন ৬ অক্টোবর সন্ধ্যায় রিপন আলি রকি বাদী হয়ে শিবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার মুলহোতা আবু তালেব মামলা থেকে বাঁচতে আদালতে গত ১৩ আগষ্ট নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ৩৩পি/২০১৭ (শিব) নম্বর, ১৩-০৮-২০১৭ তারিখে একটি সাজানো মিথ্যা চাঁদাবাজী অভিযোগ দায়ের করে। কিন্তু এই অভিযোগটি ৩০ অক্টোবর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানী শেষে খারিজ করে দেন। এরপর আবারো নিজেকে অর্থবীর ভেবে একই অভিযোগ এনে ১৬/০৮/২০১৭ ইং তারিখে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত “খ” অঞ্চলে আদালতে মিথ্যা মামলা দায়ের করে আবু তালেব। বিচারক মামলার বাদী আবু তালেবের জবানবন্দী ও আইনজীবির শুনানী শেষে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে মামলাটির তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। বিষয়টি মিথ্যা ও সাজানো জেনেও আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়া আবু তালেবের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও উপ-পরিদর্শক শাহ আলম কোন তদন্ত ছাড়াই মিথ্যা ভিত্তিহীন ভূয়া তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন। থানার ওসি হাবিবুল ইসলাম বলছেন, এটা আসলে ভুল হয়ে গেছে, এই ভুলে তিনি নিজেই লজ্জিত। ওসিদের সবকিছু দেখার সময় থাকে না, তাই প্রতিবেদনটি না দেখেই সীল স্বাক্ষর করেছেন তিনি। এদিকে, মিথ্যা মামলার মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিবগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাঃ সফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাঃ ইমরান আলী। পাশাপাশি মামলার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে পূণরায় সঠিক তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করে হয়রানীর হাত থেকে বাঁচানোর জোর দাবি জানান স্থানী সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। শিবগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহা. সফিকুল ইসলাম অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে জানান, এ ঘটনার মধ্যদিয়ে প্রমানিত হয় যে, কিছু অসাধু পুলিশ অজ্ঞাত কারণে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের ক্ষতি সাধনে ব্যস্ত থাকে। টাকা পেলে, আর কোন দিকে দেখার সময় থাকে না এসব অসাধূ পুলিশ কর্মকর্তাদের। তবে এতে যে কার কত ক্ষতি হলো, সেটাও মাথায় থাকেনা এসব পুলিশদের। অপরদিকে জেলা স্বাধীন প্রেসক্লাবের সভাপতি ফারুক আহমেদ চৌধুরী নিন্দা ও ক্ষোভের সাথে বলেন, সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন, মুক্ত সাংবাদিকতাকে বাধাগ্রস্ত করবে। এরকম দায়িত্বহীন তদন্ত প্রতিবেদন প্রশ্নবিদ্ধ করবে পুরো পুলিশ বিভাগকে। এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ‘দৈনিক চাঁপাই দর্পণ’ এর সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু এবিষয়টির তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সঠিক তদন্ত ছাড়াই এ ধরণের প্রতিবেদন জমা দেওয়ায় সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালন ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যে বাদী আবু তালেবের বাহিনী সন্ত্রাসীরা সাংবাদিক রিপন ও তার পরিবারের উপর হামলা করে হাসপাতাল পাঠালো, সেই বাদিই আবার অভিযোগ করলো উল্টো চাঁদাবাজীর। সত্যিই বিষয়টি হাস্যকরও বটে। আবার মজার বিষয় হলো, একই পরিবারের ছেলে, বাবা, চাচা, ভাই সকলে মিলে চাঁদাবাজী করতে গিয়েছিলো। এটাও হাস্যকর বিষয়। এসব কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার কারণে পুরো পুলিশ বিভাগের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, মিথ্যা ও কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে প্রতিবেদন প্রদানকারী ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নেবেন জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ এমনটায় আশা করছি। শিবগঞ্জ থানার অফিসার হাবিবুল ইসলাম হাবিব জানান, প্রতিবেদনটি কখন এসেছে আর কখন গেছে, আমি বুঝতে পারিনি। যদিও প্রতিবেদনে আমার স্বাক্ষর রয়েছে। আইনগত বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। ঘটনাটি নিয়ে আমি নিজেই লজ্জিত। ওসি বলেন, সাংবাদিক রকি আমার ব্যক্তিগতভাবে পছন্দের ছেলে। যাই হোক, যা কিছু হবে পুলিশের মাধ্যেই তো হবে, এ বিষয়ে আগামীতে আমি তাকে সাহায্য করবো বলে জানান তিনি। তবে এঘটনা জানাজানির পরই তদন্ত কর্মকর্তা শাহ আলমকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে বলেও একটি সুত্রে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *