Sharing is caring!

যুদ্ধাপরাধী আ ন ম শামসুল ইসলামের মত

দুর্নীতিবাজদের বর্জন করার আহ্বান

নিউজ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগড়া) আসনে বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সাবেক আমীর আ ন ম শামসুল ইসলাম। শামসুল আলমকে এই আসনে মনোনয়ন দেয়ায় মনঃক্ষুণ্ণ হয়েছেন স্বাধীনতার সপক্ষের সাধারণ ভোটাররা। বিভিন্ন সূত্রের খবরে জানা যায়, স্বাধীনতার মাসে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী এবং পাকিস্তানপন্থী জামায়াত নেতাকে নির্বাচন করার সুযোগ করে দেয়ায় বিএনপির উপরও চরমভাবে ক্ষিপ্ত হয়েছেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের ভোটাররা। স্বাধীনতার মাসে শামসুল ইসলামের মত ঘৃণিত ও প্রত্যাখ্যাত স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির এজেন্টকে ব্যালটযুদ্ধের মাধ্যমে পরাজিত করার শপথও নিয়েছেন ভোটাররা।বিভিন্ন তথ্য-সূত্রের বরাতে জানা যায়, শামসুল ইসলাম ছাত্রসংঘের রাজনীতির মাধ্যমে জামায়াতের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। তিনি ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতিও ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। শামসুল ইসলাম সরাসরি যুদ্ধাপরাধের সাথে জড়িত। মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে পাক-বাহিনীর সদস্যদের সাথে সরাসরি একাত্মতা ঘোষণা করে কাজ করেন শামসুল ইসলাম। ছাত্রসংঘের তৎকালীন সক্রিয় নেতা হিসেবে শামসুল ইসলাম মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের বাঙালিদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে হত্যা, খুন, সম্পদ লুটপাট করেন। তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে নারী নির্যাতনেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে বিভিন্ন সময়ে। মুক্তিযুদ্ধের পর জামায়াতের রাজনীতিতে জড়িয়ে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অপকর্ম ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য শামসুল ইসলাম একাধিকবার জেলও খেটেছেন। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য থাকাকালীন সময়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। বিনিময়ে ১০ শতাংশ করে কমিশন নিতেন শামসুল ইসলাম। সর্বশেষ, শামসুল ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার আটকাতে বিদেশি লবিস্ট নিয়োগ করা এবং বিচারকালীন সময়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও রয়েছে। এছাড়া, সোশ্যাল মিডিয়ায় শামসুল ইসলামের একাউন্ট থেকে বর্তমান সরকারের বিপক্ষে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন দেশবিরোধী ও বিদ্বেষমূলক পোস্ট শেয়ার করা হয়েছে এবং হচ্ছে।

জামায়াত নেতা শামসুল ইসলামের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লোহাগড়ার বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী আজগর আলী আকন্দ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় শামসুল ইসলাম রাক্ষসের ভূমিকা পালন করেছেন। শামসুল ইসলাম পাকিস্তানি বাহিনীকে সাথে নিয়ে লোহাগড়ার বিভিন্ন এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের মানুষদের হত্যায় সহযোগিতা করেছেন। আমার চাচাতো ভাই মোশাররফ আলী আকন্দ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কথা বলায় শামসুল আলমের তথ্যে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে পাক-বাহিনী। সে একজন চিহ্নিত রাজাকার এবং দেশদ্রোহী। তার মত চরিত্রহীন, দুর্নীতিবাজ এবং চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী কিভাবে নির্বাচন করে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার সাহস পায়! তার মত রাজাকারের শেকড় মজবুত হয়েছে বিএনপির সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায়। সারা দেশের মানুষকে আহ্বান করছি, এই স্বাধীনতার মাসে ভোটের মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধীদের রুখে দিয়ে দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাই। চোর-দুর্নীতিবাজদের প্রতিহত করে উন্নয়নের পক্ষে মতামত দেই।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *