Sharing is caring!

দর্পণ ডেস্ক \ যুদ্ধাপরাধের মামলায় নওগাঁর চার আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। আসামিরা হলেন, নওগাঁর মো. রেজাউল করিম মন্টু (৬৮), মো. নজরুল ইসলাম (৬৪), মো. শহিদ মন্ডল (৬২) ও মো. ইসহাক (৬২)। চার আসামির মধ্যে মো. ইসহাক (৬২) তদন্ত চলার সময়ই গ্রেপ্তার অবস্থায় মারা যান। অন্য তিন আসামির মধ্যে নজরুল ইসলাম পলাতক। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে তদন্ত সংস্থার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তদন্ত প্রতিবেদনের সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরেন সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান। সঙ্গে ছিলেন জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. হেলাল উদ্দিন। প্রতিবেদনটিকে তদন্ত সংস্থার করা ৫৫তম প্রতিবেদন জানিয়ে হান্নান খান বলেন, মামলাটি তদন্ত করতে এক বছর সময় লেগেছে। এর মধ্যে এ মামলার গ্রেপ্তার এক আসামির মৃত্যুও হয়েছে। আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেন, আসামি রেজাউল করিম মন্টু ১৯৮৬ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী জয়পুরহাট জেলার আমির ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মন্টু তখন থেকেই জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয়। “মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি নিজ বাড়িতে চলে আসেন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীকে সহযোগিতা করার জন্য সশস্ত্র রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেন। ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলে আত্মগোপনে গিয়েছিলেন মন্টু।” মামলার বাকি আসামিরাও জামায়াতের সমর্থক বলে জানান তদন্ত সংস্থার প্রধান হান্নান খান। তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক বলেন, “১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আসামিরা নওগাঁর (সাবেক রাজশাহী জেলার নওগাঁ মহকুমা) বদলগাছী থানায় অপরাধ সংঘটন করে। সাতজনকে হত্যাসহ অবৈধভাবে আটক, নির্যাতন, অপহরণ, লুণ্ঠণ ও অগ্নিসংযোগে সম্পদ ধ্বংসের অভিযোগ আনা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে। পাঁচটি ভলিউমে মোট ৬১৩ পাতার তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বৃহস্পতিবারই এ প্রতিবেদনটি প্রসিকিউশনে জমা দেওয়া হবে। তদন্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, গত বছরের ১৮ অক্টোবর মামলাটির তদন্ত শুরু হয়। এক বছর ধরে চলা তদন্তে মোট ৩১ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন জব্দ তালিকার ও একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা রয়েছেন। আসামিদের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত চলাকালে মো. ইসহাক আলীর মৃত্যু হওয়ায় অভিযোগ থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে হেলাল বলেন, আসামি রেজাউল করিম মন্টুকে ২০১৭ সালের ১১ ফেব্রæয়ারি গ্রেপ্তার করে জয়পুরহাট দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়। আসামি শহিদ মন্ডল ও ইসহাক আলীকে গ্রেপ্তার করা হয় ১২ ফেব্রুয়ারি। পরে ১৫ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালে হাজির করে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আসামি রেজাউল করিম মন্টু বর্তমানে জয়পুরহাট সদরের বাসিন্দা। জেলা শহরের প্রফেসর পাড়ার রাজাকার বিল্ডিং নামে পরিচিত বাসায় থাকতেন। আর পলাতক নজরুল ইসলাম ঢাকায় তেজগাঁওয়ে থাতেন। শহীদ মন্ডলের বাড়ি নওগাঁর বদলগাছী থানার চাঁপাডাল গ্রামে। অভিযোগ ১: ১৯৭১ সালের ৭ অক্টোবর বিকাল আনুমানিক ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত সময়ে আসামিরা নওগাঁর বদলগাছী থানার পাহাড়পুর ইউনিয়নের রানাহার গ্রামে হামলা চালিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের নিরীহ-নিরস্ত্র সাহেব আলী, আকাম উদ্দিন, আজিম উদ্দিন মন্ডল, মোজাফফর হোসেনকে হত্যাসহ ওই সময় ১০-১২টি বাড়ি লুট করে অগ্নিসংযোগ করে বলে এ অভিযোগে বলা হয়েছে। অভিযোগ ২: ১৯৭১ সালের ৮ অক্টোবর দুপুর আনুমানিক দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সময়ে আসামিরা নওগাঁর বদলগাছী থানার পাহাড়পুর ইউনিয়নের খোজাগাড়ী গ্রামে হামলা চালিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের নিরীহ-নিরস্ত্র মো. নুরুল ইসলামকে হত্যা করে। এসময় তারা ১৫-২০টি বাড়ি লুণ্ঠনের পর অগ্নিসংযোগ করে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *