Sharing is caring!

যে কারণে শেখ হাসিনাকে আরও দরকার বাংলাদেশের

বিএনপির সভানেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি ২০০১ সালে রাষ্ট্রীয় ক্ষতায় যাওয়ার পর সরকারি ও প্রশাসনিক প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুর্নীতি ছেয়ে যায়। তার ওপর জিয়াপুত্র ও দলটির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান বনানীর ‘হাওয়া ভবনে’ বসে একের পর এক দুর্নীতি ও লুটতরাজসহ জঙ্গিবাদের মদদ দিতে শুরু করে।
২০০৪ সালের ২১ আগস্টে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে হত্যা উদ্দেশ্যে তার জনসমাবেশে জঙ্গিদের দিয়ে যে গ্রেনেড হামলা চালানো হয় সেটারও নাটের গুরু ছিল তারেক রহমান।

সেসময় বিএনপির একের পর এক দুর্নীতির পাহাড়ে চাপা পড়ে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়েছিল ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের শীর্ষ দুই নেতার দুর্নীতি দেশের সর্বোচ্চ আদালতে ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। একই সাথে দুর্নীতির দায়ে মা ও ছেলে উভয়েরই সাজা হয়েছে একাধিক মামলায়।
তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে পালাতক থাকলেও দেশ থেকে পালানোর সুযোগ পাননি খালেদা জিয়া। তিনি দুর্নীতির দায়েই বর্তমানে ১৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।

এদিকে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে থাকা বিএনপির দুর্নীতির সমুচিৎ জবাব দিতেও ভুল করেনি দেশের জনগণ। নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আয়োজিত সে নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোটের কাছে শোচনীয়ভাবে আসন ও ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয় বিএনপি।
সেই ২০০৯ সাল থেকে টানা বাংলাদেশে রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন শেখ হাসিনা। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি শেখ হাসিনাকে। জনগণের ভালোবাসা ও সমর্থন নিয়ে একের পর এক উন্নয়ন দিয়ে দেশকে বিশ্বব্যাপী ‘উন্নয়নের রোল মডেল’ হিসেবে গড়েন।

আর মাত্র দুই সপ্তাহের মতো বাকি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের। যেখানে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির নিবন্ধন টেকানোর অংশগ্রহনের প্রস্তুতি চলছে, সেখানে হ্যাট্রিক মেয়াদে বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেশসেবা করার ব্যাপারে যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।
দেশের রাজনীতি, পররাষ্ট্রনীতি, শিক্ষা, চিকিৎসা, সড়ক যোগাযোগ, কৃষি ও বিজ্ঞানের জগৎ থেকে শুরু করে জনগণের প্রয়োজনীয় প্রতিটির ক্ষেত্রেই জটিল সব হিসাব মিলিয়ে জাতীয় পর্যায় ছাড়িয়ে নিজেকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রাঙ্গণের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন শেখ হাসিনা।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে বিশ্ব এখন শেখ হাসিনাকে সম্মানের চোঁখে দেখেছেন। তবে তিনি এর প্রতিদানে নোবেল শান্তি পুরস্কার বা এ ধরণের কোনও উপহার প্রত্যাশা করেন না। বরং বাবার মতোই শেখ হাসিনার দাবি শুধু জনগণের ভালোবাসা। আর এটাকেই জীবনের সব থেকে বড় পুরস্কার মেনে দেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে পৌছানের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
২০০৮ এর নির্বাচনী ইশতেহারে শেখ হাসিনার দেয়া ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার কথাগুলো অনেকেই হাসি-ঠাট্টা ও উপহাস করে উড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু হার না মানা অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও বুদ্ধিমত্তার জোরে গত টানা ১০ বছরের ক্ষমতায় দেশকে নিম্ন আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পদার্পনের যোগ্য করে তুলেছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার মেরুদণ্ড কতখানি শক্ত তা বাংলাদেশকে একটি আত্মনির্ভরশীল রাষ্ট্র গড়ার পথে নিয়ে গিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, বাংলাদেশ এখন আর আর তলাবিহীন ঝুড়ি নয়। বাংলাদেশকে ভারতসহ অপরাপর বিশ্ব এখন সমীহ করে, সম্মান করে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পরিবারের হত্যার দুঃখ ভুলে শেখ হাসিনা তাঁর বাবার মতোই দেশ ও জাতীর জন্য এবার নিজের জীবন উজার করে দিয়েছেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে স্বাধীন করেদিয়ে গেছেন বাবা। এবার যোগ্য মেয়ে হিসেবে সে স্বাধীনতা রক্ষায় একের পর এক ভূমিকা রেখে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। তাঁর অদম্য সাহস, দূরদর্শীতা, উদ্যমী মনোভাব, আন্তরিকতার জোরে বঙ্গবন্ধু সোনার বাংলার গড়ার স্বপ্ন একে একে পূরণ করে যাচ্ছেন। এবারে তাঁর লক্ষ্য দেশের উন্নয়নের ধারা বজায় রেখে গ্রামেও শহরের মতো সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *