Sharing is caring!

রঙে-উৎসবে রাবিতে বসন্ত বরণ

শীতের উত্তরীয় থেকে বেরিয়ে গাছের ডালে থাকা কৃষ্ণচূড়াগুলো আজ উঁকি দিচ্ছে। প্রকৃতিতে বইছে মৃদু বাতাস। কোকিলের কুহু কুহু ডাক বাজছে কানে। এসব যেন ঠিক বসন্তের আগমনকেই জানান দিচ্ছে। ঋতুরাজের এই আগমনে চিরচেনা প্রকৃতি পেয়েছে নতুন রূপ। ঋতুরাজকে স্বাগত জানাতে পিছিয়ে ছিলো না রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ও। প্রকৃতির সঙ্গে নিজেদের রাঙাতে লাল-সাদা-হলুদ পোশাক আর খোপায় গোলাপ-জবা ফুলে সাজে উচ্ছ্বসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ-তরুণীরাও। ক্যাম্পাস জুড়ে চলে বসন্ত বরণের গান-বাজনা আর নাচ। আজ বুধবার নানা আয়োজনে মুখরিত ছিলো পুরো ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই লাল-সাদা-হলুদসহ রঙ-বেরংয়ের শাড়ি, পাঞ্জাবি পড়ে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে উচ্ছ্বসিত তরুণ-তরুণীরা চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে ভিড় জমাতে শুরু করেন। সেখানে চলে পিঠা উৎসব, শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। এ ছাড়াও প্যারিস রোড, টুকিটাকি চত্বর, পুরাতন ফোকলোর চত্বর, শহীদ মিনার চত্বরসহ বিভিন্ন চত্বরসহ বিভিন্ন চত্বরেও এসব চিত্র দেখা গেছে। মেয়েরা কেউ খোপায়, কেউ বা মাথায় গোলাপ-জবাসহ বাহারি সব ফুলের তোড়া পড়েছেন। কেউ বসন্ত বরণের গানে নৃত্য করছেন, কেউ বা আবার গাইছেন। কেউ বন্ধু-বান্ধবী, প্রিয় মানুষ আর কেউবা পরিবারের সঙ্গে উৎসবে মেতে উঠেছেন। সবাই একে অপরের সঙ্গে বসন্তের শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। আবার সেলফি তোলা নিয়ে ব্যস্ত অনেকেই। ‘আহা আজি এ বসন্তে, কত ফুল ফোটে,’ ‘বাতাসে বহিসে প্রেম নয়নে লাগিলো নেশা, বসন্ত এসে গেছে’সহ বসন্ত বরণের গান বাজে সর্বত্র। এদিন সকাল সাড়ে ১০টায় চারুকলা অনুষদ বসন্ত বরণ উপলক্ষে শোভাযাত্রা বের করে। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় সেখানে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে দুর্নীতি, মাদক, সন্ত্রাস, অন্যায়ের প্রতিবাদ ও শীতকে বিদায় দিয়ে বসন্তকে বরণস্বরূপ কাঁথা পোঁড়ানো হয়। এরপর চলে শিক্ষার্থীদের দলবদ্ধ নৃত্যু পরিবেশন। এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগ, সামাজিক সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে পৃথকভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী জেসমিন আক্তার মনিকে দেখা গেল লাল শাড়ি আর খোপায় ফুল নিয়ে ছবি তুলতে। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বসন্ত বরণে ক্যাম্পাসে ঘুরতে খুব ভালো লাগছে। বন্ধুদের সঙ্গে অনেক আড্ডা দিচ্ছি। মজাও হচ্ছে অনেক।’ চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী নওরীন আহমেদ বলেন, ‘বসন্ত বরণ আমাদের একটি ঐতিহ্য। পুরো রাজশাহীতে আমরাই বড় করে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করি। দূর-দূরান্ত থেকে আমাদের অনুষ্ঠান দেখতে এখানে অনেকেই ভিড় জমান। এটাই আমাদের প্রাপ্তি।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের অধিকর্তা ড. সিদ্ধার্থ শঙ্কর তালুকদার বলেন, ‘বসন্তকে বরণ করতে প্রতিবারের মতো এবারও চারুকলা অনুষদ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এ বছর আয়োজনটা একটু ভিন্ন। আজ দিনব্যাপী শিল্পকর্ম প্রদর্শনী, পিঠা উৎসব, র‌্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ আরও আয়োজন রয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *