Sharing is caring!


স্টাফ রিপোর্টার \ আম ক্যালেন্ডার ঘোষনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত আম ব্যবসায়ী, আড়ৎদার, আম চাষী ও  গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গের মতামতের ভিত্তিতে নেয়া ৪০ কেজিতে আমের মণ এবং ডিজিটাল মিটারে আম ক্রয়-বিক্রয়ের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর আম বাজারে চাষীদের কাছ থেকে মণে নেয়া হচ্ছে ৪৭ কেজি। ডিজিটাল মিটারের পরিবর্তে সাধারণ পাল্লাতেই চলছে আম বেচা-কেনা। ৪৭ কেজিতে মণ হলেও আবার সাধারণ পাল্লায় ওজনে এমনিতেই আরও ২/৩ কেজি বেশী নেয়া যায় চাষীদের ঠকিয়ে আম। তাই পুরাতন প্রথা ছেড়ে নতুন প্রথা মানতে রাজি নয় আড়ৎদাররা। এর প্রতিকার চান আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা। এক শ্রেণীর অসাধূ আড়ৎদাররা বাইরের জেলা থেকে আসা ব্যাপারীদের মন জোগাতে এবং বাড়তি সুবিধা দিতে চাষীদের ঠকিয়ে আমের এই বেশী ওজন নিয়ে থাকে। নিজেদের লাভ না হলেও ব্যাপারীদের ¯^ার্থে করা এই প্রতারণা দীর্ঘদিন থেকে চালিয়ে আসায় নতুন নিয়ম মানতে চান না আড়ৎদাররা। নিজ এলাকার চাষীদের কথা না ভেবে ভাবেন ঠকাতে আসা ব্যাপারীদের কথা। আবার এসব ব্যাপারীরা অনেক সময়ই এসব আড়ৎদারদের টাকা পরিষোধ না করায় বেকায়দায় পড়েন তারা। সাধারণ ব্যবসায়ীদের হয়রানীর মধ্যেও ফেলেন এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা। তবে চাষীদের ঠকিয়ে ওজনে বেশী নেয়ার কাজটি করেন সব আড়ৎদারই। প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিপরিতে এবছর আবার আরও ২ কেজি বৃদ্ধি করে ৪৯ কেজিতে আমের মণ নির্ধারণ করার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল আড়তদাররা। জেলা প্রশাসনের বেধে দেয়া ওজনে আম বিক্রির জন্য চাষীরা চেষ্টা চালালেও রহনপুর আম আড়ৎদার সমিতির নেতৃবৃন্দ আম ক্রয় বন্ধ রেখে ষড়যন্ত্র শুরু করে। চাষীরাও আম বাজারজাত করণ থেকে বিরত থাকে। আম আড়ৎদার ও আম চাষীদের নিয়ে সমঝোতার ব্যবস্থা করে আবারও ৪৭ কেজিতেই আম বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেয় রহনপুর পৌর মেয়র তারিক আহমেদের নেতৃত্বে সমঝোতা বোর্ড। কোন সাহসে এবং ক্ষমতাবলে জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের বিপরিতে এই সিদ্ধান্ত নিলেন মেয়রের নেতৃত্বে সমঝোতা বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। জেলা প্রশাসনের নেয়া সিদ্ধান্ত কার্যকরে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন প্রশাসন এমনটায় আশা করছেন আমচাষী, ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল। এদিকে, গোমস্তাপুর প্রতিনিধি সফিকুল ইসলামের পাঠানো তথ্যে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর রেল ষ্টেশন সংলগ্ন আম বাজারে ওজন নিয়ে আম ব্যবসায়ী ও চাষীদের বিরোধের জের ধরে নির্ধারিত সময়ের ৪ দিন পর আম বাজারজাত করন শুরু হয়েছে। জেলায় গত ২৫ মে থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আম বাজারজাতকরন শুরু হলেও সোমবার থেকে রহনপুর আম বাজারে আমচাষীরা আম সরবরাহ শুরু করেছে। এর আগে গত রোববার আমের ওজন নিয়ে আম চাষী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিরাজমান বিরোধ মিমাংশার উদ্যোগ নেন রহনপুর পৌর মেয়র তারিক আহমেদ। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ৪৭ কেজিতে ১ মন হিসেবে আম ক্রয় করবে আম আড়ৎদাররা। এ সমঝোতা ফলে সোমবার থেকে আম আসতে শুরু করেছে। তবে ওজন সংক্রান্ত জটিলতার কারনে অনেক আম চাষী বাগান থেকেই আম বিপণন করেছেন বলেও জানা গেছে। বিলম্বে আম বাজারে আসা প্রসঙ্গে রহনপুর আম আড়ৎদার সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান খান জানান, গত বছর ৪৭ কেজিতে ১ মন হিসেবে আম ক্রয় করা হয়। এবার আম চাষীদের নিকট ২ কেজি বাড়িয়ে ৪৯ কেজিতে ১মন হিসেবে আম ক্রয় করার দাবী জানানো হয়। আম চাষীরা এ প্রস্তাবে সাড়া দেয়নি। তাই গত বছরের ওজন অনুযায়ী এবার আম ক্রয় করা হচ্ছে। গোমস্তাপুর উপজেলা আম চাষী সমিতির সভাপতি মাইনুল ইসলাম বিজ্ঞান জানান, মেয়রের সঙ্গে সমঝোতা বৈঠকের পর আম চাষীরা বাজারে আম সরবরাহ শুরু করেছে। তবে জেলা প্রশাসনের ওজন বিষয়ে নেয়া সিদ্ধান্তকে আমরা ¯^াগত জানায়। এদিকে আম চাষী ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে করা এক সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক জেলা প্রশাসন ৪০ কেজিতে ১ মন হিসেবে ডিজিটাল মিটারে আম ক্রয়-বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি আম ব্যবসায়ীরা জেলা প্রশাসককে পূর্ণঃবিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। এব্যাপারে জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হাসান জানান, এবছর আম ক্যালেন্ডার প্রণয়ন সভায় জেলায় আম ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য আলোচনার মাধ্যমে ৪০ কেজিতে মন এবং ডিজিটাল মিটারে ওজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আমে কোন প্রকার কেমিক্যাল যেন ব্যবহার না হয়, সেজন্যই সভায় সিদ্ধান্ত হয়। এসব সিদ্ধান্ত অমান্য করলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *