Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের প্রার্থীর পরাজয়ের কারণ হিসেবে দায়ী করছেন দলীয় কোন্দল ও স্থানীয় কিছু নেতৃবৃন্দের বিরোধিতাকেই। এনিয়ে গুঞ্জন ও ক্ষোভ চলছে দলের তৃণমুল নেতা-কর্মীদের মাঝে। দলীয় প্রতিক পাওয়া মেয়র প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে দলীয় ক্ষতিকারকদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি তৃণমুল নেতা-কর্মীদের। একমত চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা বিশ্বাসও। অনুসন্ধানে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পৌর এলাকার চায়ের টেবিল থেকে পাড়া-মহল্লা, অলিগলির রাস্তার মোড়ে পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রার্থীর পরাজয়ের কারণ সম্পর্কে আলোচনা চলছে। আওয়ামী লীগের এ পরাজয়ের জন্য দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দলের প্রার্থীর পক্ষে সাবেক এমপি জিয়াউর রহমান কাজ না করাকেই দায়ী করা হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর পৌর এলাকা আওয়ামী লীগের ঘাটি নামে পরিচিত। এই পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে আওয়ামী পন্থি প্রার্থী ছাড়া এ আসনটিতে পৌর পিতার আসনে অন্য কোন দলের প্রার্থী পদটি অলংকিত করতে পারেনি। কিন্তু রহনপুর পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামীলীগের দলীয় প্রার্থী গোলাম রাব্বানী বিশ্বাসকে পরাজিত করে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির দলীয় প্রার্থী তারেক আহম্মদ। দলীয় প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য রহনপুর পৌর আওয়ামীলীগ, গোমস্তাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ ও জেলা আওয়ামীলীগ প্রার্থী মনোনীত করে কেন্দ্রে পাঠাই। কেন্দ্রীয় কমিটি দলীয় প্রার্থী হিসেবে গোলাম রাব্বানী বিশ্বাস মনোনয়ন দেয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্যের ছোট ভাই গোলাম রাব্বানী বিশ্বাস মনোনয়ন দেওয়ায় সাবেক এমপি ও চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমান দলীয় প্রার্থীকে সমর্থন না দিয়ে বিএনপির প্রার্থীকে গোপনে সমর্থন দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন অনেক নেতা-কর্মী। ফলে গোলাম রাব্বানী বিশ্বাসের প্রচারণার সময় তেমন কোনো ভূমিকা লক্ষ্য করা যায়নি সাবেক এমপির সর্মথকদের। প্রেক্ষিতে গোমস্তাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ রহনপুর পৌর আওয়ামীলীগ গত ৩ জানুয়ায়ী দলীয় কার্যালয়ে বর্ধিত সভায় জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি জিয়াউর রহমানকে দল থেকে বহিস্কারের জন্য সবার সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় এবং রেজুলেশন লিপিবদ্ধ করা হয়। তিনি ২০০৯ সালের ২২ জানুয়ারি উপজেলা নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামীলীগ কর্তৃক মনোনীত প্রার্থী গোলাম মোস্তফা বিশ্বাসের বিপক্ষে ভোট করে সতন্ত্র প্রার্থী খোরশেদ আলম বাচ্চুকে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করতে কাজ করেন। আওয়ামীলীগের প্রার্থী গোলাম রাব্বানী বিশ্বাস জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। কিন্তু দলের কতিপয় নেতাদের কারণে পরাজিত হয়েছি। গোমস্তাপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতারা গত ৫ই জানুয়ারী গঠনতন্ত্র রক্ষা দিবসের আলোচনা সভায় বক্তারা দলের সাথে বেইমানি করে নৌকার প্রার্থীকে পরাজিত করাই জিয়াউর রহমানকে দল থেকে বহিস্কারের দাবি জানাই। রহনপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হঠাৎপাড়ার মোঃ সেলিম রেজা বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য মুহাঃ জিয়াউর রহমানসহ তার অনুসারীরা নৌকা প্রতীকের প্রার্থী গোলাম রাব্বানী বিশ্বাসের বিপক্ষে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে ধানের শীষের প্রার্থী তারিক আহমেদ এর পক্ষে ভোট প্রদানের নির্দেশ প্রদান করলে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী পরাজিত হয়। পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাগানপাড়ার মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, গত ৩০ ডিসেম্বর ২০১৫ রহনপুর পৌর নির্বাচনের সার্বিক চিত্র বিশ্লেষন করলে সংক্ষেপে বলা যায়, সাবেক সংসদ সদস্যের আওয়ামীলীগের সাথে বেইমানী চিত্র। আমি বিশ্বাস করি রহনপুর পৌরসভার প্রত্যেক নাগরিক তার বেইমানীটি ধরে ফেলেছে। এটা সঠিকভাবে বলা যায়, সাবেক সংসদ সদস্য মুহাঃ জিয়াউর রহমান বেইমানী না করলে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের অধ্যষিত রহনপুর পৌরসভাটি আওয়ামীলীগেরই থাকত। পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিমপুরের মোঃ রুবেল আলী বলেন, আমি একজন আওয়ামীলীগের কর্মী হিসেবে বলতে চাই, আমাদের সাবেক সংসদ সদস্য মুহাঃ জিয়াউর রহমান তার মতাদর্শের আওয়ামীলীগের কর্মীদের নৌকা প্রতীক অর্থ্যাৎ মেয়র পদ প্রার্থীর ভোট না করার কৌশল হিসেবে আওয়ামীলীগের কাউন্সিলর প্রার্থীদের ভোট করার নির্দেশ দেন এবং তার সাথে কর্মীদের ধানের শীষের ভোট করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। যার উদাহরণ হিসেবে ধরা যায় তার মতাদর্শের সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীরা বিজয়ী হয়। কিন্তু নৌকা প্রতিকের প্রার্থী পরাজিত হয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা বিশ্বাস এবিষয়ে বলেন, রহনপুর পৌরসভাটি বরাবরই আওয়ামীলীগের দখলে ছিল। দলের কিছু লোকের আত্মঘাতি কাজের কারণে রহনপুর পৌরসভাটি আওয়ামীলীগের হাতছাড়া হয়েছে। সাবেক সংসদ সদস্য মুহা. জিয়াউর রহমান ও আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মদ আলী সরকারসহ কয়েকজন প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে দলীয় শৃক্সখলা ভঙ্গ করে দলের মনোনীত নৌকার প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছে এবং বিএনপি দলীয় প্রার্থীকে বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছে। নৌকার প্রার্থীর পরাজিত হওয়ার পেছনে তারাই দায়ি। এবিষয়ে গোমস্তাপুর থানা ও পৌর আওয়ামীলীগের এক সভায় তাদেরকে দল থেকে বহিস্কারেরও দাবি তুলেছে এবং লিখিত রেজুলেশনও হয়েছে। যারা দলের শৃক্সখলা বিরোধী কাজের সাথে জড়িত হয়ে দলের ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন করেছে, দলের শৃক্সখলার স্বার্থে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর দলীয় ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মতামত প্রকাশ করেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *