Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ দেশে চালের সংকট ও দাম উর্ধ্বগতি রোধে বিদেশ থেকে চাউল আমদানীর উপর ট্যাক্স কমালেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার রহনপুর রেলবন্দর দিয়ে চাউল আমদানীর অনুমোদন না থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন আমদানীকারকরা। রহনপুর রেলবন্দর দিয়ে চাউল আমদানীর জন্য দ্রুত অনুমতি প্রয়োজন বলে মনে করছেন চাউল আমদানীকারকরা। রহনপুর রেলবন্দর দিয়ে চাউল আমদানী হলে একদিকে চাউল পরিবহন খরচ যেমন অনেকটা বাঁচবে, অন্যদিকে সময়ও অনেক কম লাগায় চাউলের দাম দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন চাউল আমদানীকারকরা। জানা গেছে, দেশের কয়েকটি জেলায় প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে হঠাৎ করেই দেশে চাউলের দাম বেড়ে যায়। চাউলের মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং চাউলের সরবরাহ ঠিক রাখতে সরকার বিদেশ থেকে চাউল আমদানীর ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ ট্যাক্স থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ ট্যাক্সে নিয়ে আসে। জেলার চাউলের মূল্য কমাতে স্থানীয় ও অন্য জেলার চাউল ব্যবসায়ীরা ভারত থেকে চাউল আমদানীর জন্য এলসি করে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে রেলযোগে চাউল নিয়ে আসতে সময় কম ও পরিবহন খরচ কম হওয়ায় রহনপুর রেলবন্দর দিয়ে কয়েক র‌্যাক চাউল নিয়ে আসার চেষ্টা করলেও রহনপুর রেলবন্দর দিয়ে চাউল প্রবেশের অনুমোদন না থাকায় রেলন্দরের ভারতীয় অংশে র‌্যাকগুলো আটকে রয়েছে। ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় চাউলগুলো প্রবেশ করতে পারছেনা। অন্যদিকে, একটি সুত্রে জানা গেছে, ট্রাক যোগে অন্য স্থলবন্দর দিয়ে চাউল আমদানী করলে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লেগে যায়। আবার ট্রাক সিরিয়ালে বসে থাকায় জরিমানাও গুনতে হয় ব্যবসায়ীদের। এদিকে শুধুমাত্র দর্শণা দিয়ে রেলযোগাযোগ থাকলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ব্যবসায়ীদের জন্য আরও হয়রানী হতে হয়। পক্ষান্তরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রেলযোগে চাউল নিয়ে আসলে সময় লাগে মাত্র ৩ দিন। এতে সময়ও যেমন বাঁচে, খরচও কমে যায়। রেলবন্দর দিয়ে চাউলগুলো প্রবেশ করলে খুব কম সময়ের মধ্যেই চাউলগুলো সরবরাহ করা সম্ভব হবে। সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসনকে প্রতিদিনই সর্বক্ষন চাউল সংকট বা মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ¯^াভাবিক রাখতে তদারকীর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনও তদারকি অব্যহত রেখেছেন। কিন্তু রহনপুর রেলবন্দরে চাউল প্রবেশের অনুমোদন না থাকায় সরকারের জনসাধারণের জন্য নেয়া প্রচেষ্টাগুলো ভেস্তে যেতে বসেছে। তাই দ্রুত রহনপুর রেলবন্দর দিয়ে চাউল প্রবেশের অনুমতি দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে এগিয়ে আসবেন কর্তৃপক্ষ এমনটায় আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে ভারতের এক চাউল রপ্তানী কারক প্রতিষ্ঠান “জয় বাবা বকরেসার রাইস মিল লিমিটেডে’র” পক্ষ থেকে মিলের পরিচালক দীপ চাঁদ খৈতান এক পত্রে জানিয়েছেন, ভারত থেকে বাংলাদেশে চাউল পৌছানোর জন্য ভারতের সিনথিয়া রেলওয়ে স্টেশন দিয়ে রহনপুর রেলবন্দরের মাধ্যমে চাউল রপ্তানী করতে চায়। কিন্তু রহনপুর রেলওয়ে স্টেশন দিয়ে চাউল প্রবেশের অনুমতি না থাকায় সেটা সম্ভব হচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা। রহনপুর রেলওয়ে স্টেশন দিয়ে চাউল রপ্তানী করতে অনুমতি দেয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, রহনপুর রেলস্টেশনের মাস্টার (গ্রেড-৩) মির্জা কামরুল হক জানান, রহনপুর রেলবন্দর দিয়ে গম, পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য প্রবেশের অনুমতি থাকলেও চাউল প্রবেশের কোন অনুমতি নেই। তাই এই রেলবন্দর দিয়ে চাউল প্রবেশ করতে পারছে না।
এব্যাপারে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী “হোসেন ট্রেডার্সের” ¯^ত্তাধিকারী মোঃ আকবর হোসেন বলেন, চালের সংকট ও দাম উর্ধ্বগতি রোধে বিদেশ থেকে চাউল আমদানীর উপর ট্যাক্স কমালেও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার রহনপুর রেলবন্দর দিয়ে চাউল আমদানীর অনুমোদন না থাকায় চরম দূর্ভোগে পড়েছেন আমদানীকারকরা। রহনপুর রেলবন্দর দিয়ে চাউল আমদানী হলে চাউল পরিবহন খরচ যেমন বাঁচবে, অন্যদিকে সময়ও অনেক কম লাগবে। জেলায় চাউলের দাম দ্রুত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসা সম্ভব হবে। চাউলের মূল্য নিয়ন্ত্রণে এবং চাউলের সরবরাহ ঠিক রাখতে সরকার বিদেশ থেকে চাউল আমদানী ক্ষেত্রে ১৮% ট্যাক্স থেকে কমিয়ে ১০% ট্যাক্সে নিয়ে আসে। জেলায় চাউলের মূল্য কমাতে স্থানীয় চাউল ব্যবসায়ীরা চাউল আমদানীর জন্য এলসি করে ভারতে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে রেলযোগে চাউল নিয়ে আসতে সময় কম ও পরিবহন খরচ কম হওয়ায় রহনপুর রেলবন্দর দিয়ে কয়েক র‌্যাক চাউল নিয়ে আসলেও চাউল প্রবেশের অনুমোদন না থাকায় রেলন্দরের ভারতীয় অংশে র‌্যাকগুলো আটকে রয়েছে। ফলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় চাউলগুলো প্রবেশ করতে পারছেনা। তিনি আরও জানান, ট্রাক যোগে অন্য বন্দর দিয়ে চাউল আমদানী করলে প্রায় ২ সপ্তাহ বা তারও বেশী সময় লেগে যায়। আবার সিরিয়ালে ট্রাক বসে থাকায় ট্রাক প্রতি প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হয়। এই জরিমানার টাকাও চাউলের মুল্যের উপর যোগ হয়। এতে চাউলের দাম বেড়ে যায়। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পশ্চিমবঙ্গ থেকে রেলযোগে চাউল নিয়ে আসলে সময় লাগে মাত্র ৩ দিন। এতে সময়ও যেমন বাঁচে, খরচও কমে যায়। রেলবন্দর দিয়ে চাউলগুলো প্রবেশ করলে খুব কম সময়ের মধ্যেই চাউলগুলো সরবরাহ করা সম্ভব হবে। সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসন সর্বক্ষন চাউল সংকট, মূল্য বৃদ্ধি, ¯^াভাবিক সরবরাহ বিষয়ে তদারকি অব্যহত রেখেছেন। কিন্তু রহনপুর রেলবন্দরে চাউল প্রবেশের অনুমোদন না থাকায় ভারতীয় অংশে আটকে থাকা চাউলের র‌্যাকগুলো বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারছেনা। তাই জন¯^ার্থে দ্রুত রহনপুর রেলবন্দর দিয়ে চাউল প্রবেশের অনুমতি প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *