Sharing is caring!

মুঃ শফিকুল ইসলাম, গোমস্তাপুর থেকে \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর রেল বন্দর দিয়ে প্রস্তাবিত মৈত্রী-৩ (রাজশাহী-কোলকাতা) ট্রেন চলাচল করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। উভয় দেশের রেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা ও করণীয় বিয়য়ে প্রস্তাবনা ও অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। দু’দেশের মধ্যে খুব কম সময়ের মধেই সকল প্রক্রিয়া শেষ হবে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলার মানুষ সহজেই ভারত যাতায়াত করতে পারবে। অনুরূপভাবে ভারতের মানুষও বাংলাদেশে আসা যাওয়া করতে পারবে খুব কম সময় ও সহজেই। এরই মধ্যে এ প্রস্তাবের ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে প্রতিবেশী দেশ ভারত। এর ফলে ভারতসহ নেপাল ও ভূটানের সাথে রেল যোগাযোগের দ্বার উন্মোচিত হবে। এ বিষয়ে আগামী মাসে রাজশাহীতে অনুষ্ঠিতব্য একটি নীতিনির্ধারনী বৈঠকে আলোচিত হতে পারে। গত ৪মাস আগে রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা ভারতীয় হাই কমিশনের মাধ্যমে একটি প্রস্তাবনা ভারত সরকারের কাছে পাঠান। এ ব্যাপারে সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা জানান, প্রস্তাবনাটি ভারতীয় রেলওয়ে অনুমোদনের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশের রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক ভারতীয় রেলওয়ের উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছেন। এবিষয়ে রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চল জোনের মহা ব্যবস্থাপক খায়রুল আলম জানান, ট্রেনটি চালুর ব্যাপারে অগ্রগতি জানতে রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাই কমিশনার অভিজিৎ চট্রোপাধ্যায় পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়েকে একটি পত্র দিয়েছেন। যা দু’দেশের  মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে সুরাহা করা হবে। ট্রেনটির প্রস্তাবিত রুট বাংলাদেশের রহনপুর ও ভারতের সিঙ্গাবাদ স্টেশন হয়ে মালদা-হাওড়া (কোলকাতা) রুটে চলাচল করবে। এদিকে রাজশাহী-কলকাতা ট্রেন চলাচলের সংবাদে রাজশাহীসহ চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁ জেলার ভারত গমনেচ্ছুক যাত্রীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। এছাড়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদাহ ও মুর্শিদাবাদ জেলাসহ বিহারের জনসাধারনের এ রেলপথ দিয়ে বাংলাদেশের যাতায়াতের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। রহনপুর রেলবন্দর দিয়ে বর্তমানে ভারত থেকে পণ্যবাহী ট্রেন যোগাযোগ চালু রয়েছে। এছাড়া এ রুট দিয়ে পণ্য পরিবহনের জন্য দু’দেশের রেলপথও সংস্কার করা হয়েছে। নেপাল এ রুট দিয়ে বাংলাদেশ থেকে সার আমদানীও করেছে। নেপাল ভারত হয়ে তাদের সীমান্ত পর্যন্ত বাংলাদেশ ও ভারত থেকে আমদানীকৃত পণ্য সামগ্রী পরিবহনে এ রুট ব্যবহার করতে রাজি হয়েছে বলেও জানা গেছে। তৃতীয় এ মৈত্রী এক্সপ্রেস চালু হলে রহনপুর রেলস্টেশন চত্ত¡রে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস সুবিধা চালু করতে হবে। বর্তমানে রহনপুরে কাস্টমস অফিস থাকলেও তাদের নিজস্ব ভবন নেই। রহনপুর রেল বন্দর চত্ত¡রে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস স্টেশন নির্মাণ করার জন্য রেলওয়ের যথেষ্ট জায়গা রয়েছে বলে রেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *