Sharing is caring!

প্রেস বিজ্ঞপ্তি \ রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নসহ চিকিৎসকদের দায়িত্ব অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও ¯^াস্থ্যমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন সামাজিক সংগঠন রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃবৃন্দ। সোমবার বেলা ১১ টায় রাজশাহী নগরীর কোর্ট শহীদ মিনার চত্ত¡রে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে নেতৃবৃন্দ এসব দাবি জানান। পরে নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন।  বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি লিয়াকত আলী। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. জামাত খান, রাজশাহী চেম্বারের পরিচালক হারুনার রশিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান আলী বরজাহান, এ্যাডভোকেট এন্তাজুল হক বাবু, মোতাসিম বিল্লাহ, পরিবেশ বীদ মিজানুর রহমান মিজান, আওয়ামীলীগ নেতা অধ্যাপক লুৎফর রহমান, নারী নেত্রী সেলিনা বেগম, জেলা লোক মোর্চার সহ-সভাপতি আলাউদ্দিন আল আজাদ, রেস্তোরা মালিক সমিতির সভাপতি রিয়াজ আহমেদ খান, প্রকৌশলী খাজা তারেক, ওয়েব সভাপতি আঞ্জুমান আরা লিপি, ওয়ার্কার্স পাটির নেতা আবদুল মতিন, নিজাম উদ্দিন, আদিবাসী নেতা সুভাসচন্দ্র হেব¤্রন, শামসুর রহমান বাদশা, ইমাম ফেরদৌস ইয়াহিয়াসহ অন্যরা। বক্তারা বলেন, বিভাগীয় শহর রাজশাহী হলেও এখনো অবহেলিত জনপদ। এখানে লাখ লাখ মানুষের বসবাস হলেও সরকারি আধুনিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। রাজশাহীর সরকারি হাসপাতাল, থানা হেল্থ কমপ্রেক্স থেকে শুরু করে তৃনমুল পর্যায় পর্যন্ত মানুষ চিকিৎসা সেবা ঠিকমত পাচ্ছে না। চিকিৎসার নামে চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রায়শই খারাপ আচরনের শিকার হচ্ছেন রোগীরা ও রোগীর আত্মীয়রা। এসব অবিলম্বে বন্ধ করে চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন করার দাবি জানানো হয়। ভুল চিকিৎসায় প্রায় রোগীর মৃত্যু, নবজাতকের মৃত্যু, রোগীর স্বজনদের সঙ্গে মারামারি এমন ঘটনা এখন প্রায় ঘটছে রামেক হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, সরকার স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে অনেক আন্তরিক হলেও কতিপয় চিকিৎসকের কারনে সরকারের সাফল্য ম্লান হচ্ছে। বক্তারা বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগেও চলছে ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টিভদের সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগিদের জরুরী সময়ে বিরক্ত করে রিপ্রেজেন্টিভরা। চিকিৎসকেরা রুম থেকে বের হওয়া মাত্রই তারা রোগীদের ঘিরে ধরে এবং জরুরী সময়ে নিষেধ করা সত্তে¡ও হাত থেকে প্রেসক্রিপশন ছিনিয়ে নেয়। বক্তারা বলেন, সরকারি হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারীর জন্য খরচ হয় প্রায় ৩০০০/- টাকা এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে খরচ হয় সব মিলিয়ে ১২,৮০০ টাকা পর্যন্ত। বেসরকারী হাসপাতালে এই খরচ দাড়ায় প্রায় ২০,০০০ টাকা। এছাড়াও অস্ত্রোপচারের জন্য কোমরে যে এনাস্থসিয়া ইনজেকশন পুশ করা হয় এর সাইট ইফেক্ট সারাজীবনের মত। বেসরকারী হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদান একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতি তেমনি অন্যদিকে শারীরিক এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে বলে অভিযোগ তুলেন নেতৃবৃন্দ। বক্তারা উল্লেখ করেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও ওষধ সরবরাহ করলেও রহস্যজনক কারণে বিকল করে রাখা হয়। ওষধ রোগিদের দেয়া হয় না। হাসপাতালের কতিপয় চিকিৎসক ও অসাধু কর্মচারীরা ভুয়া ¯িøপ ইস্যু করে সেসব ঔষধ বাজারে বিক্রি করে দেয়। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগিদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের সিংহভাগ আত্মসাৎ করা হয় উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনডোর ও আউটডোরে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা কেবলমাত্র নিজের যেসব ক্লিনিকের সাথে সংশ্লিষ্ট, সেসব ক্লিনিকের রোগি ধরার জন্য হাসপাতালে যান। হাসপাতালে মরণাপন্ন রোগিদের কতিপয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হাসপাতালে দিনে একবারও রোগি না দেখে বিভিন্ন ক্লিনিকে পালাক্রমে রোগি দেখে থাকেন। অবস্থা সংকটাপন্ন রোগিদের ক্লিনিকে চিকিৎসা করার নাম করে হাসপাতাল থেকে নিয়ে যাওয়া হয় আর দরিদ্র রোগিরা দিনের পর দিন হাসপাতালের বেডে শুয়ে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতরায়। সরকারি বিধিভুক্ত করে লেকচারার পর্যায়ের চিকিৎসকরা পর্যন্ত নিজেদের ক্লিনিকে রোগিদের কাছ থেকে খেয়াল খুশিমত অতিরিক্ত ফি আদায় করে থাকেন। বক্তারা বলেন, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চাকুরিরত কতিপয় চিকিৎসক রোস্টার অনুযায়ী হাসপাতাল বা কলেজে উপস্থিত না থেকে ক্লিনিকে বসে ব্যবসা করেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগিদের অকারনে বিভিন্ন প্যাথলোজিক্যাল টেস্টের জন্য শতকরা ৬০ভাগ পর্যন্ত কমিশন নিয়ে থাকেন। শিক্ষা নগরী রাজশাহীকে ক্লিনিক নগরীতে রুপান্তরের জন্য একশ্রেণীর চিকিৎসক সরাসরি অংশিদারিত্বের ভিত্তিতে ক্লিনিক স্থাপন করে সরকরি বেতন ভোগ করার পাশাপাশি বেআইনি ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসকের ভুল চিকিৎসা এবং রোগিদের প্রস্তুতি অবহেলার কারণে অসময়ে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়তে হচ্ছে। ভেজাল ওষধে বাজার সয়লাব করে দিয়েছে। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় অনেক রোগী মৃত্যুবরণ করছে এবং অনেকেই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। রাজশাহী হাসপাতালে জরুরী বিভাগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ওয়ার্ডে রোগিকে ভর্তি হওয়া পর্যন্ত শুরু হয় রোগিদের প্রতি অবহেলা ও দুর্ব্যবহার। বক্তারা বলেন, বর্তমান ডেন্টাল ইউনিট রাজশাহী মেডিকেল কলেজ গুনেমানে ডেন্টাল কলেজ পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, কিন্তু অজ্ঞাত কারনে কয়েকবছর পর এটি ডেন্টাল ইউনিটে রুপান্তরিত হয়। বক্তারা, রাজশাহীতে পৃথক হৃদরোগ হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, চক্ষু হাসপাতাল ও পঙ্গু হাসপাতাল স্থাপন করতে হবে এবং মানুষের আয়ের সাথে সংগতি রেখে চিকিৎসকদের ফি নির্ধারনের ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান। সমাবেশ থেকে বক্তারা অবিলম্বে এসব দাবি মেনে নেয়ার আহ্বান জানান, অন্যথায় আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলার হুশিয়ারীও দেয়া হয়। পরে নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ করেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *