Sharing is caring!

এলাকাজুড়ে আতংক-হতাশা \ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী

রাজশাহীর বাঘমারায় জাবের বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনে অতিষ্ট ১০ গ্রামের মানুষ

রাজশাহী থেকে সৈয়দ মাসুদ 

রাজশাহীর বাঘমারায় জাবের বাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনে অতিষ্ট ১০ গ্রামের হাজারও মানুষ। এই বাহিনীর সন্ত্রাসী হামলায় অনেক পরিবারেই আতংক-হতাশা বিরাজ করছে। প্রাণভয়ে অনেকেই বাড়ি থেকে পালিয়ে অন্যত্র দিন কাটাচ্ছেন। জাবের এর নেতৃত্বে বাহিনীর লোকজনের অত্যাচারে অতিষ্ট হলেও নির্যাতনের ভয়ে গ্রামবাসী মুখ খুলতে সাহস করেন না। বিষয়টি এমন ভয়াবহ, যেন সেই সন্ত্রাসের ঘাঁটি বাগমারায় ২য় বাংলা ভাইয়ের জন্ম হয়েছে বলেও ভীত গ্রামবাসী। সন্ত্রাসী এই জাবেরসহ তার বাহিনীর সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী এলাকাবাসীর। সরজমিন ঘুরে জানা গেছে, একসময় চরমপন্থী আর জঙ্গিবাদ উত্থানের আতুরঘর হিসেবে পরিচিত ছিল রাজশাহীর বাগমারা। কিন্তু সে গল্প পাল্টে যায় ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর। এক সময়ের রক্তাক্ত জনপদ নামে খ্যাত বাগমারা এখন প্রায় শান্তিপূর্ণ এলাকা। সেই বাগমারায় আবারও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে ‘জাবের বাহিনী’র কর্মকান্ড। বছর খানেক আগে গড়ে উঠা ওই জাবের বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের অন্তত ১০ গ্রামের মানুষ। অব্যাহত চাঁদাবাজি, হুমকি-ধামকি ও নির্যাতনের কারণে এই বাহিনীর বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলারও সাহস পাচ্ছে না। বাসুপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান, এলাকার ভুক্তভোগী মোবারক হোসেন, আঞ্জুরী ও আনোয়ার জানান, ‘জাবের বাহিনী’র অত্যাচার-নির্যাতন ও চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় গত ৩ ডিসেম্বর হামলার শিকার হন বীরকয়া গ্রামের মোবারক হোসেন। তিনি বর্তমানে পঙ্গু প্রায়। সপ্তাহ আগে একই বাহিনীর প্রধান জাবের আলীর বিরুদ্ধে কথা বলায় মোবারক হোসেনের স্ত্রী আঞ্জুরী বেগমকে নির্যাতন জাবের বাহিনী। ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঞ্জুরীর স্তনও কেটে দেয় জাবের বাহিনী। মোবারক মামলা করলেও ভয়ে থানায় যাওয়ার সহস পায়নি আঞ্জুরী। বিলে মাছ চাষের ভাগের টাকা চাওয়ায় নির্যাতন করে পা ভেঙ্গে দেয়া হয় আনোয়ার হোসেনের। ভয়ে থানায় যেতে পারেননি আঞ্জুরী ও আনোয়ার। ‘জাবের বাহিনী’র প্রধান জাবের আলী বাড়ি উপজেলার বাসুপাড়া ইউনিয়নের মন্দিয়াল গ্রামে। সারের দোকানের কর্মচারি থেকে চাঁদাবাজি, বিল ও পুকুর দখল করতে এলাকায় গড়ে তোলে ৫০ থেকে ৬০ জনের একটি বাহিনী। তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বল্লেই চলে হামলা, নির্যাতন। সংবাদ সংগ্রহে গিয়েও দেখা যায় জাবের বাহিনীর অগ্নিমূর্তি। গত ১৯ ডিসেম্বর রাতে উপজেলার জ্যোতিনগঞ্জ বাজার থেকে জাবের আলীকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও জাবের বাহিনীর লোকজন পুলিশের উপর হামলা করে হ্যান্ডকাপসহ জাবের আলীকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় পুলিশের দুই কর্মকর্তাও আহত হন। পুলিশের খাতায় পালাতক থাকলেও এলাকায় জাবের বাহিনীর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চলছেই। রাজশাহী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম বলেন, জাবেরকে গ্রেফতারে পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে, এ বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে রহস্যজনক ভুমিকা পুলিশের বলে দাবি করেন জনপ্রতিনিধিসহ এলাকাবাসী। দ্রæত বাহিনীর প্রধান জাবের আলীকে গ্রেফতারের দাবি ভুক্তভোগীসহ স্থানীয়দের।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *