Sharing is caring!

002নওগাঁ প্রতিনিধি \ নওগাঁর রাণীনগরে গত কয়েক দিন আগে টানা বর্ষণ কমলেও স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে রোপা-আমন ধান চাস বর্তমানে হুমকির মুখে। নওগাঁর পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক নির্মিত কুজাইল ¯øুইচ গেটের পাল্লা খুলে দেওয়ার কারণে নওগাঁর ছোট যমুনা নদী থেকে প্রবল বেগে পানি রতনডারি হয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করার কারণে রোপা-আমন ধান চাষ যোগ্য ফসলী জমি তলিয়ে যাওয়ায় তিনটি ইউনিয়নে অধিকাংশ জমিতে স্থানীয় কৃষকরা ধান লাগাতে পাড়েনি। নওগাঁর পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ তরিঘড়ি করে ¯øুইচ গেটের পাল্লা বন্ধ করে দিলেও দিনে রোদ রাতে প্রায়শ বৃষ্টিপাত হওয়ায় আমন চাষের জমিগুলো জলাবদ্ধতার কারণে চলতি ভরা মৌসুমে কৃষকরা নিজ নিজ জমিতে ধান লাগাতে না পারাই তিনটি ইউনিয়নের প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে কৃষকরা। জানা গেছে, উপজেলার কাশিমপুর ইউপি’র কুজাইল নামক স্থানে নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর পানি কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য ১৯৮৬ সালে রতনডাড়ি খালের মোহনায় নওগাঁর পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ দুই পাল্লা বিশিষ্ট একটি ¯øুইচ গেট নির্মাণ করে। শুরুতেই এর রক্ষনা-বেক্ষনের লোক থাকলেও কয়েক বছর পর তাকে অন্যত্র বদলি করার ফলে দীর্ঘদিন ধরে ¯øুইচ গেটটি দেখা-শুনা করার জন্য কোন অপারেটর না থাকার সুযোগে স্থানীয় কিছু মৎস্যজীবীরা বর্ষা মৌসুমে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে ইচ্ছে মত ¯øুইচ গেটের পাল্লা উঠা-নামা করার ফলে ছোট যমুনা নদী (আত্রাই নদী) থেকে প্রবল বেগে পানি রতনডাড়ি হয়ে রক্তদহ বিলে প্রবেশ করায় এবং গত এক সপ্তাহ ধরে লাগাতার বৃষ্টিপাতের কারণে বিলের পানি তারাতারি বৃদ্ধির ফলে রাণীনগর সদরের খট্টেশ্বর, রাজাপুর, দাউদপুর, সিংড়াডাঙ্গা, সিম্বা, লোহাচূড়া, গোনা ইউপি’র ভবানীপুর, কাজীপাড়া, পীরেরা, বয়না, লক্ষীপুর, কুচপাড়া ও কাশিমপুর ইউনিয়নের সর্বরামপুর, এনায়েতপুর, মঙ্গলপাড়া মাঠের প্রায় দুই হাজার হেক্টর রোপা-আমন ধান চাষ যোগ্য ফসলি জমি তলিয়ে যায়। রোদের কারণে রক্তদহ বিল ও রতনডারির পানি কমতে শুরু করলেও তারাতারি বিলের পানি বের হওয়ার কোন মোহনা না থাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতার কারণে চলতি রোপা-আমন মৌসুমের ধান চাষ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের কৃষক শহিদুল চৌধুরী জানান, আমি প্রায় দশ বিঘা জমিতে রোপা-আমন ধান চাষ করি। জলাবদ্ধতার কারণে এপর্যন্ত এক বিঘা জমিতেও ধান লাগাতে পাড়িনি। কয়েকদিন রোদ বেশি হলে হয়তো একটু উঁচু শ্রেণীর জমিতে ধান লাগানো শুরু করা যাবে। তবে যে গতিতে ফসলি জমি থেকে পানি নামছে উপযুক্ত সময়ে ধান লাগানো যাবে কি না এনিয়ে চিন্তায় আছি। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ এসএম গোলাম সারওয়ার জানান, এই ¯øুইচ গেটটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত অপারেটর না থাকায় ওই এলাকার কিছু মৎস্যজীবীরা অবাদে ¯øুইচ গেটের পাল্লা উঠা-নামানোর কারণে ছোট যমুনা নদী থেকে বিলে পানি প্রবেশ করায় এবং ফসলী জমি থেকে পানি নিষ্কাশনের উপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতার কারণে রাণীনগর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের কৃষকদের প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে ধান চাষ করা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তবে দিনের বেলায় রোদ হওয়ার কারণে পানি দ্রুত নেমে গেলে একটু দেড়িতে হলেও ওই এলাকার কৃষকরা ধান চাষ করতে পারবে বলে এমনটায় আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *