Sharing is caring!

মোহাঃ ইমরান আলী ও রিপন আলি রকি \ আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জ। প্রধান অর্থকারি ফসল চাঁপাইনবাবগঞ্জের একমাত্র নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস হচ্ছে আম। আর আন্তর্জাতিক খ্যাত বৃহত্তম আমের বাজার জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট। এবছর আষাঢ়ে লাগাতার বর্ষায় আম চাষীরা পড়েছেন বেকায়দায়। এমনিতেই কালবৈশাখী ঝড়, শিলাপাথরসহ প্রাকৃতিক নানা দূর্যোগে অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে আম চাষী ও মালিকদের। তারপরও ভরা আম মৌসুমে বর্ষায় আমের বাজারে ধ্বস নেমেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা হওয়ায় বাইরের আম ক্রেতারা আম কিনছেন খুব কম। আবার বৃষ্টিতে আমের বিভিন্ন রোগের প্রকোপও দেখা দিচ্ছে। বিশেষতঃ আমকে ঘিরে জেলা সাধারণ কৃষকরা আমের গাছ পরিচর্যা করেন প্রায় ৮ থেকে ৯ মাস। আর বাকি তিন মাস কৃষকদের উৎপাদিত ফসল জেলার বিভিন্ন বাজারে আম বিক্রি করে পরিবারের জন্য সারা বছরের খরচ ঘরে তোলেন। আর আম নিয়ে কানসাটে প্রতিবছর জমে উঠে রমরমা ব্যবসা। কিন্তু প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে জেলার এই প্রধান অর্থকারি ফসল আম বাজারে ধ্বস পড়েছে। এই জেলার আম শুধু দেশের মধ্যে নয়, ব্যান্ডিং প্যাকেট জাতীয় স্পেন, ইউকে, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানী করা হচ্ছে। আম বাজারজাতকরণে নানান জটিলতা কাটিয়ে যখন সাধারণ আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা আমের রাজধানী কানসাটে মেতে উঠেছে ঠিক তখন-ই ভয়ংকর রুপ ধারণ করেছে প্রাকৃতিক দূর্যোগ আষাঢ় মাসে তুমূল বর্ষার বারিধারা। আর এই লাগাতার বর্ষার কারণে ব্যাপক ¶তি সাধিত হচ্ছে আম চাষী ও ব্যবসায়ীদের। আম বাগানগুলোতে জলাবদ্ধতার কারণে আমের বালাইনাশক মাছি পোঁকা আক্রমণও বেড়েছে। আমে মাছি পোঁকার আক্রমণে ক্ষতি হচ্ছে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া এই একঘেয়েমী বর্ষার কারণে প্রতিটি আম বাগানে ফাটছে আম। ক্ষতি হচ্ছে লাখ লাখ টাকার। ধ্বস পড়েছে আম বাজারেও। তুলনামুলক দাম না পাওয়ায় সাধারণ আম ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েক দিন আগে বাজারে প্রতি মণ ফজলি আমের দাম ছিল ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। আর বর্তমানে তা নেমে ১৭’শ  থেকে ২ হাজার টাকা। এসময়ে আশ্বিনা আম যেখানে বিক্রি হবার কথা ২ হাজার টাকা, সেখানে বর্তমান বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৭’শ থেকে ১ হাজার টাকা মাত্র। বাজারের এই অবস্থার কারণে ক্রেতা ও বিক্রেতারা একমাত্র দায়ী করেছেন একঘেয়েমী এই বৃষ্টি ও বেশ কিছু জেলায় বন্যা। দেশের বিভিন্ন জেলায় বন্যায় প্লাবিত হওয়ায় আমের চাহিদা কমে গেছে। ফলে, বাইরে জেলা থেকে আসা আম ব্যবসায়ীরা আম কেনতে আসে না।
এদিকে, শিবগঞ্জ উপজেলার আম ব্যবসায়ী আলফাজ উদ্দিন বলেন, প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে প্রতিদিন আমার বাগান থেকে ৫ থেকে ৭ মণ আম ফাটছে। যা গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার ক্ষতি হচ্ছে। এভাবে যদি বৃষ্টি হতে থাকে তাহলে আমার বাগানে যে পরিমাণ আম আছে, তাও থাকবে না। ফলে আমি খুবই চিন্তার মধ্যে রয়েছি।
একই উপজেলার শ্যামপুরের আম ব্যবসায়ী সাহিন আলম জানান, বৃষ্টির কারণে আমার বাগানের বেশির ভাগ আমে কাল দাগ পড়ে গেছে। এছাড়া মাছি পোঁকার কারণে আমের ব্যাপক ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় বাজারে তেমন দাম পাওয়া যায় না। অন্যদিকে ব্যবসায়ী ইব্রাহিম জানান, লাগাতার বৃষ্টির কারণে আমার বাগানের ৩০ ভাগ আম ফেটেছে ও পঁচে গেছে। যেখানে তার প্রায় ৫ ল¶ টাকা লোকসান হয়েছে বলে তিনি ধারণা করেন।
এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ এস.এম আমিনুজ্জামান বলেন, শিবগঞ্জ উপজেলায় ১৩ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ আম গাছে এবছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। এছাড়া এছাড়া আম উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১ লক্ষ ২৭ হাজার মেট্রিক টণ। কিন্তু প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে এবছর লক্ষ্যমাত্রা পৌছানো সম্ভব হবে না বলে মনে হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে আমের ক্ষতিকারক মাছিপোঁকা। আর মাছিপোঁকার কারণে আমের শরীরে ছিদ্র হয়ে আম ফেটে যাচ্ছে। ফলে, আম ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে। মাছিপোঁকা দমনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাছিপোঁকা দমনের জন্য কীটনাশক বিষ ব্যবহার করা অতি জরুরি। কিন্তু বৃষ্টির কারণে কৃষকরা কীটনাশক ব্যবহারকরতে পারছে না। যদিও মাঝে মধ্যে বৃষ্টি থামছে, কিন্তু ঘন্টা পর আবারো বৃষ্টি শুরু হয়ে যাচ্ছে। ফলে কীটনাশক স্থায়ী ব্যবহার করতে পারছে না কৃষকরা।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *