Sharing is caring!

মোহাঃ ইমরান আলী, শিবগঞ্জ থেকে \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস হচ্ছে আম। আর বাংলাদেশের সর্ব বৃহত্তম আমের বাজার হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাট। একমাত্র কানসাটকে ঘিরেই প্রতিবছর জমে উঠে আমের রমরমা ব্যবসা। শুধু দেশেই নয়, শিবগঞ্জ কানসাটের প্যাকেট জাতীয় আম স্পেন, ইউকে, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানী করা হচ্ছে। তাই এই এলাকার সাধারণ আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আমের রাজধানী কানসাটে মেতে উঠেছিল আমের রমরমা ব্যবসা নিয়ে। তবে এ বছর বড় কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগ না থাকলেও তার চেয়ে ভয়ংকর রুপ ধারণ করেছে আষাঢ় ও শ্রাবনের অবিরাম বর্ষা। আর এই  লাগাতার বর্ষার কারনে ব্যাপক ¶তি সাধিত হচ্ছে আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা। টানা বর্ষার কারনে প্রতিটি আম বাগানে ফাটছে আম। ক্ষতি হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। ধ্বস নেমেছে আম বাজারেও। তুলোনামুলক দাম না পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, গেল ঈদের আগে ফজলি আমের দাম ছিল ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা আর বর্তমান বাজারে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। এছাড়া আসিনা আম যেখানে বিক্রি হচ্ছিলো ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা, সেখানে বর্তমান বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১২’শ থেকে উর্দ্ধে ১৫’শ টাকা। বাজারের এই বিরুপ অবস্থার কারনে ক্রেতা ও বিক্রেতারা কারন হিসেবে বলছেন লাগাতার এই বৃষ্টিকে। এদিকে শিবগঞ্জ উপজেলার আম ব্যবসায়ী আলফাজ উদ্দিনের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন তার বাগান থেকে ৫ থেকে ৭ মন আম ফাটছে। যার মুল্য গড়ে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এই নিয়ে তিনি চরম আশংকায় রয়েছেন। একই উপজেলার শ্যামপুরের আম ব্যবসায়ী মোঃ রিপন জানান, বৃষ্টির কারনে তার বাগানের বেশির ভাগ আমে কাল দাগ পড়ে গেছে এমনকি তমুল পরিমানে ফেটেছেও। যেটা বাজারজাত কিংবা চাহিদার অনুপযোগী। অন্যদিকে ব্যবসায়ী শ্রী মিহির রায় জানান, লাগাতার বৃষ্টির কারনে তার বাগানের ৩০ভাগ আম ফেটেছে ও পোঁচে গেছে। যেখানে তার প্রায় ৫ ল¶ টাকা লোকসান হয়েছে বলে তিনি ধারনা করেন। এব্যারে শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কৃষিবিদ আমিনুজ্জামান বলেন, উপজেলার ১৩ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ আম গাছে এবছর আম উৎপাদন হচ্ছে বলে ধারণা করছি। কিন্তু বৃষ্টির কারনে আম ফেটে গেলে কিছুই করার নাই। এখানে বালাইনাশক, কীটনাশক কিংবা ছত্রাকনাশক স্প্রে ব্যবহার করেও কোন প্রকার উপকার আসছেনা বলে তিনি জানান। তবুও সকল আশা ভরসাকে সামনে রেখে সীমাহিন ধর্য্যকে আগলে রেখে সঠিক দামের আশায় সোনার ফল আমকে ঘিরে ব্যাপক পরিশ্রম ও পরিচর্যায় মাতয়ারা ব্যবসায়ীরা।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *