Sharing is caring!

শহর-বন্দর আসনে বিএনপির কর্মীরা

সেলিমের প্রচারণায়, ডুববে আকরাম

নিউজ ডেস্ক: নারায়ণগঞ্জ-৫ (শহর-বন্দর) আসনে বিএনপির দলীয় প্রাথমিক মনোনয়নের তালিকায় টিকে আছে দু’জন প্রার্থী। তারা হলেন- বিএনপির সাবেক সাংসদ ও মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল নাগরিক ঐক্যের উপদেষ্টা এস এম আকরাম। গুঞ্জন উঠেছে, আকরাম বিএনপির ভোট টানবেন।অন্যদিকে চূড়ান্ত মনোনয়ন থেকে কালাম বাদ পড়ে যাবে এই আশঙ্কা করে কালামপন্থী বিএনপি নেতারা ইতোমধ্যে এই আসনের জাতীয় পার্টি দলটির প্রার্থী ও বর্তমান সাংসদ সেলিম ওসমানের সাথে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। এতে করে ক্লিন ইমেজধারী সাবেক সাংসদ আকরামের পথ সুগম হচ্ছে। আর তাতে করে কালামের চূড়ান্ত মনোনয়নের বিষয়টি একেবারে ক্ষীণ হয়ে আসছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মহানগর বিএনপির সভাপতি পদে থাকা সাবেক সাংসদ আবুল কালাম বিএনপির দুঃসময়ে পুলিশি ঝামেলা এড়াতে নিজেকে গুটিয়ে রেখেছেন। যে কারণে কেন্দ্রীয় নেতাদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে এই নেতাকে। এসব কারণে ধানের শীষ প্রতীকের আরেক হেভিওয়েট নেতা আকরামের দিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা ঝুঁকে পড়ছেন। তাতে করে কালামের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা ধীরে ধীরে উবে যাচ্ছে।

নির্বাচনের মনোনয়ন ইস্যুতে বিএনপি ও তাদের শরিক দলগুলোর মধ্যে থেকে প্রাথমিকভাবে প্রত্যেকটি আসনে একাধিক জনকে মনোনয়ন দেয়। তবে নির্বাচন কমিশনের বাছাই পর্বে এই আসনে তিন জনের মধ্যে মহানগর যুবদলের সভাপতি মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ বাদ পড়ে যান। আর কালাম ও আকরাম মনোনয়ন পত্রের বৈধতা পান। এখন চূড়ান্ত মনোনয়নে এই দু’জন থেকে যেকোন একজনকে প্রার্থীতা ঘোষণা করা হলে অন্যজন মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নেবে। আগামী ৮ ডিসেম্বর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।
জানা গেছে, মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম দলের দুঃসময়ে পুলিশি ঝামেলা এড়াতে দলীয় কর্মসূচিতে নিজেকে গুটিয়ে নেন। আর তাতে করে দলের নেতাকর্মীরাও বেশ বেকায়দায় পড়ে যায়। এতে করে কেন্দ্রীয় নেতারা তাকে নিয়ে সমালোচনাও করেছেন। তবুও ছন্দহীনতার মধ্য দিয়ে দলকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেছেন তিনি। যে কারণে দলের নেতাকর্মীরা তার উপর ভীষণ ক্ষুব্ধ। আর তাই ধানের শীষ প্রতীকের আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী এস এম আকরামের পক্ষে বিএনপির অনেকে ঝুঁকে পড়েছেন বলেও জানা গেছে।

এদিকে এই আসনটিতে বিএনপি প্রার্থীর চেয়ে জাতীয় ঐক্যের শরিক দল নাগরিক ঐক্যের এস এম আকরামের জনপ্রিয়তা বেশি। সম্প্রতি বিভিন্ন রিপোর্টেও জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা সেলিম ওসমানের নাম তালিকাতে রয়েছে। ফলে বিএনপি ও নাগরিক ঐক্যের প্রার্থীরা ক্ষমতাসীন মহাজোট প্রার্থী সেলিম ওসমানের জনপ্রিয়তা নিয়ে বেশ শঙ্কিত। যা পরাজয়ের মাধ্যমে প্রমাণ হবে বলেও মত প্রকাশ করেছেন সেলিম ওসমানের সমর্থকরা।

বিএনপি কর্মীরা জাতীয় ঐক্যের প্রার্থীকে ছেড়ে সেলিম ওসমানের নির্বাচনী প্রচারণায় নামায় সংক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির প্রার্থী কামাল ও তার অনুসারীরা ঐক্যের প্রার্থীকে যে অসহযোগিতা করছে তা মেনে নেয়া যায় না। এটাতে কেবল নাগরিক ঐক্যের তথা জাতীয় ঐক্যের সমস্যা হবে তা তো নয় বরং এটি বিএনপিরও বৃহৎ ক্ষতি। আমরা আশা করছি নির্বাচনের সম্মুখে এমন বিরূপ প্রেক্ষাপটে অতিসত্বর সুরাহা করবে কেন্দ্রীয় বিএনপি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *