Sharing is caring!

Chapai-1চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি \ গত ৭মে দেশের ৪র্থ ধাপে শিবগঞ্জের ইউপি নির্বাচনে ফলাফল জালিয়াতির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে পরাজিত আওয়ামীলীগ মনোনীত (নৌকা প্রতীকের) প্রার্থীরা। রবিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ প্রার্থী রুহুল আমিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন দুর্লভপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ প্রার্থী আবু আহমদ নজমুল কবীর (মুক্তা), উজিরপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ প্রার্থী দুরুল হোদা, চককীর্তি ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ প্রার্থী আনোয়ার হোসেন, পাঁকা ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ প্রার্থী ইসমাইল হোসেন, মোবারকপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ প্রার্থী কামাল উদ্দিন, দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ প্রার্থী আলমগীর, বিনোদপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ প্রার্থী রুহুল আমিন, শ্যামপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ প্রার্থী আসাদুজ্জামান, ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ প্রার্থী ওসমান গনি ও নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ প্রার্থী মোস্তাকুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক ডা. শামিউল আহমেদ শিমুল, শিবগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি টুটুল খানসহ বিভিন্নস্তরের নেতৃবৃন্দ। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রাব্বানী ও শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ইরতিজা আহসান এর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ নির্বাচন পূর্ব ও নির্বাচনী ষড়যন্ত্রে শিবগঞ্জ উপজেলার আওয়ামীলীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের ইলকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে ফলাফল জালিয়াতি করে পরাজিত করা হয়েছে। সাংসদ গোলাম রাব্বানী নির্বাচনের পূর্বেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের গোপনে সমর্থন দেন এবং প্রভাব খাটান এবং স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবহার করে দলীয় প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কাজ করান। স্থানীয় সাংসদ ও ইউএনও’র বিরুদ্ধে নির্বাচনের পূর্বে এবং নির্বাচনের ফলাফল পরিবর্তণে আওয়ামীলীগ দলীয় লোকজনকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকী প্রদানেরও অভিযোগ করা হয় সম্মেলনে। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে নেতা-কর্মীদের মারধর করে ব্যালট বাক্স নিয়ে এসে ইউএনও অফিসে ভোট গণনার নামে ষড়যন্ত্র করে ফলাফল জালিয়াতি করেছেন। এসে দলীয় মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান না নিয়ে সাংসদ বিদ্রোহী আওয়ামীলীগ ও বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীদের পক্ষেও নির্বাচনে প্রভাব খাটানোর কথাও বলা হয় সম্মেলনে। নির্বাচনের কয়েকদিন পূর্বেই বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিকার চেয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে জানানো হয়। জেলা প্রশাসক কোন প্রকার অনিয়ম হবে না বলে আশ্বাস প্রদান করেন। সংবাদ সম্মেলনে এসব ঘটনার তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান বক্তারা। এসময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের অসামঞ্জস্যভাবে উত্তর দেন উপস্থিত নেতৃবৃন্দ। কিছু প্রশ্নের উত্তর দেন মনগড়া। নির্বাচন ফলাফল ঘোষণার সময় এই প্রতিবাদ কেন নয়, এমন প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি বক্তারা। সম্মেলনে এসব ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে সাংসদ, ইউএনও ও জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় শাস্তির জোর দাবি জানানো হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলন শেষে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন। উল্লেখ্য, শিবগঞ্জের ১৪ ইউপি নির্বাচনে মাত্র দুটিতে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী জয়ী হন। অপরদিকে আ’লীগের বিদ্রোহী ৫ প্রার্থী জয়ী হয়। এছাড়া উপজেলার ৫ ইউপিতে বিএনপি ও ২টিতে জামায়াতের প্রার্থী জয়ী হয়। অনেক আওয়ামীলীগ প্রার্থীই অত্যন্ত কম ভোট পেয়েছেন এবং অনেকেই জামানত পর্যন্ত হারিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *