Sharing is caring!

20160720_125027 চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি \ শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা, দুর্লভপুর ও বিনোদপুরের প্রায় ২২০ একর জমিতে সরকারিভাবে লিজ দেয়া বিল ‘কুমিরাদহ’ বিল ভোগদখলে হয়রানী বন্ধের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছে মৎস্যজীবি সমিতির সদস্যরা। বুধবার দুপুরে শিবগঞ্জ ডাক বাংলোয় সংবাদ সম্মেলনে মনাকষা হাজিপাড়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেন্টুর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তর্ত্বিপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি প্রশান্ত কুমার দাস। এসময় উপস্থিত ছিলেন পীরগাছি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি মোঃ মতিউর রহমান, বারঘরিয়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক শ্রী ধর্ম হালদারসহ বিভিন্ন মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সদস্যরা। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সরকারী নীতিমালা মোতাবেক মনাকষা হাজিপাড়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির নামে ইজারা দেয়া হয়। ইজারামুল্য, ভ্যাট ও আয়কর সরকারী খাতে জমা দেয়াও হয়। কিন্তু স্থানীয় কাইয়ুম রেজা চৌধূরী তার বংশীয় ইসমাইল সাজ্জাদ জোয়াদ ওয়াকফ এর সম্পত্তি দাবি করে এলাকার দরিদ্র মৎস্যজীবি সদস্যদের হয়রানী করার জন্য বিভিন্নভাবে মামলা হামলা করে হয়রানী করছে। বিভিন্ন মামলায় ইতোমধ্যেই মনাকষা হাজিপাড়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির পক্ষে রায় দিয়েছেন আদালত। তারপরও তিনি স্থানীয় বাহীনি দিয়ে দরিদ্র মনাকষা হাজিপাড়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সদস্যদের হয়রানী করছে। সরকারের কাছে মনাকষা হাজিপাড়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ সেন্টু আলীসহ অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে হয়রানী বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মৎস্যচাষী প্রশান্ত কুমার দাস বলেন, শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা, দুর্লভপুর ও বিনোদপুর ইউনিয়নের ৫টি মৌজার প্রায় ২২০ একর জলাশয় নিয়ে গঠিত কুমিরাদহ বিল। সরকারি বিধি মোতাবেক প্রায় ৪৮ বছর ধরে এই বিলটি ইজারা দেয়া হচ্ছে। সরকারী সব নীতিমালা মেনে ভূমি মন্ত্রনালয় বাংলা ১৪২০ থেকে ১৪২৫ সাল পর্যন্ত ছয় বছরের জন্য মনাকষা হাজী পাড়া মৎস্যজীবী সমিতিকে এই বিল ইজারা প্রদান করে। এরপর প্রতিবছর ইজারা বাবদ ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকা সরকারী কোষাগারে জমা দিয়ে মনাকষা হাজীপাড়া মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যরা ওই বিলে মাছ চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন।  কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা কাইয়ুম রেজা চৌধুরী তার লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে বা20160720_131424ব বার এই বিল দখলের চেষ্টা করছেন। চলমান লিজ বাতিলের জন্য ভূমি মন্ত্রনালয়ে করা কাইয়ুম রেজা চৌধুরীর আবেদনও মন্ত্রনালয় খারিজ করে দেয়। কিন্তু তারপরেও অবৈধ প্রভাব বিস্তার করে ও লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে এই বিলটি দখলের চেষ্টা করছেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বিলটি দখলে নিতে সরকারের কাছ থেকে ইজারা নেয়া মৎস্যজীবীদের নামে বিভিন্ন সময় মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদেরও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এমনকি মৎস্যজীবীদেরও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে বিলের দখল ছেড়ে দেয়ার হুমকী দিচ্ছেন কাইয়ুম রেজা চৌধুরীর লোকজন। এই অবস্থায় সরকারী এই সম্পদ রক্ষায় সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন মৎস্যজীবীরা। এসময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া কর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন। পরে একই দাবিতে শিবগঞ্জ ডাক বাংলো চত্বরে মানববন্ধন করে বিভিন্ন মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সদস্যরা। এব্যাপারে কাইয়ুম রেজা চৌধূরীর সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার বংশীয় ইসমাইল সাজ্জাদ জোয়াদ ওয়াকফ এর সম্পত্তিসহ স্থানীয়দের জমি সরকার ১৩৫৯ সালে অধিগ্রহণ করে প্রায় ৪০ বছর আগে থেকে ইজারা দিতে থাকে। আবার যাদের জমি তাদের কাছ থেকে খাজনাও নিতে থাকে। সরকারের ওই এলাকায় খাস জমির পরিমান সাড়ে ১৭ একর। কিন্তু সরকার অনেক বেশী জমির উপর ইজারা দেয়। তার বংশীয় ইসমাইল সাজ্জাদ জোয়াদ ওয়াকফ এর সম্পত্তি প্রায় ১৫৬ একর। ওই জমির আর.এস ও এস.এ রেকর্ড ওয়াকফ এর থাকায় তিনি রেকর্ড সংশোধনের আবেদন করেন। ফলে ২০১২ সালে সরকার ওই জমি ইজারা দেয়া থেকে বিরত থাকে। তখন তিনি ওই সম্পত্তি দখলে নেন। মামলায় নি¤œ আদালতে বিষয়টি নিয়ে স্থগিতাদেশ দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রভাবশালীদের প্রভাবে ইজারা নেয়া মনাকষা হাজিপাড়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির লোকজন উচ্চ আদালতের শরনাপন্ন হলে, নি¤œ আদালতের আদেশ স্থগিত করে উচ্চ আদালত। ২০১৩ সালেও তার দখলে ছিল সম্পত্তি। একপর্যায়ে মামলা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই সম্পত্তি যে অবস্থায় আছে, সে অবস্থায় রাখা এবং উভয়পক্ষকে নিস্কিৃয় থাকার আদেশ দেয় আদালত। কিন্তু মনাকষা হাজিপাড়া মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির লোকজন তার লোকের উপর মিথ্যা মামলা দিয়ে গ্রেফতার করায়। মারধর করে তাড়িয়ে দেয় তার লোকজনকে। পরবর্তীতে তিনি মামলা করেন। সম্প্রতি জেলা প্রশাসকসহ তিনি ওই সম্পত্তির সরজমিনে দেখতে গিয়েও বিভিন্ন প্রশ্ন করলে সদুত্তর দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেও জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, কারো বা কোন সমিতির সম্পদ তিনি দখল করেননি। তার বংশীয় ইসমাইল সাজ্জাদ জোয়াদ ওয়াকফ এর সম্পত্তি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু করছেন।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *