Sharing is caring!

পরিচালনা পর্ষদের সহায়তায় সুপারের দূর্ণীতি

শিবগঞ্জের গোঁসাইবাড়ী দাখিল মাদ্রাসায় অর্থ

আত্মসাৎসহ নানা অনিয়ম

♦ স্টাফ রিপোর্টার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার গোঁসাইবাড়ী দাখিল মাদ্রাসায় পরিচালনা পর্ষদের প্রত্যক্ষ সহায়তায় মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. হাবিবুর রহমান, সহ-সুপার আব্দুল মতিন ও সহকারী শিক্ষক মজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে দূর্ণীতি, স্বেচ্ছাচারীতা, অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও গত ১৫ অক্টোবর দূর্ণীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার জমি দাতা এলাকার পোলাডাঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুল বারির ছেলে মো. সেরাজুল ইসলাম। গোঁসাইবাড়ী গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মাদ্রাসার স্থাপিত উদ্যোক্তা ও সাবেক বিদ্যোৎসাহী হাজী এসারুদ্দিনের ছেলে মো. মাহাতাবউদ্দিন এবং একই এলাকার সন্তান ও মাদ্রাসার সাবেক অভিভাবক সদস্য মৃত সোলেমান মন্ডলের ছেলে মো. গোলাম মোস্তফা। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, এলাকার মানুষের জমি, অর্থ, পরামর্শে জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের গোঁসাইবাড়ী মহল্লায় ‘গোঁসাইবাড়ী দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। এলাকার মানুষের কষ্টার্জিত প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে চলছে নানা অনিয়ম, দূর্ণীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ঘুষ লেনদেন, জমি বিক্রি, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কোন হিসাব-নিকাস না থাকা, এলাকার মানুষের মতামতের কোন মূল্য না দেয়া, বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ঢাকায় অবস্থান করে প্রতিষ্ঠান চালানো, প্রতিষ্ঠানের প্রতি গুরুত্ব বা দায়িত্ব পালন না করে সভাপতির প্রতিষ্ঠানের সুপারের সকল অবৈধ কাজে সহযোগিতা করা, নিয়ম বহির্ভূতভাবে কমিটি গঠন, প্রতিষ্ঠানে কোন মিটিং এ উপস্থিত না থেকে ঢাকায় বসে প্রতিষ্ঠানের রেজুলেশনসহ সকল কাগজপত্রে স্বাক্ষর করা, মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. হাবিবুর রহমান, সহ-সুপার আব্দুল মতিন ও সহকারী শিক্ষক মজিবুর রহমান এবং পরিচালনা পর্ষদের ক’জন সদস্যকে নিয়ে নিয়োগ বানিজ্য, ৩ জন শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ২০ লক্ষ টাকা ঘুষ নেয়া, এসব কাজের প্রতিবাদে তৎকালিন পরিচালনা পর্ষদের বিদ্যোৎসাহী সদস্য মাহাতাব উদ্দিনের ¯^াক্ষর না করা, প্রতিবাদ করায় এক শিক্ষককে হয়রানী ও নির্যাতন করে নাটক সাজিয়ে একই মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলামকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করে চেকের মাধ্যমে সুপারের নামে টাকা উত্তোলন, কোন অনুমোদন ছাড়াই মেডিকেলসহ নানা অযুহাতে মাসের পর মাস ছুটি কাটানো, মাদ্রাসায় সময় না দেয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম একেবারেই ভেঙ্গে পড়া, প্রতিষ্ঠান প্রধান প্রতিষ্ঠানে না থাকা, অনিয়ম ও দূর্ণীতির সাথে জড়িত থাকায় অনান্য শিক্ষক-কর্মচারীদেরও সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করা, কোন জবাবদিহিতা না থাকা, এলাকার শিক্ষানুরাগীদের অসম্মান করাসহ পাহাড় পরিমান অভিযোগ উঠেছে। এসব প্রতিকার চেয়ে এলাকার মানুষ স্থানীয়ভাবে চেষ্টা করেও কোন ফল না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছেন বলেও জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা। সকল অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিবেদকের কাছে কোন সঠিক জবাব বা কাগজপত্র দেখাতে পারেন নি গোঁসাইবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. হাবিবুর রহমান। স্থানীয় সুত্র জানায়, বিষয়গুলো জানাজানি হলে মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. হাবিবুর রহমান, সহ-সুপার আব্দুল মতিন ও সহকারী শিক্ষক মজিবুর রহমান যোগসাজস করে জ্বাল কাগজপত্র তৈরী, ভূয়া ভাউচারের মাধ্যমে ব্যয় দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন। বিষয়টিও এলাকার মানুষের কাছে ধার পড়ায় সম্প্রতি মাদ্রাসায় একজন সাজানো অডিটর দিয়ে অডিট করিয়ে মাদ্রাসার হিসেব সেরে নেয়ার ষড়যন্ত্রও করে সুপার। এ বিষয়ে গত ৩ অক্টোবর/১৯ এলাকায় শত শত মানুষ মাদ্রাসা চত্বরে ভীড় জমায়। এক পর্যায়ে সাজানো অডিটর মাদ্রাসা থেকে কৌশলে পালিয়ে যায়। বিষয়টি তাৎক্ষনিক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) (নির্ধারিত তারিখে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক) তাজকির উজ জামান ও শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধূরী রওশন ইসলামকে জানায় স্থানীয় লোকজন। নানা ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে ওই মাদ্রাসার সুপার এলাকার মানুষকে ধোকা দিয়ে বোকা বানানোর চেষ্টা করে এবং কয়েকদিনের মধ্যেই সকল হিসাব-নিকাশ ও কাগজপত্র বুঝিয়ে দেয়ার কথা বলে মাদ্রাসা ত্যাগ করে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন জবাবদীহিতা বা হিসাব নিকাশ দেননি তিনি। একটি সুত্র আরো জানায়, মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. হাবিবুর রহমান গোঁসাইবাড়ী দাখিল মাদ্রাসায় দূর্ণীতি-অনিয়ম এবং অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং বর্তমানে গোমস্তাপুর উপজেলার বালুগ্রাম সিনিয়র আলিম মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ নেয়ার জন্য ছুটোছুটি ও তদ্বির শুরু করেছেন। দূর্ণীতি, অনিয়মের চিত্র গণমাধ্যমে প্রকাশ না করার জন্য প্রতিবেদককে আর্থিক সুবিধাদেয়াসহ নানা ভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টাও করা হয়। এসব অভিযোগে বিষয়টি সরজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এব্যাপারে গোঁসাইবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. হাবিবুর রহমানের সাথে সর্বশেষ ২১ অক্টোবর (সোমবার) মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে না পাওয়ায় মাদ্রাসার সহ-সুপার আব্দুল মতিনের সাথে ফোনে কথা হয়। তিনি জানান এসব অভিযোগ সত্য নয়, এলাকার মানুষ আমার সম্মান ক্ষুন্ন করার জন্যই এসব অভিযোগ করেছে। আমি এসব অনিয়মের সাথে কোনভাবেই জড়িত নই। তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানের কাজের জন্য সুপার সাহেব প্রায়শই প্রতিষ্ঠানের বাইরে থাকেন, তাছাড়া প্রতিষ্ঠানে থাকেন। প্রতিষ্ঠানের অনিয়ম, দূর্ণীতি বিষয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানই বলতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *