Sharing is caring!

chairman-touhidulস্টাফ রিপোর্টার \ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুর রহমান মিয়ার বিরুদ্ধে এক নারীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে শিবগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। অভিযোগকারী নারীর বাড়ি একই ইউনিয়নের শিবনগর গ্রামে। গত বুধবার রাতে শিবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ধর্ষণ চেষ্টার শিকার বাসরী বেগম। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত শেষে শুক্রবার রাতে আমলে নিয়ে মামলা দায়ের হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ  মো. রমজান আলী। মামলা নম্বর-০৬, তারিখ-০৬-০১-১৭। তবে, এই অভিযোগ ভিত্তিহীন, ষড়যন্ত্রমূলক বলে অস্বীকার করেছেন মোবারকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৌহিদুর রহমান মিয়া। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় গুঞ্জন ও উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিবনগরের বাসরী বেগমের সাথে জনৈক সাব্বির হোসেনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় কিছুদিন পূর্বে  ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে স্বামীর সঙ্গে তার বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। ইউনিয়ন পরিষদের সিদ্ধান্তে দেনমোহরের ৫০ হাজার টাকা জমা দেয়ার জন্য বলা হয়। দেনমোহরের ৫০ হাজার টাকা মোবারকপুর ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুর রহমানের কাছে জমা রাখা হয়। জমা টাকা নেয়ার জন্য বাসরি বেগম গত ২০ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভাতিজিকে সাথে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান তৌহিদুর রহমানের কাছে যান। সেখানে খোশ গল্পে মেতে উঠেন চেয়ারম্যান। টাকা না দিয়ে সময় গড়াতে গড়িমষি শুরু করে চেয়ারম্যান। এক পর্যায়ে তৌহিদ মিঞা তার ভাতিজিকে চলে যেতে বলে। এরপর অফিস কক্ষের বাথরুমে নিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে চেয়ারম্যান। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চেয়ারম্যান ওই নারীকে একাধিকবার ধর্ষণের চেষ্টা করেন। কিন্তু কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান তিনি এবং ঘঠনাটি তার স্বজনদের তাৎক্ষনিক জানান। এরপর থেকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে জোর তৎপরতা শুরু করে চেয়ারম্যান তৌহিদুর রহমান ও তার লোকজন। এব্যাপারে ওই নারীর বাবা জানান, একজন জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন আচারণ আশা করা যায় না। এঘটনার ন্যায্য বিচার চান তিনি। এবিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুর রহমান জানান, অভিযোগটি সম্পুর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্য মূলক। একটি ষড়যন্ত্রকারী দল তাকে ফাঁসানোর জন্য ওই নারীকে দিয়ে অর্থ আদায়ের জন্য নাটক সাজিয়েছে। এমনিতেই বিভিন্ন রাজনৈতিক মামলায় তাকে হয়রানীর শিকার হতে হয়েছে। এসব মামলায় কারাগারেও থাকতে হয়েছে। ওই নারীকে দিয়ে মিথ্যা অভিযোগ করে তাকে হয়রানীর চেষ্টা করা হচ্ছে। মোবারকপুর ইউনিয়ন পরিষদ বাজারের মধ্যে। সেখানে সবসময়ই জনসাধারণের ভীড় লেগেই থাকে। তাছাড়া, টাকা নিতে আসার সময় পরিষদে চৌকিদার-দফাদার সকলেই উপস্থিত ছিলো। ওইদিন টাকা দেয়ার পর সকলের উপস্থিতিতেই পরিষদ থেকে বাড়ি যায় আমি। তিনি আরও জানান, বয়স অনেক হয়েছে, এবছরই হজ্বে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। আর এই বয়সে ধর্ষণের চেষ্টা, সত্যিই বিষয়টি হাস্যকরও বটে। তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার। তিনি বলেন, মিথ্যা, সাজানো এবং কারো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ওই নারী অভিযোগ করেছে। আমি কোন অপরাধ করিনি, যদি অপরাধ করে থাকি, তবে আমার বিচার হবে। এব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রমজান আলী জানান, ওই নারীর দেয়া অভিযোগ তদন্ত করে মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার আইনী পরবর্তী কার্যক্রম চলছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *