Sharing is caring!

শিবগঞ্জের রানিহাটি গুচ্ছগ্রামে অসামাজিক কার্যক্রম ॥ নস্ট হচ্ছে পরিবেশ ॥ বন্ধের দাবী

♦ বিশেষ প্রতিনিধি 

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের রানিহাটি পাড়দিয়ার এলাকায় সরকারীভাবে গড়ে তোলা গুচ্ছগ্রামে চলছে মাদক ও দেহব্যবসাসহ নানা অসামাজিক কার্যক্রম। দীর্ঘদিন থেকেই চলা এসব অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের বসবাসকারী পরিবারগুলো প্রতিবাদ করলেও কোন প্রতিকার হয়নি বরং উল্টো এলাকার বখাটেদের হাতে লাঞ্ছিত, নির্যাতিত ও হয়রানীর শিকার হয়েছে প্রতিবাদকারী পরিবারগুলো। কোন প্রতিকার না হওয়ায় একেবারেই নস্ট হয়ে গেছে গুচ্ছগ্রাম এলাকার পরিবেশ। নিরাপত্তাহিনতায় ভুগছে কোমলমতি শিশুদের নিয়ে বসবাসকারী পরিবারগুলো। মূলত একটি পরিবারই এলাকার বখাটেদের কাছ থেকে সুবিধাভোগ ও যোগসাগস করে এসব মাদক ও দেহব্যবসাসহ বিভিন্ন অবৈক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে বলে গুচ্ছগ্রামের পরিবাগুলোর অভিযোগ। অবেশেষে জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসনের স্মরণাপন্ন হয়েছেন উদ্বিগ্ন সচেতন ও অভিভাবক মহল। এছাড়াও স্থানীয় একটি দুষ্ট চক্রও এসব কাজের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত এবং মাদকসহ অন্যান্য অনৈতিক কাজে সাহস যোগাচ্ছে। ওই দুষ্ট চক্রের সাহসেই মরিয়ম বেগম কাউকেই তোয়াক্কা করে না বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। এসব কর্মকান্ডের প্রতিকার চেয়ে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন। গুচ্ছগ্রামের ১২৯টি পরিবার ও নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের স্বাক্ষরিত অভিযোগে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালুবাগান এলাকার কাসেম আলীর মেয়ে মরিয়ম বেগম রাণীহাটি পাড়দিয়ার গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পে গৃহহীন হিসেবে একটি ঘর বরাদ্দ নিয়ে বসবাস করে আসছে। শুরু থেকে মরিয়ম মেয়েকে দিয়ে অসামাজিক কার্যক্রম চালিয়ে আসছে। পাশাপাশি অন্য মেয়ে সরবরাহ এবং মাদক ব্যবসা করে আসছে। ফলে প্রায়শই উঠতি তরুণ ও যুবক বহিরাগত পুরুষরা যাতায়াত করে গুচ্ছগ্রামে। এসব দুশ্চরিত্র যুবক ও তরুণদের অবাধ চলাফেরায় নিজেদের ছেলেমেয়ে নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে গুচ্ছগ্রামের পরিবারগুলো। গুচ্ছগ্রামে পরিবারগুলো মরিয়ম ও তার মেয়ের অসামাজিক কাজের প্রতিবাদ করলে বখাটেদের দিয়ে মামলা ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেয়া হয়। এমনকি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান-সদস্য ও গ্রাম পুলিশের কোন কথা কর্ণপাত করে না মরিয়ম ও তার মেয়ে। এনিয়ে অতিষ্ট গুচ্ছগ্রামবাসী ও স্থানীয়রাও। যে কোন সময় অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করেছেন স্থানীয়রা। শুধু তাই নয়, গুচ্ছগ্রামের কোন প্রাচীর না থাকা, নিরাপত্তাহীনতা, পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেটের ব্যবস্থা না থাকায় আরও বেশী দুশ্চিন্তাগ্রস্থ পরিবারগুলো। এছাড়াও গুচ্ছগ্রাম এলাকায় মানুষ বসবাস শুরু করার আগে থেকেই বখাটেদের উৎপাত, মাদকের আড্ডা চলে আসছে এই এলাকায় বলেও অনেকের অভিযোগ। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিক গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের আওতায় রাণীহাটি পাড়দিয়ার এলাকায় ১২.৫ একর জমির মধ্যে ৪.৫ একর জমিতে নির্মাণ করা হয় আদর্শ গুচ্ছগ্রামের বাড়ি। প্রথম পর্যায়ে গৃহহীন ১৩০টি পরিবার বসবাস করে আসছে। প্রকল্পটি সম্পন্ন বাস্তবায়িত হলে এখানে বসবাসের সূযোগ পাবে ২৪০টি গৃহহীন পরিবার। প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয় ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা মূল্যের ৩৪০ মেট্রিক টন খাদ্যশষ্য (কাবিখা) ও নগদ ৭৫ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের ২৫ মার্চ মাটি কেটে প্রকল্পের কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ (শিবগঞ্জ) আসনের সাবেক সাংসদ মো. গোলাম রাব্বানী। গুচ্ছগ্রামবাসীদের দাবি, এই গুচ্ছগ্রামের এসব অপকর্ম বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে বসবাসকারী পরিবারের সদস্যদের সকল নিরাপত্তার পদক্ষেপ নেয়ার। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এলাকাবাসীর অভিযুক্ত মরিময় বেগম প্রতিবেদককে জানান, তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ সত্য নয়, আমার পরিবারে কোন অসামাজিক কার্যকলাপ হয় না। শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের রানিহাটি পাড়দিয়ার এলাকায় গুচ্ছগ্রামে মাদক ও দেহব্যবসাসহ নানা অসামাজিক কার্যক্রম বন্ধে এলাকাবাসী ও গুচ্ছগ্রামে বসবাসকারী পরিবারগুলোর অভিযোগ পাওয়ার বিষয় নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব আল-রাব্বি প্রতিবেদককে জানান, গুচ্ছগ্রামের অসামাজিক কার্যকলাপের তদন্ত করার জন্য নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়ন ভুমি অফিস কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দাদের নিরাপত্তাসহ সার্বিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভূমিহীন অসহায় এসব পরিবারের নিরাপত্তার জন্য দ্রুতই ব্যবস্থা গ্রহণ করে গুচ্ছগ্রাম এলাকার বিপুল পরিমান পরিবার ও সন্তানদের জন্য স্বাভাবিক ও সুন্দর পরিবেশ তৈরীতে এগিয়ে আসবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমনটায় আশা স্থানীয় সচেতন মহলের।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *