Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ দেশের বীর সন্তান মুক্তিযোদ্ধাগণ হলেও অনেক অসহায় মুক্তিযোদ্ধা এখনও চরম অসহায়ের মত জীবন যাপন করছেন। জীবনে একটু স্বাচ্ছন্দ বা পরিবারের মুখে দু’মুঠো ভাত তুলে দেয়ার জন্য নিজেরা চাষাবাদ করেছিলেন শিবগঞ্জের কয়েকজন অসহায় দুঃস্থ বীর মুক্তিযো দ্ধা। শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের রানীহাটি কলেজের সামনে মুক্তিযোদ্ধা করবস্থানের জন্য বরাদ্দকৃত অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকা জমিতে ইরি-বোরো ধান চাষ করে। কিন্তু বাঁধ সাঁধলো এসব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক কষ্টে চাষাবাদ করা জমির ধানে পানি দেয়া সেচ যন্ত্র প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ করার কারণ। সেচ পাম্পটি শিবগঞ্জ সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ বরমান হোসেনের নির্দেশে বন্ধ করে দেয়া হয় ১২ ফেব্রæয়ারী। ফলে এসব অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের ধানের জমিগুলো ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। অনেকের ধারণা প্রশাসনকে ভূল বুঝিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের এই ধানের জমিগুলোর ফসল নষ্ট করা হচ্ছে। জমিগুলো চাষাবাদ করে কিছু উপকার পেত এসব অসহায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা। এমনতো নয় যে, ওই মুক্তিযোদ্ধাগণ জমিগুলো একেবারে নিজেদের দখলে নিয়ে নিজের জমি বলে দাবি করে বসছিল। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের দাবী জমি চাষ করে ফসল ফলিয়ে নিজেদের একটু সুবিধা করার চেষ্টা যদি বেআইনী বা বড় অপরাধ হয়ে থাকে, তাহলে অন্ততঃ জমির ধান নষ্ট না করে ফসলগুলো ঘরে উঠে যাওয়ার পর আর তাদেরকে চাষ করতে না দেয়া। কিন্তু মাঝপথে ফসলের ক্ষতি করে সেচপাম্প বন্ধ করে দেয়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা। জানা গেছে, শিবগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের বহুদিনের ভোগ দখলীয় খাস খতিয়ানের ২২বিঘা জমির ধানসহ ২৮বিঘা জমির ফসল নষ্ট ও মুক্তিযোদ্ধা কবর ও কমপ্লেক্সের কিছু কিছু স্থাপনা নষ্ট করা হয়েছে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের আকস্মিক হস্তক্ষেপে বলে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছেন, আদালতের নির্দেশে শুধু অবৈধ দখল মুক্ত করা হয়েছে জমিগুলো। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ওই এলাকার মুক্তিযোদ্ধাদের আবাদ করা কৃষি ফসলে সেচ দেয়ার একমাত্র শ্যালোমেশিনটি নেই। বরিংটি নষ্ট হয়ে আছে। কমপ্লেক্সের ভিতরে প্রায় ধান ২২বিঘা, টমেটো সাড়ে ৩বিঘা, বগামোটর ২৫ কাঠা, গম ১বিঘা, খেসারী ১০কাঠা, মটর ১০কাঠা সর্বমোট প্রায় সাড়ে ২৮বিঘার জমির ফসল বিনা সেচে নষ্ট হয়ে গেছে। এই সুযোগে এলাকার কিছু অসাধূ ব্যক্তিরা ২৫টি গাছের বরই (কুলফল) ১০মন মাছ নষ্টও করেছে। এসময় বীর মুক্তিযোদ্ধা আত্তাব আলি, নওয়াব আলি, নুরুল হক, মেশার আলি মেস্তার, মুক্তিযোদ্ধার সন্তান মোয়াজ্জেম হোসেনসহ আরো কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমরা গরীব ও অসহায় মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুপারিশে দীর্ঘদিন যাবৎ মুক্তিযোদ্ধা কবর ও কমপ্লেক্সের ভিতরে কিছু জমিতে আবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করছিলাম। কিন্তু গত ১২ফেব্রæয়ারী আকস্মিকভাবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি)বরমান হোসেন একদল পুলিশ নিয়ে এসে আমাদের ইরি-বোরো জমিতে পানির দেয়ার একমাত্র অবলম্বন শ্যালোমেশিনটি নিয়ে গেছে এবং বরিং এর পাইপগুলো নষ্ট করে দিয়েছেন।  অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধারা আরো বলেন, কোন নোটিশ ছাড়াই এভাবে মুক্তিযোদ্ধার কবরস্থান ও কমপ্লেক্সের উপর হামলা আমাদের জীবনে কোনদিনই দেখিনি। আমরা সহকারী কমিশনার(ভূমি) এরুপ আচরণে হতবাক হয়েছি এবং নিজেকে অপমানজনক মনে করছি। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা তসলিম উদ্দিন জানান, পূর্বে সরকারী নির্দেশ মোতাবেকই গরীব মুক্তিযোদ্ধারা ফসল উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। তিনি আরো বলেন, এঘটনার পূর্বে কোনদিনই কোন নোটিস মু্িক্তযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের দেয়া হয়নি। এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বজলার রহমান সোনু বলেন, পূর্বে কোন নোটিশ দেয়া ছাড়া এভাবে একজন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুক্তিযোদ্ধা কবর স্থান ও কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়ে কবরস্থান ও কমপ্লেক্সের ভিতরের সবকিছু তছনছ করে দেয়ার ঘটনা আমার জীবনে এটাই প্রথম। আমি মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং এর প্রতিকারের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ কামনা করছি। উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানগণ আরো জানান, পারদিয়াড় মৌজার আর.এস ২৫২নং দাগে ১২একর ৫৬শতক জমি  সি.এন্ড.বি অফিস হতে স্থানীয় ১০/১২জন গরীব মুক্তিযোদ্ধা টেন্ডারের মাধ্যমে ১৯৮২সাল হতে ১৯৯৯সাল পর্যন্ত বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করে জীবীকা নির্বাহ করে আসছিল। ২০০০সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক উক্ত সম্পত্তি ১নং খাস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত করে মুক্তিযোদ্ধাদের কবরস্থান ও কমপ্লেক্স হিসাবে বরাদ্দ দেন। ২০১৪ সালে ১৪ ডিসেম্বর  মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জেলা মুক্তিযোদ্ধা কবরস্থান ও কমপ্লেক্স হিসাবে উদ্বোধন করেন এবং থানা কমান্ডারের নেতৃত্বে ৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটির উপর রক্ষনাবেক্ষনের দায়িত্ব দেন। তখন থেকেই কবরস্থান ও কমপ্লেক্সের অবশিষ্ট জমি আমরা ১০/১২জন গরীব মুক্তিযোদ্ধা চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলাম। এসব জমিতে যদি পানি দিয়ে ধান বা অন্যান্য ফসলগুলো বাঁচাতে না পারি, তাহলে এসব অসহায় মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলো চরম ক্ষতির মুখে পড়বে। এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরমান হোসেন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সরকারী নীতি অনুসারে আদালতের নির্দেশ মোতাবেক অবৈধ দখল মুক্ত করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, এর পূর্বে অবৈধভাবে দখল কৃত খাস জমি ছেড়ে দেয়ার জন্য তাদের নিকট কয়েক দফা নোটিশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু তারা সে নোটিশ গ্রাহ্য না করে অবৈধভাবে ভোগ দখল করে আসছিলেন। তিনি বলেন সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের কোন স্থাপনা নষ্ট করা হয়নি এবং কাউকে কোন ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়নি। তিনি একথাও বলেন, যে যেহেতু এটি একটি সম্পুর্ণ খাস খতিয়ানভুক্ত জমি, সেহেতু এখানে কেউ জোরযবর দখল করে ভোগ করতে পারবে না, বা কোন ফসল উৎপাদনও করতে পারবে না।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *