Sharing is caring!

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি \ পৌরসভা নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে, মাঠপর্যায়ে শঙ্কা ও সংশয় ততই বাড়ছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন হবে কি না, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া যাবে কি না, সেই প্রশ্ন ভোটারদের মাথায় ঘুর-পাক খাচ্ছে। ভোটারদের মুখে মুখে ভাসছে সংশয়। তারা বলছেন শিবগঞ্জ উপজেলার সাধারণ ভোটাররা রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে বোলি হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতা, নাশকতায় অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও সাধারণ ব্যাক্তিরা পড়েছেন বিপাকে। আর এরই মাঝে আসন্ন পৌরসভা নির্বাচন। এই নির্বাচনে পর্যবে¶ণ করে মাঠপর্যায়ে শঙ্কা ও সংশয়  আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছে শিবগঞ্জ পৌরসভার ভোটাররা। এদিকে অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২৩ বছর আগে বিএনপির স্থানীয় এমপির চেষ্টায় ইউনিয়ন থেকে পৌরসভায় উন্নিত হয় শিবগঞ্জ পৌরসভা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ২১ দশমিক ৫ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এই পৌরসভায় রয়েছে প্রায় ৪৭ হাজার জনগোষ্ঠি। গত ১৫ বছরেও দৃশ্যমান কোন উন্নতি ঘটেনি এই পৌরসভায়। জলাবদ্ধতা, ড্রেন, সড়ক বাতি, খানাখন্দ সড়ক ও আবর্জনার মহাসমস্যা থাকলেও প্রায় ২৯ হাজার ভোটারসহ নানান শ্রেণী পেশার প্রায় সবাই গত ১৫ বছরেও আলোর মূখ দেখেনি উন্নয়নের। উন্নয়নের অঙ্গিকার করে যারা এর আগে ¶মতায় এসেছিলেন তাদের উন্নয়ন হলেও পৌরবাসী বরাবরই থেকেছে অন্ধকারে।  অপরদিকে আসন্ন শিবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে ভোট যুদ্ধের লড়ছে ময়েন খান। এছাড়া আওয়ামীলীগের আরেক বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থি কারিবুল হক রাজিনও ভোট যুদ্ধে অনড় ও শক্ত অবস্থান নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে সামনের দিকে। এনিয়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগের পাল্টা-পাল্টি অবস্থান ল¶্য করা যাচ্ছে। এছাড়া বিএনপির একক প্রার্থি সফিকুল ইসলাম প্রতিদ্ব›িদ্বতা করলেও রাজনৈতিক বিভিন্ন মামলায় থাকায় আত্মগোপনে রয়েছে। এক প্রকার বলা যায় বিএনপি অবস্থা নাজুক। অপরদিকে জামায়াতের (স্বতন্ত্র) প্রার্থি পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান জাফর আলী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করলেও রাজনৈতিক বিভিন্ন মামলায় থাকায় আত্মগোপনে রয়েছে। বিএনপির নির্বাচনী প্রচারণ পথসভা দেখা গেলেও জামায়াতের (¯^তন্ত্র) প্রার্থি জাফর আলীর মাইক প্রচার ছাড়া অন্য প্রচারণা দেখা যায়নি। এদিকে পৌর এলাকার ১, ২, ৩, ৪ ও ৫ ওয়ার্ড এলাকা সরজমিনে পর্যবে¶ন করে এবং ভোটার রবিউল, শরিফুল, সাইফুল, রুহুল আমিন, শহিদুল, দুরুল, নুরুল, সাদিকুলসহ অনেকেই জানায়, গত নির্বাচনে শিবগঞ্জ পৌরসভার ভোটার ছিল ২৫ হাজার ৪৪৭। এবার নির্বাচনে ভোটার ২৮ হাজার ৭৭২ জন। সে হিসেবে নতুন ভোটার হয়েছেন ৩ হাজার ৩২৫। এসব নতুন ভোটার ও ফ্লোটিং ভোট পাল্টে দিতে পারে সব ভোটের হিসাব-নিকাশ। তবে, ভোটারদের অভিমত নতুন, সৎ, শি¶িত, কর্মঠ ও নিষ্ঠাবান একজনকে মেয়র হিসেবে দেখতে। ভোটার আরো বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন হবে কি না, পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়া যাবে কি না, সেই প্রশ্ন আমাদের মাথায় ঘুর-পাক খাচ্ছে। কেননা, প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকের এই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবেই শিবগঞ্জ পৌরসভায় অনুষ্ঠিত হবে। কারণ, সরকার এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের মুখে পড়তে চাইবে না। এছাড়া এই পৌরসভায় আওয়ামীলীগের মনোনিত একজন ও একজন বিদ্রোহী (¯^তন্ত্র) প্রার্থি রয়েছে। তাদের মাঝে সংশয় রয়েছে। তারা নিজের আধিপত্য নিয়ে নির্বাচনী যুদ্ধে লড়ছে। বলা যায় না, তাদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘাত হতেও পারে। এসব নিয়ে আমরা সাধারণ ভোটাররা রয়েছি আশঙ্কায়। অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, কারিবুল হক রাজিন গত নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামীলীগের সমর্থনে নির্বাচন করে পরাজিত হন বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর কাছে। জয়লাভ করে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী। সে সময় রাজিন ৮ হাজার ১৪ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ›িদ্ব হয়েছিলেন। জামায়াতের জাফর আলী ছিলেন ৩য় অবস্থানে। সেই আলোকে রাজিন নির্বাচনে লড়তে মারিয়া হয়ে পড়েছে। মেয়র পদে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকরা ছাড়া বাকী ৩ মেয়র প্রার্থীর সমর্থকরা ভোট ম্যাজিকের আশঙ্কা করছেন। ৩ মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কয়েকজন জানান, যদি ¯^চ্ছ ভোট হয় তবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর জয়লাভের সম্ভাবনা খুবই কম। আর যদি ¯^চ্ছ না হয়ে ম্যাজিক হয় তবে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী জয়লাভ হলেও হতে পারে। মেয়র পদে ৪ প্রার্থীই তাদের জয়লাভে শতভাগ আশাবাদী বলে জানান। এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার কায়ছার মোহাম্মাদ জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ও সুষ্ঠু নির্বাচন শিবগঞ্জ পৌরসভায় অনুষ্ঠিত হবে। আর নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার লক্ষ্যে শিবগঞ্জ উপজেলা রিটার্নিং অফিসার কাজ করছে। তিনি আরো জানান, নির্বাচন স্বচ্ছ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে করার লক্ষ্যে গত ২১ ডিসেম্বর রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মাদ শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আইন শৃক্সখলা মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। এসময় র‌্যাব-৫ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের প্রতিনিধি অলক বিশ্বাস, থানা পুলিশের প্রতিনিধি নূরে আলম সিদ্দিকী, বিজিবি প্রতিনিধি নায়েক সুবেদার আলমগীর খান, আনসার-ভিডিপি প্রতিনিধি মোসলেমা বেগম উপস্থিত ছিলেন। এসময় নির্বাচনী এলাকায় আইন শৃক্সখলা রক্ষার্থে ২ প্লার্টুন বিজিবি, ২টি র‌্যাবের বিশেষ টিম, থানা পুলিশের বিশেষ টিম টহল ও নজরদারিতে কাজ করবে। এছাড়া পৌরসভার ১১ টি ভোঠ কেন্দ্রের মধ্যে ৯ টি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ৮জন অস্ত্রধারী আর্মস, ১২ জন আনসার-ভিডিপি ও ২ টি সাধারণ ভোট কেন্দ্রে ৭ জন অস্ত্রধারী আর্মস ও ১২ জন আনসার-ভিডিপি দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি নির্বাহী ও এক্সিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট ভ্রাম্যমান থাকবে। যেন কোন ধরণের নির্বাচনী বিঘœতা না ঘটে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *