Sharing is caring!

রিপন আলি রকি, শিবগঞ্জ থেকে \ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জে উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর সাথে পাগলা নদীর উপর দিয়ে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর বেইলী ব্রীজ। কিন্তু বর্তমানে সেটি একটি আতঙ্কে পরিনত হয়েছে। লৌহ ব্রিজটি যেন সাধারণ মানুষের জন্য মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার না হওয়ায় ব্রীজের একপার্শ্বের পাটাতন পড়ে এবং লোহার স্লীপারগুলো ভেঙ্গে যাওয়ায় যে কোন সময় বড় ধরণের দূর্ঘটনার আশংকা করছেন স্থানীয়রা। তবুও যেন কর্তৃপক্ষের কোন মাথাব্যাথায় নেই। দেখেও যেন দেখেনা। অথচ এই বেইলী ব্রীজ দিয়ে কয়েকটি ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও জনপ্রতিনিধিরা প্রতিদিনই পারাপার হচ্ছে। তারপরও কারো চোখেই পড়ছেনা ব্রীজের ভয়ঙ্কর অবস্থার। সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর বেইলী ব্রীজটির ইস্পাতের পাটাতন ক্ষয় হয়ে অনকেটা গর্তে পরিণত হয়ে গেছে। হয়তো আর কিছু দিনের মধ্যে যে কোন মুহুর্তে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন এলাকাবাসী। সতর্ক সংকেত হিসেবে ব্রিজটির পশ্চিম পান্তের প্রবেশ পথে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। যেখানে স্পষ্ট লিখে রাখা হয়েছে “ঝুঁকিপূর্ণ সেতু, ভারী যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ”। এদিকে লৌহ ব্রিজটির চারিপাশে লাগানো লোহার বেরিকেড ও ইস্পাতের তৈরী গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সহ নাট-বল্টু চুরি হয়ে যাওয়ায় জীবনে ব্যাপক ঝুঁকি নিয়ে পথচারীদের পার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর। ১৯৯০ সালে সড়ক ও জনপদ বিভাগের ২৮ বছর আগে নির্মাণ করা এ বেইলী ব্রিজটিতে তেমন কোন সংস্কার না থাকায় শিবগঞ্জবাসীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় হয়তো অল্প কিছুদিনের মধ্যে বিঘিœতা ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশিষ্ট্যজনরা। দেশের অন্যতম বড় জনবহুল উপজেলাগুলোর মধ্যে শিবগঞ্জ হচ্ছে আরেকটি। শিবগঞ্জ বাজার থেকে পশ্চিমে ১ কিলোমিটারের ভিতরে কালপুর নামক এলাকার পাগলা নদীর উপরে অবস্থিত এ লৌহ ব্রিজটি। শিবগঞ্জ জিসি হতে খাসেরহাট জিসি ভায়া মনাকষা বাজার রাস্তার একমাত্র প্রাণ কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে ১৫২৫ মিঃ চেইন বেইলী ব্রীজটি। উপজেলার বিনোদপুর, মনাকষা, দুর্লভপুর ইউনিয়ন সহ শাহবাজপুর, শ্যামপুর ইউনিয়নের কিছু অংশ মিলে প্রায় পৌঁনে ২ লক্ষ মানুষের যাতায়াতের একমাত্র অবলম্বন ব্রীজটি। লৌহ ব্রীজটির এপারে শিবগঞ্জ পৌরসভা। যেখানে সরকারি সকল অধিদপ্তর, সরকারি হাসপাতাল, থানা, ব্যাংক ও বাজারসহ উপজেলার সকল সরকারি বে-সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অবস্থিত। তাই রাতদিন হাজারো লোকের ভিড় জমে এবং স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন তাদের কাক্সিখত শিক্ষা সেবা পেতে ছুঁটে আসতে হয় পাগলা নদীর উপর পাটাতন না থাকা ও ফেটে যাওয়া ব্রিজটির উপর দিয়ে। এছাড়াও চাকুরী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাজার করতে আসা কিংবা দুরের কোন অন্তহীন গন্তব্যে যেতে ব্রিজটির গুরুত্ব অপরিসীম। এদিকে, জেলার আরেকটি অন্যতম বিদ্যাপীঠ দাদনচকে অবস্থিত আদিনা ফজলুল হক সরকারি কলেজ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্যও যাতায়াতের একমাত্র উপায় শিবগঞ্জের এই লৌহ ব্রিজ। শিবগঞ্জ উপজেলাটির চারপাশে রয়েছে ভারতের কাঁটাতারের বেঁড়া।  সীমান্তের অতন্দ্র পাহারাদ্বার বিজিবির রয়েছে বিওপি কম্পানী সদর ও রয়েছে অনেকগুলো ক্যাম্প। দেশ ও সীমান্ত রক্ষার্থে দ্রুত যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে লৌহ ব্রিজটির অবদান রয়েছে একান্তই। জানা যায়, ট্রাক-বাস, ট্রলি-ট্রাক্টর এমনকি অটো রিক্সা চললেও পুরো ব্রিজটি দোলখায়। যেখানে সাধারণ মস্তিস্কের মানুষের দাঁড়িয়ে থাকাটা সহজতর হবে না। এ বিষয়ে পথচারীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, লৌহ ব্রিজটি একেবারে চলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবুও তারা বাধ্য হয়ে এবং বিকল্প পথ না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে ব্রিজটির উপর দিয়ে। তারা আরও জানান, ইস্পাতের পাটাতন ক্ষয় হয়ে ব্যাপক পিচ্ছিল হয়ে গেছে। মটরসাইকেল, সাইকেলসহ সকল যানবাহনে ব্রেক করা মাত্র স্লীপ কেটে দুর্ঘটনা সৃষ্টি হচ্ছে। তবে ব্রিজটির এমন বেহাল দশার কারণ জানতে চাইলে এলাকার অনেকেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও জণপ্রতিনিধিদের দায়ী করেন। এছাড়াও ইটভাটার ইট বোঝাই ট্রলি ও ইট তৈরীর জন্য মাটি বোঝাই ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচলের কারণকেও দায়ী করছেন স্থানীয়রা। এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মকবুল হোসেন এর সাথে বারবার অফিসে গিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি অসুস্থ থাকার কারণে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *