Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে গ্রেফতার হচ্ছে না ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামীসহ অন্য আসামীরা। এই নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে মামলার বাদিসহ তাঁর পরিবাবারের সদস্যরা। অভিযোগ উঠেছে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামীসহ অন্য আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামীদের গ্রেফতার করছেন না। অভিযোগ উঠেছে প্রতিনিয়ত ওই ধর্ষণ মামলার বাদীসহ তার পরিবারের সদস্যদেরকে হত্যাসহ বিভিন্ন ধরণের হুমকী দিচ্ছে আসামী এবং তার লোকজন। এদিকে থানা পুলিশ এলাকায় না গিয়ে আসামীদের গ্রেফতার না করে আসামীদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে মামলার বাদীকে সাফ জানিয়ে যাচ্ছেন। জানা গেছে, বিয়ের প্রলোভন দিয়ে এক দরিদ্র পরিবারের দশম শ্রেণী পড়–য়া ছাত্রীকে ধর্ষণ করে মির্জাপুর কালিতলা গ্রামের মোহাঃ আব্দুল খালেকের ছেলে মোঃ রুবেল। এরপর বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে স্থানীয়ভাবে সমাধানের জন্য শালিসে বসে ইউপি চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধিরা। শালিসে ধর্ষক ও তাঁর পরিবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমাধান না মানলে বাধ্য হয়ে গত ০২/০৬/২০১৭ ইং তারিখে নির্যাতনে শিকার মির্জাপুর নামোপাড়া গ্রামের মোহাঃ আনেসুর রহমানে মেয়ে ও দাইপুকুরিয়া ইউসি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী মোসাঃ সুমিয়ারা খাতুন (শ্যামলী) বাদি হয়ে রুবেলকে প্রধান ও তাঁর বাবা-মা, ভাইকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। মামলা নম্বর-০৪। কিন্তু মামলা দায়ের এর দীর্ঘদিন পার হলেও তদন্তের জন্য বর্তমান অবধি এলাকায় যাননি মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা শিবগঞ্জ থানার এস.আই কামরুজ্জামান। এমনটি অভিযোগ করেছেন মামলার বাদির বাবা আনেসুর রহমান। আনেসুর রহমান আরো অভিযোগ করে বলেন, আমরা গরিব মানুষ, তাই আমাদের কোন সহযোগিতা করছে না পুলিশ। বরং আসামী খুঁজে পাচ্ছে না বলে আমাদের জানাচ্ছে তদন্তকারি কর্মকর্তা এস.আই কামরুজ্জামান। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, আপনারা আসামীর সন্ধান দেন, আমরা আসামী গ্রেফতার করবো। আমরা আসামী কোথায়, কখন অবস্থান করছে তা জানিয়ে দেয়ার পরও আসামীদের ধরতে আসে না পুলিশ। আনেসুর রহমান আরো বলেন, মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে না এসে থানায় বসে থেকে আসামী খুঁজছেন। আমরা গরিব বলে কি আমার মেয়ের নির্যাতনকারিদের বিচার পাবো না? আসামীরা আমার পরিবারকে এখনো বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে। এদিকে মামলার বাদী মোসাঃ সুমিয়ারা খাতুন (শ্যামলী) অভিযোগ করে বলেন, মোহাঃ আব্দুল খালেকের ছেলে মোঃ রুবেল বিয়ের প্রলোভন দিয়ে টানা ৮ মাস ধরে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে গিয়ে আমাকে ধর্ষণ করে। এমতাবস্থায় গত ২৯ এপ্রিল অনুমানিক রাত সাড়ে দশটার দিকে আমাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাঁর বাড়িতে ডেকে তার শ্বয়ন ঘরে নিয়ে আমাকে আবারো ধর্ষণ করে। তখন আমি তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে আজ-কাল বলে টালবাহানা করতে থাকে। গত ২৮মে বিকাল সাড়ে পাঁচটার সময় আমাকে বিয়ে করবে বলে বাড়ি থেকে আমাকে কৌশলে ফোনের মাধ্যমে মির্জাপুর বাজারে মেসার্স রুবেল এন্টারপ্রাইজ নামে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঘরে ডেকে নিয়ে আসে এবং সেখানে বসাইয়া রাখে। ওই সময় আমি রুবেলকে বিয়ের কথা বলতেই সে বিভিন্ন ধরণের কথা বলতে থাকলে আমি তখন চিৎকার করি। আশপাশের লোকজন আমার চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে হাজির হতে থাকলে কৌশলে রুবেল সেখান থেকে পালিয়ে যায়। ওই সময় রুবেলের বাবা, মা ও ভাইয়েরা আমাকে  এলোপাথাড়ী মারতে থাকে এবং চুলের মুঠি ধরে ঘর থেকে বের করে  দেয়। এই ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান সায়মা খাতুন ও দাইপুকুরিয়া ইউপির চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম জুয়েল এলাকাবাসীদের নিয়ে গত ২৯ মে স্থানীয়ভাবে একটি শালিসে বসেন। কিন্তু ওই শালিসে তাঁরা হাজির না হওয়ায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ আমাকে আইনের আশ্রয় নেবার পরামর্শ দেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ী গত ২ জুন শিবগঞ্জ থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করি। মামলা নং ০৪। এব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, পুলিশ আসামী ধরবে না এটা কোন কথা হলো? ধর্ষণ মামলার আসামীর ধরার জন্য বিভিন্নমহল ডিআইজি, পুলিশ সুপারসহ উপর থেকে চাপ থাকে। আসামী ধরার জন্য পুলিশ চেষ্টা করছে। ইতিমধ্যে মামলার চার্জশীট দেয়া হয়েছে। আদালত থেকে গ্রেফতারী পরোয়ানা দিলে আসামী ধরার বিষয়ে আরো জোরদার দেয়া হবে। তবে মামলার বাদির যে অভিযোগ করেছেন তা করতে পারেন। কোন কারণে আসামী না পেলে পুলিশের কি করার আছে? আমরা আসামী ধরার জন্য চেষ্টা করছি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *