Sharing is caring!

শিবগঞ্জ সংবাদদাতা \ মফিজুল হক (৪৫),  চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামের মৃত আফজাল হোসেনের ছেলে। মফিজুল তিন স্ত্রীকে হত্যা, একাধিক নারীর শ্লীলতা হানি ও সবধরনের চোরাচালানের সাথে জড়িত থাকার পরও দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে কথিত এই জ্বীনের বাদশাহ। আর নিরাপত্তাহীনতার কারণে নির্যাতনের শিকার হয়েও কেউ মূখ খুলতে পারছে না এবং কোন অভিযোগও করার সাহস পাচ্ছে না ভোক্তভূগিরা। দু-একটি ক্ষেত্রে মামলা হলেও প্রভাবশালী মফিজুল ও তার বর্তমান স্ত্রীর ছলচাতুরীর কারণে পেরে উঠছে না। সাহাপাড়া গ্রামের বেলালের ছেলে মুকুল জানান, মফিজুল হক প্রথমে জ্বীনের বাদশাহ সেজে আমার পিতার সাথে বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং কিছুদিন পরে আমার বোন নাসরিনকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করে। বিয়ের পর যৌতুকের টাকার দাবীতে গত ২৪ ফেব্রæায়ারী ২০১৬ইং তারিখে আমার বোনকে প্রথমে পাশবিক নির্যাতনের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করে নিজ ঘরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেয়। এঘটনায় মামলা করার পর থেকে মফিজুল হক ও স্ত্রী বার বার হুমকি দেয়ায় আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। মুকুল আরো জানান, মফিজুল হক শুধু আমার বোনকেই হত্যা করেনি। মুকুল জানান, এর আগে সে তারাপুর মিস্ত্রী গ্রামের মো: এনতাজ আলির মেয়ে মোসা: শাফিনা বেগম(২১) কে ও টাপ্পু গ্রামের উজির আলির মেয়ে কালনকে বিয়ে করে একই ভাবে  হত্যা করেছে বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। মুকুল আরো জানান, সা¤প্রতিক আমার ছোট বোন নাসরিনের ঘরের আসবাবপত্র আনতে গিয়ে প্রথমে আমাকে শারীরিক ভাবে লাঞ্চিত করে। পরে আমার উপর মিথ্যা মামলা করে হয়রানী করে। গোপালপুর গ্রামের জনৈক মহিলা জানান, আমার ছেলেকে জ্বীনে ধরেছে বলে চিকিৎসার অজুহাত দেখিয়ে আমার নিকট হতে ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এবং আমার  স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে মফিজুল হক আমার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করলে তাকে অপমান করে বিদায় করেছি। এ সময় সে হুমকি দিয়ে যায় এবং মামলা হলে বা কেউ জানলে আমার জ্বীন দিয়ে তোকে ও তোর সন্তানকে ভোগে নিব বলেও হুমকী দেয়। সাতরশিয়া গ্রামের জনৈকা কিশোরী জানান, আমি যখন অষ্টম শ্রেণীতে পড়ি, তখন হঠাৎ করে মফিজুলের সাথে আমার পরিচয় হয়। পরে বিভিন্নভাবে আমাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক বছর ভোগ করে এবং আমার নিকট হতে ৪০ হাজার টাকা, একটি সোনার মালাসহ অনেক কিছু নিয়ে প্রতারণা করেছে। আমাকে দেয়া তার ফোন নম্বরটি বন্ধ রেখেছে। তবে সরাসরি যোগাযোগ করলে মফিজুল হক আমাকে বলে, ‘মামলা করলে তোর খবর আছে’। সরাসারি তারাপুর গ্রামে গিয়ে সাদিকুল ইসলাম, হাকিম, ডালিম, আলকেশ, সাফী চটক, আজাহার চটক ও একবরসহ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরো অনেকেই বলেন, মফিজুল বড় বংশের লোক ও মফিজুলের স্ত্রী ও তার শ্বশুর থানাসহ বিভিন্ন স্থানে দালালী করায় এলাকার কাউকে কোন তোয়াক্কা করে না। এ ব্যাপারে সরাসরি মফিজুল হকের সাথে যোগাযোগ করতে গেলে তার স্ত্রী রোজিনা বেগম বলেন, মফিজুল হক বাড়িতে নেই। যা কথা বলবেন আমার সাথে বলেন। তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, অর্থলোভী নাসরিন টাকার লোভে আমার স্বামীর সাথে পরকীয়া প্রেমের মাধ্যমে বিয়ে করেছিল। সে নিজেই আত্মহত্যা করেছে। তিনি আরো বলেন, জেলার সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে আমার অনেক আত্মীয় রয়েছে। তাই আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করে বা কোন সংবাদ ছাপিয়ে কোন লাভ হবে না বরং ক্ষতি হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *