Sharing is caring!

vgf rice distri.শিবগঞ্জ প্রতিনিধি \ সারা দেশের ন্যায় শিবগঞ্জেও দুঃস্থদের মুখে হাসি ফোটাতে ঈদ উপলক্ষে বিতরণ করার কথা দুঃস্থদের মাঝে ২০ কেজি করে চাউল। কিন্তু শিবগঞ্জ উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়নে দুঃস্থদের সে ঈদ আনন্দে ভাগ বসাচ্ছে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগন। প্রতিটি ভিজিএফ কার্ডের বিপরীতে ইউনিয়ন ভেদে ৪ থেকে ২ কেজি করে দেয়া হচ্ছে কম চাউল। ফলে শিবগঞ্জে ঈদুল ফিতর উপল¶ে দুঃস্থদের মাঝে ভিজিএফের চাউল  বিতরনে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে এভাবে শিবগঞ্জের ১৫টি ইউনিয়নে শুধু ওজনে কম দেয়ার মাধ্যমে প্রায় ১২৪ মেট্রিক টন চাউল আত্মসাত করা হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় সাড়ে ২৯ ল¶ টাকা। সূত্র জানায়, ঈদুল ফিতর উপল¶ে সরকার সারা দেশের ন্যায় শিবগঞ্জের ১৫ ইউনিয়নের ৪১ হাজার ২’শ ৫৫ জন দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য ৮’শ ২৫মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ দিয়েছে। যা মাথাপিছু ২০ কেজি করে চাউল পাবার কথা। কিন্তু প্রতিটি ইউনিয়নেই দুঃস্থদের মাঝে ২০কেজির পরিবর্তে ১৬ কেজি থেকে ১৮ কেজি করে চাউল বিতরন করা হচ্ছে। গত সপ্তাহে বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দুঃস্থদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চাউল বিতরনে কোন ওজনমাপক ব্যবহার না করে এক ধরনের বালতি ব্যবহার করা হচ্ছে। যেখানে প্রতি বালতিতে ১০কেজি করে চাউল ধরে কার্ড প্রতি ২ বালতি চাউল দেয়া হচ্ছে। ¯^াভাবিকভাবে গ্রামের অসহায় সাধাসিধে মানুষ এ পরিমান চালকেই ২০ কেজি বলে ধরে নিচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে ঐ বালতিটি সম্পূর্ণ ভর্তি করলে ৯ কেজি চাউল ধরবে। তবে বেশীর ভাগই সম্পূর্ন ভর্তি না করে দ্রুত বালতিতে চাল তুলেই কার্ডধারীদের ব্যাগে ঢেলে দেয়া হচ্ছে। মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামের আফসার আলী জানান, আমি একটি কার্ডে ১৬ কেজি চাউল পেয়েছি। তবে খড়িয়ালের টিয়া একটি কার্ডে ১৮ কেজি চাউল পেয়েছে বলে জানান। অন্যদিকে, চককীর্তি ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দুঃস্থ জানান তাদের ইউনিয়নে ১৭কেজি করে চাউল দেয়া হচ্ছে। একই ধরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে দূর্লভপুর, শ্যামপুর, বিনোদপুর, ছত্রাজিতপুর, উজিরপুর, ধাইনগর, ঘোড়াপাখিয়া, দাইপুকুরিয়া, শাহাবাজপুর, মোবারকপুর, নয়ালাভাঙ্গা থেকেও। তবে এসব অভিযোগকারী কোথাও কোন লিখিত অভিযোগ বা মাপে কম দেয়ার বিষয়টি অযথা হয়রানী বা আবারও ভিজিএফ কার্ড না পাবার ভয়ে জানাতে অনিচ্ছুক। অবশ্য হঠাৎ করে এ প্রতিবেদককে দেখে কোন কোন ইউনিয়নে ১৬ কেজির স্থলে ১৮কেজি করে চাউল বিতরন করতে দেখা গেছে। শুধু চাল বিতরনই নয় এর চেয়ে বড় ধরনের দূর্নীতি হচ্ছে কার্ড বিতরনের ¶েত্রে। এখানে কোন নিয়মনীতি তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। নিয়ম অনুযায়ী দুঃস্থদের নামের তালিকা করে চৌকিদারের মাধ্যমে কার্ড বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দেয়ার কথা থাকলেও তা না মেনে চেয়ারম্যান, মেম্বারগণ তাদের পছন্দের ব্যক্তিদের হাতে ৫টি থেকে সর্ব্বোচ্চ  ৫০টি পর্যন্ত কার্ড দিয়েছে। সূত্রটি আরও জানায়, পছন্দের ব্যক্তিদের নামে একাধিক ইস্যুকৃত এ সমস্ত কার্ডের চাউল  সর্ম্পর্ন  নিজেরাই আত্মসাত করছে। তদন্তেও দেখা গেছে যে সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানের সামনেই অনেক কার্ডধারী ব্যক্তি ১০/২০টি কার্ড এর বিনিময়ে বস্তায় ভরে চাল নিয়ে যাচ্ছে। যেসব ভিজিএফের চাউল খোলা বাজারে বিক্রী হচেছ। অন্যদিকে অনেকেই ভিজিএফ কার্ড না পাওয়ায় চাউল না পেয়ে চোখের জল মুছতে মুছতে ইউপি চত্বর থেকে বাড়ি ফিরে গেছে। এ ব্যাপারে রানীনগরের জুরান বলেন, ভোট দিয়ে মেম্বার নির্বাচিত করি, আর সমস্ত সুবিধা ভোগ করছে মাত্র কয়েকজন লোক। অন্যদিকে দলীয় কার্ডাররাও দলীয় ভিত্তিতে পাওয়া কার্ডগুলো তাদের মনোপুত ব্যক্তিদের মাঝে বিতরন করছে এবং কেউ কেউ চাল উত্তোলন করে খোলা বাজারে  বিক্রী করে দিচেছ বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে প্রকৃত দুঃস্থরা অধিকার থেকে বঞ্চিত হচেছ।আর সরকারের নেয়া পদক্ষেপ কে এসব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গন ভেস্তে দিচ্ছে। চাউল বিতরনের ¶েত্রে অনিয়মের অভিযোগ মনাকষা ইউপি চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন, দুর্লভপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু আহমেদ নজমূল কবির মুক্তা ও  বিনোদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগন মোঃ মোহবুল হক প্রত্যেকেই অ¯^ীকার করে বলেন চাউল আনতে গাড়ী ভাড়া ও গোডাউন থেকে চাউল বের করার সময় কিছু চাউল পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। তাই  সামান্য কিছু কমিয়ে গড়ে ১৯ কেজি করে চাউল বিতরন করা হয়েছে। যা দোষের কিছু নয়। অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  ও সহকারী কমিশনার (ভ‚মি) আফাজ উদ্দিন জানান, চাল বিতরনে কোন অনিয়ম বরদাশত করা হবেনা। এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ আসেনি। তারপরও কোথাও কোন অনিয়ম প্রমানিত হলে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। উল্লেখ্য  উপজেলা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, শিবগঞ্জে মোট ৪১ হাজার ২৫০জনের মধ্যে ৮২৫ মেট্রিক চাউলের মধ্যে শাহাবাজপুর ইউনিয়নে ৪০৫৪ জনের মধ্যে মধ্যে ৮১.৮মেট্রিক টন, দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নে ৩০৪৬ মধ্যে প্রায় ৬১মেট্রিক টন, মোবারকপুর ইউনিয়নে  ২৩৬৭জনের মধ্যে  ৪৬.১৪০মেট্রিক টন, চককীর্তি ইউনিয়নে ২৮২২জনের মধ্যে সাড়ে ৫৬মেট্রিক টন, কানসাট ইউনিয়নে ৩০৪৮জনের মধ্যে প্রায় ৬২মেট্রিক টন,শ্যামপুর ইউনিয়নে ৩১১১জনের মধ্যে ৬২.২২০ মেট্রিক টন, বিনোদপুর ইউনিয়নে ৩১৬৩জনের মধ্যে ৬৩.২৪০মেট্রিক টন, মনাকষা ইউনিয়নে ৪০৫১জনের মধ্যেসাড়ে ৮১মেট্রিক টন, দূর্লভপুর ইউনিয়নে ৪২১৩ জনের মধ্যে ৮৪.২৬০মেট্রিক টন, উজির ইউনিয়নে ৭৩৫ জনের মধ্যে  ১৪.৭০০ মেট্রিক টন, পাকা ইউনিয়নে ১৬১২ জনের মধ্যে ৩৩.২৪০ মেট্রিক টন, ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নে ১২৮৮জনের মধ্যে ২৫. ৭৭৭মেট্রিক টন, ধাইনগর ইউনিয়নে ২৯৮৬জনের মধ্যে ৫৯.৭২০ মেট্রিক টন, নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নে ৩২১২জনের মধ্যে ৬৪.২৪০ মেট্রিক টন ও ছত্রাজিতপুর ইউনিয়নে ১৫৫৭জনের মধ্যে ৩১.১৪০মেট্রিক টন চাউল রবাদ্দ দেয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *