Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জে নিখোঁজের প্রায় ৩ মাস (৮৪দিন) পার হলেও এখনো উদ্ধার হয়নি দৌলতপুর নূরানী হাফিজিয়ার মাদ্রাসা ১২ বছরের ছাত্র সায়েম। ছেলে সায়েমকে খুঁজে না পাওয়ায় হাহাকার বিরাজ করছে সায়েমের পিতা-মাতাসহ পরিবারের মাঝে। শিবগঞ্জ থানা পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অন্যান্য দপ্তরে জানানো হলেও অদ্যবধি শিশু সায়েমের সন্ধান মেলেনি। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শিশু সায়েমের খোঁজের কথা বলে হয়রানির অভিযোগ করেন সায়েমের বাবা মশিউর রহমান। এছাড়া, শিবগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে ছেলের খোঁজে বার বার ধরণা দিলেও থানা পুলিশ তেমন ভূমিকা রাখছে না বলেও অভিযোগ করেন মশিউর রহমান। ছেলের খোঁজ না পেয়ে সায়েমের মা হতাশাগ্রস্থ হয়ে দিন কাটাচ্ছেন এবং প্রলাপ বকছেন। জানা গেছে, নিখোঁজ শিশু সায়েম গত ঈদ উল ফেতরে ছুটিতে বাড়ি এসেছিল। ছুটি শেষে গত ৪ জুলাই মঙ্গলবার সকাল ৯ টার দিকে বাড়ির কাউকে কিছু না বলে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে সায়েমের বাবা ও আত্মীয়স্বজন তাঁর মাদ্রাসা, অন্যান্য আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে অনেক খোঁজাখুঁজি করার পরও তাঁর সন্ধান পাইনি। পরে বাধ্য হয়ে ছেলে সন্ধান চেয়ে গত ৫ জুলাই শিবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়। সাধারণ ডায়েরী (জিডি) নম্বর-২৫২, তারিখ-০৫-০৭-২০১৭ইং। এব্যাপারে সায়েমের বাবা মশিউর রহমান বলেন, সায়েম বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তার পরনে ছিল লুঙ্গী ও গেঞ্জি। সে হাতে একটি ছোট শপিং ব্যাগে একটি পাঞ্জাবি এবং একটি গেঞ্জি নিয়ে যায়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সায়েমকে খুঁজে না পেয়ে ছেলের সন্ধান চেয়ে গত ৫ জুলাই শিবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করি। কিন্তু অদ্যবধি থানা পুলিশ কোন সন্ধান দিতে পারেনি। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, বার বার থানা পুলিশের কাছে গেলেও পুলিশ বলে আপনার ছেলের সন্ধান চলছে। এভাবেই আমাকে দিনের পর দিন ঘুরাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ছেলের সন্ধানের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ র‌্যাব ক্যাম্পেও আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু অদ্যবধি কোন সুফল পাইনি। এব্যাপারে নিখোঁজ সায়েমের খোঁজে থাকা তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই গোলাম মোস্তফা জানান, শিশু সায়েম নিখোঁজের সন্ধান অব্যহত রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি যতদ্রুত সম্ভব শিশুটিকে উদ্ধার করবো। শিশুটিকে উদ্ধার করে তাঁর পরিবারের কাছে পৌছে দেয়া হবে। তিনি আরো বলেন, শিশু সায়েমের সন্ধানের জন্য বিভিন্ন থানায় ছবিসহ বিভিন্ন কাগজপত্র পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। এছাড়া শিশুটির বাবাকে বলেছি, ভয়ের কোন কারণ নাই। আমরা যতদ্রুত পারি, আপনার ছেলেকে উদ্ধার করে আপনাদের কাছে ফিরিয়ে দিবো।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *