Sharing is caring!

অবৈধ বালু বিক্রি ও মানুষ পারাপার

শিবগঞ্জে পাগলা নদীতে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান

♦ স্টাফ রিপোর্টার

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাগলা নদীর পানি প্রবাহ রোধ ও বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে জমজমাট বালু ব্যবসা ও মানুষ পারাপার করে আসছিলো একটি চক্র। শিবগঞ্জ উপজেলার ছত্রাজিতপুর ইউনিয়নের বহালাবাড়ী ঘাটে ও মহদিপুর ঘাটে পাগলা নদীর পানি রোধ করায় উচ্ছেদ অভিযান চালায় প্রশাসন। বুধবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এর যৌথ অভিযানে এই অবৈধভাবে নদীর পানি রোধ বাঁধগুলো ভেঙ্গে দিতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। জানা গেছে, বহালাবাড়ী ঘাটে নদীর পানি রোধ করে বাঁধ নির্মাণ করে বালু ব্যবসা ও মানুষ পারাপার করে অর্থ আদায়ের মূল হোতা শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ইজারাদার আলহাজ্ব মোঃ আশরাফ হোসেন এবং মহদিপুর ঘাটে পাগলা নদীর পানি রোধ করার মূল হোতা চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর যুবলীগের সভাপতি ইজারাদার মোঃ রাকিবুল হাসান বীরু। উচ্ছেদ অভিযানকালে সরেজমিনে বহালাবাড়ী ঘাটে ও মহদিপুর ঘাটে উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শিমুল আকতার, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ আতিকুর রহমান, সহকারী উপ-প্রকৌশলী সুকেশ কুমার, শিবগঞ্জ থানা পুলিশের এস.আই আরিফুল ইসলামসহ জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ আতিকুর রহমান জানায়, বহালাবাড়ী ঘাট ও মহদিপুর ঘাট প্রত্যেক বছর ইজারা দেওয়া হয় নৌকায় মানুষ পারাপারের জন্য। কিন্তু সেটি না করে উল্লেখিত নদীর ঘাটের দু’জন ইজারাদার জেলা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নদীর পানি রোধ করার জন্য ভরাট করে বালু ব্যবসা ও মানুষ পারাপার করছে। আমরা কিছুদিন আগে জানতে পারি বহালাবাড়ী ঘাটে পাগলা নদীর পানি রোধ করে মানুষ পারাপার ও বালুর ব্যবসা করা হচ্ছে। সেই সুবাদে আমরা আমাদের উর্ধতন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানায় এবং দ্রæত ঘটনাস্থলে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর পদক্ষেপ নিয়েছি। নদীর পানি রোধ করার চেষ্টা কেউ যদি করে তাহলে, ছাড় দেওয়া হবেনা। আমাদের উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের চাঁপাইনবাবগঞ্জ নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ সাহিদুল আলম জানান, নৌকা ফেরিঘাট ইজারা দেয়া হয় মানুষ পারাপারের জন্য। কিন্তু শিবগঞ্জের বহালাবাড়ী ঘাটে ও মহদিপুর ঘাটে পাগলা নদীর পানি রোধ করে নদীর পানি প্রবাহে বাঁধা সৃষ্টি করায় এবং অবৈধভাবে মানুষ পারাপার করায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, কোন নদীর পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা আইনত অপরাধ। পাগলা নদী খনন কাজ চলছে। নদীর মাটি বা বালি দুপাড়ে রাখা হচ্ছে। নদীর পার্শ্ববর্তী সরকারী জমিগুলো ভরাট করে এবং এলাকার ধর্মীয় কোন প্রতিষ্ঠান বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জমি ভরাট করার পর জমানো বালি বিক্রি করে সরকারী কোষাগারে অর্থ জমা দেয়ার জন্য সরকারী নির্দেশনা রয়েছে। কেউ ইচ্ছা করলেই এই বালি বা মাটি বিক্রি করতে পারবে না। কিছু অসাধূ ব্যক্তি এটা করে থাকলে, অবৈধভাবে করছে। মহানন্দা, পাগলা নদী খনন কাজ চলছে। খনন কাজ সম্পন্ন হলে এলাকার অনেক উপকারে আসবে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *