Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ সরকার দারিদ্র বিমোচনের লক্ষ্যে দরিদ্র ও দুস্থ পরিবারদের মাঝে বিনামূল্যে ৩০ কেজি করে ভারনারেবুল গ্রæপ ডেভেলোপমেন্ট (ভিজিডি) চাল বিতরণের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এই উদ্যোগকে সফল না করে ভিজিডি চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে ঞ্জর শিবগঞ্জ উপজেলার দাইপুখুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে। এই অনিয়মের অভিযোগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দাইপুখুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আতিকুল ইসলাম জুয়েল সহ তিনজনকে আটক করে নিয়ে আসে উপজেলা প্রশাসন। এসময় আরো দুইজনকে আটক করা হয় বলেন স্থানীয়রা জানান। আকটকৃত অপর দুইজন অত্র ইউপির সচিব তোহিদুল ইসলাম ও ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য খাইরুল ইসলাম। বৃহষ্পতিবার আনুমানিক ২টা তাদের আটক করে উপজেলা নিয়ে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এ অনিয়মের প্রতিবাদ করায় অনিয়মের সাথে জড়িত ইউপি চেয়ারম্যান প্রতিবাদকারিদের হুমকি প্রদান করে বলেও স্থানীভাবে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে, প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে চেয়ারম্যান সহ তিনজনকে আটক করে। এদিকে জানা গেছে, সরকারের উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য সরকার সারা দেশে একযোগে প্রতিটি ইউনিয়নের দরিদ্র ও দুস্থ পরিবারদের মাঝে বিনামূল্যে এই ভিজিডি চাল বিতরণ করছেন প্রতি মাসে। এরই ধারাবাহিকতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে এর কার্যক্রম চলছে অধ্যবধি। কিন্তু কিছু ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দরিদ্র ও দুস্থদের প্রাপ্ত চাল থেকে প্রায় ৫ থেকে ৭ কেজি চাল কম দিয়ে নিজেদের পকেট ভর্তি করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। আর মাঝখান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এসব দরিদ্র ও দুস্থ পরিবারগুলো। কিন্তু দুঃখজন হলেও সত্যি উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তর থেকে সিলমোহর করা চালের বস্তা ইউনিয়ন পরিষদের গিয়ে খোলা পাওয়া যায়। যা সিলমোহরকৃত চালের বস্তায় নির্ধারিত ৩০ কেজি চাল থাকে। আর এই সিলমোহরকৃত চালের বস্তা থেকে ৫-৭ কেজি চাল বের করে নিয়ে বাকি চালগুলো ওইসব দরিদ্র ও দুস্থ পরিবারকে দিচ্ছেন দূর্নীতিবাজ চেয়ারম্যানরা বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসি। এদিকে শিবগঞ্জ উপজেলার দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের এই ভিজিডি চাল বিতরণ নিয়ে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এরই প্রেক্ষিতে শিবগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কল্যাণ চৌধুরীর নেতৃত্বে ইউপি চেয়ারম্যান জুয়েল, সচিব তোহিদুল ইসলাম ও ওয়ার্ড সদস্য খাইরুল ইসলামকে আটক করে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে নিয়ে যায় বলে দাইপুখুরিয়া ইউপি চত্বরের প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানান। তবে, এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত আটক তিনজন উপজেলা নির্বাহী অফিসারে কার্যালয়ে আটক ছিল বলে অফিস সূত্রে জানা যায়।


এছাড়া দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নে ভিজিডি চাল বিতরণে ব্যাপক কারচুপি নিয়ে দরিদ্র ও দুস্থ পরিবারগুলোতে নানা গুনজন। এব্যাপারে ভিজিডি কার্ডধারী একরামুল হক, রবিউল ইসলাম, ফুরু হোসেন, মিন্টু, মফিজ উদ্দিন সহ অনেকেই জানায়, সরকার আমাদের ৩০ কেজি করে চাল দিতে বলেছে চেয়ারম্যানকে। কিন্তু চেয়ারম্যান জুয়েল ৩০ কেজি চাল দিচ্ছে না। আমাদেরকে ৩০ কেজি চাল দিচ্ছি বলে বাড়ি পাঠিয়ে দেয় তিনি। কিন্তু বাড়িতে গিয়ে চাল ওজন করে দেখি ৫-৭ কেজি কম। শুনেছি, সরকার ৩০ কেজি ওজনের সেলাই করা বস্তা আমাদের জন্য পাঠায়। কিন্তু এখানে সেলাইকৃত চালের বস্তা কাটে দিচ্ছে। আমরা কি করবো? তাদের তো প্রতিবাদ করতে পারিনা। তাই যা দিচ্ছে, তা-ই নিয়ে যাচ্ছি। এদিকে দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের ভিজিডি চাল বিতরণের অনিয়মের বিষয়টি স্থানীয়রা জানতে পারলে এর প্রতিবাদও করেন তারা। কিন্তু প্রতিবাদ করতে গিয়ে উল্টো ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম জুয়েল প্রতিবাদকারিদের জঙ্গি বলে গ্রেফতার করার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন প্রতিবাদকারি মানবাধিকার সংস্থার দাইপুখুরিয়া ইউনিয়ন শাখার উপদেষ্টা মোঃ কুল্লুর রহমান ও স্থানীয় তাজামুল হক। মোঃ কুল্লুর রহমান বলেন, ভিজিডি চাল বিতরণে অনিয়ম শুনে আমি ইউনিয়ন পরিষদে যায় এবং বিভিন্ন এলাকা দরিদ্র ও দুস্থদের সাথে কথা বলি। তারা আমাকে অভিযোগ করেন, এখানে কার্ডপ্রতি ৫-৭ কেজি চাল কম দিচ্ছে। কেনো এমন অনিয়ম তা জানতে দাইপুখুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম জুয়েলের সাথে কথা বলি। কিন্তু চেয়ারম্যান জুয়েল এর সঠিক উত্তর না দিয়ে আমাকে ৩ মিনিটের মধ্যে জঙ্গি বলে গ্রেফতার করে দেয়ার হুমকি দেয়। এছাড়া স্থানীয় তাজামুল হক জানান, সরকার দরিদ্র ও দুস্থদের সাথে কথা চিন্তা করে এবং দারিদ্র বিমোচনের জন্য শিশুমাতা তথা ভারনারেবুল গ্রæপ ডেভেলোপমেন্ট (ভিজিডি) চাল বিতরণ করছেন। কিন্তু আমাদের এই ইউপিতে চেয়ারম্যান জুয়েলের নেতৃত্বে ইউপির ১৩১টি ভিজিডি কার্ড থেকে ৫-৭ কেজি চাল কম দিচ্ছেন। চেয়ারম্যান যদি এমনটি কাজ করে তাহলে সাধারণ মানুষ কার কাছে গিয়ে সুবিধা পাবে? তিনি আরো অভিযোগ করেন বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিব যোগসাজগে এমন দূর্নীতি হচ্ছে। সচিব তোহিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন যাবৎ একই স্থানে থেকে দূর্নীতিতে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তার কারণেই চেয়ারম্যান জুয়েল দূর্নীতি করছে। আমরা এই সুষ্ঠু তদন্ত ও অত্র ইউপি সচিবের অপসারণের দাবি জানাচ্ছি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ইউপি সচিব জানান, দরিদ্র ও দুস্থ পরিবারদের মাঝে বিনামূল্যে ৩০ কেজি করে ভারনারেবুল গ্রæপ ডেভেলোপমেন্ট (ভিজিডি) চালের বস্তা সিলমোহর অবস্থায় উপজেলা খাদ্য অধিদপ্তর থেকে ইউপিতে আসে এবং ওই বস্তা দরিদ্র ও দুস্থ পরিবারকে দেয়া হয়। যদি কোন ইউপিতে বস্তার সেলাই কেটে চাল বিতরণ করে তাহলে এটি বিধিবহির্র্ভূত। এদিকে দাইপুখুরিয়া ইউপি সচিব তোহিদুল ইসলামের ০১৭৫৭-৮৪৬০৩৬ এই নম্বরে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ না করে কল কেটে দেন। অপরদিকে, দাইপুখুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম জুয়েল বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি প্রতিটা কার্ডাধারীকে ৩০ কেজি করে চাল দিচ্ছে। যারা এমন অভিযোগ করছেন তারা আমার বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র করছেন। প্রতিবাদকারিদের জঙ্গি বলে গ্রেফতার করার হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কাউকে এমন হুমকি দিই নি। যারা আমার সাথে কথা বলতে এসেছিল, তাদের সাথে ভালোভাবে কথা বলে বিদায় করেছি। এব্যাপারে শিবগঞ্জ উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কল্যাণ চৌধুরী ও শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শফিকুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভ করেননি তাঁরা।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *