Sharing is caring!

শিবগঞ্জ থেকে রিপন আলী রকি \ জেলার শিবগঞ্জের রেহেনা হত্যা মামলা তুলে নিতে মামলার বাদী ও পুলিশকে বিভিন্নভাবে হুমকী দিচ্ছে আসামী পক্ষ। চরম আতংকে দিন কাটাচ্ছেন বাদীর পরিবার। নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন নিহত রেহেনার মেয়ে মাকসুদা ও মকিম উদ্দিনসহ অন্যান্যরা। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামে প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় দু’প¶ের সংঘর্ষে প্রতিপ¶ের ইটের আঘাতে গৃহবধূ রেহেনা বেগম নিহত হয় ২৪ জুন। এ ঘটনায় শিবগঞ্জ থানায় মোট ২৯ জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫/২০জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত রেহেনা বেগম এর ¯^ামী মোঃ মকিম উদ্দিন। মামলায় তাৎক্ষনিক ৩জনকে আটকও করে পুলিশ। হত্যা মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামীরা বাদী মকিম ও পরিবারকে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকী দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে বাদী ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের তারাপুর ঢাক্কিপাড়া গ্রামের মকিম উদ্দিনের মাদ্রাসা পড়–য়া শি¶ার্থীকে একই গ্রামের পল্লী চিকিৎসক ও শি¶ক হোসেনের ছেলে কলেজ পড়–য়া শি¶ার্থী বারিকুল্লাহ এর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। পরে পারিবারিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব দেয়া হয়। প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় মকিম উদ্দিন ও তার সমর্থকদের নাজেহাল করায় সে জামায়াত (গ্রাম্য সমাজ ব্যবস্থা) থেকে বেরিয়ে আলাদা জামায়াত (গ্রাম্য সমাজ ব্যবস্থা) গঠন করে। এঘটনার সমাধানের মাধ্যমে আবারো একত্রিত হওয়ার জন্য গত ২৪জুন শনিবার ফজলুর রহমানের বাড়ির উঠনে গ্রাম্য শালিস বসে স্থানীয় গণ্যমান্য ও সমাজের নেতৃস্থানীয় লোকজন। শালিস চলাকালে একপর্যায়ে উভয় প¶ের সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মধ্যে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এসময় হোসেন মাস্টারের সমর্থকদের ইটের আঘাতে মকিম উদ্দিনের স্ত্রী রেহেনা বেগম (৩৫) মারা যায়। মকিম উদ্দিন ও রেহেনার মেয়ে মাকসুদা বেগম জানান, তিন বছর যাবত হোসেন মাস্টারের ছেলে বারিকুল্লাহ আমাকে জোর পূর্বক বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকে। বিয়ে করতে রাজী না হওয়ায় হোসেন মাস্টারের লোকজন শারিরীক নির্যাতন চালিয়ে ঘর থেকে বের করে দেয় এবং লুটপাট চালায়। এসময় ঘর থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকা লুটপাট করে এবং রেহেনা বেগমকে ইটের আঘাত দিয়ে হত্যা করে। রেহেনার মেয়ে মাকসুদা আরও জানায়, এখনো আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হুমকী দিচ্ছে। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি আমার পরিবারের নিরাপত্তা ও মায়ের হত্যার বিচার দাবী করছি। একই দাবি জানিয়ে বাদী মকিম উদ্দিন, তার ভাই আব্দুর রাকিব, চাচাতো ভাই হারুন, কামাল, জামালসহ অনেকেই জানান, ইউপি চেয়ারম্যান মির্জা শাহাদাৎ হোসেন খুররম আমাদেরকে মীমাংসার জন্য চাপ প্রয়োগ করছেন। এছাড়া, একই এলাকার জামালের স্ত্রী সানুয়ারা বেগম, মৃত হাকিমের স্ত্রী মাজেরা বেগম(৬৫)-সহ কয়েকজন মহিলা জানান, সংঘর্ষের সময় আমাদের বাড়ির পুরুষেরা পালিয়ে গেলে হোসেন মাস্টারের সমর্থকরা বাড়িতে প্রবেশ করে আমাদেরকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে এবং আমাদের বাড়িঘর ভাংচুর ও লূটপাট করে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বাদী মকিমের বাড়ি-ঘরে এখনও ইটপাটকেল পড়ে আছে, ঘরের টিনগুলোতে একাধিক ছিদ্র দেখা গেছে এবং ঘরের মধ্যে বাক্সসহ অন্যান্য আসবাবপত্রগুলো ভাংচুর অবস্থায় পড়ে আছে। ওই বাড়িটির উপর হামলা ও ভাংচুর চালানোর চিত্রটি এখনও বাস্তবে রয়েছে। বাড়ির লোকজন আতংকিত ও রীতিমত শঙ্কিতও। ২ জন গ্রাম পুলিশ এলাকা পাহারা দিচ্ছে বাড়িটি। আসামী প¶ের লোকজন পলাতক ও বাড়িতে তালাবদ্ধ থাকায় যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। এদিকে, ইউপি চেয়ারম্যান মির্জা শাহাদাৎ হোসেন খুররম তার উপর দেয়া অভিযোগ অ¯^ীকার করে বলেন, কোন চাপ প্রয়োগ নয় বরং তারা যদি মীমাংসা করতে চাই, তাহলে আমরা উদ্যোগ নিব বলেছি। তিনি আরো জানান, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ঊভয় প¶কে শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছি এবং ৪ জন গ্রাম পুলিশ ঘটনাস্থলে পাহারা দিচ্ছে। এব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস.আই রবিউল ইসলাম জানান, গত ২৪ জুন দু’পক্ষের সংঘর্ষে গৃহবধূ রেহেনা বেগম নিহতের ঘটনায় ২৯জনসহ অজ্ঞাতনামা আরও বেশকিছুজনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে রেহেনার ¯^ামী মকিম উদ্দিন। মামলার পর ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দরিদ্র পরিবার হওয়ায় মামলার পর থেকেই নিহতের পরিবারকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য আসামী প¶ তাদের চরম হুমকীর মুখে রেখেছে। এমনকি আমি তদন্তকারী কর্মকর্তা হলেও, আমাকেও আসামী সহকারী অধ্যাপক হাসান ও তার স্ত্রী মুঠো ফোনে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, আসামী অধ্যাপক হাসানই এই হত্যাকান্ডের মূল ইন্ধনদাতা বলে ধারণা করা হচ্ছে। হুমকী দেয়ার ঘটনায় বাদিকে থানায় ডায়রী করার জন্য বলা হয়েছে। শিবগঞ্জ থানা পুলিশ বাদির পরিবারকে সর্বোচ্চ নিরপত্তা দেয়ার চেষ্টা করছে। তবে ঘটনা এবং মামলার পর থেকেই আসামীরা গা ঢাকা দিয়েছে এবং ঘটনাস্থল পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সীমানার নিকটবর্তী হওয়ায় আসামীরা চোরাইপথে ভারতে পালিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *