Sharing is caring!

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের কলাবাড়ী গহিন মাঠের মধ্যে সন্ধান পাওয়া নতুন গণকবরটি সরকারী উদ্যোগে রক্ষনাবেক্ষনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছেন শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার ও স্থানীয়রা। দেশের জন্য যুদ্ধ করতে গিয়ে পাকহানাদার বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে শহীদ হওয়া এসব বীর সন্তান ও সাধারণ মানুষকে হত্যার পর মাটিতে পুঁতে রাখা এই স্থানটিকে স্মৃতিস্থান হিসেবে চিহ্নিত করে রাখা প্রয়োজন। যেভাবে শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের শরীরের হাড়-হাড্ডিগুলো দিন দিন প্রকৃতি গর্ভে মিশে যাচ্ছে, তাতে আর কিছুদিন পর  ওই এলাকার সে সময়ের স্মৃতি বহনকারীরা মৃত্যুর পর হয়তো এসব মৃক্তিযোদ্ধার আত্মত্যাগের বিষয়টি ভুলে যাবে এবং শুধুই গল্প বলে মনে করতে পারে নতুন পুজন্ম। এই এলাকার নতুন প্রজন্মের কাছে মৃক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা বিষয়টি তুলে ধরতে মুক্তিযোদ্ধাদের কঙ্কাল পড়ে থাকা স্থানটিকে চিহ্নিত করে রাখা জরুরী। গড় এলাকা (উঁচু টিলা) হলেও এমনিতেই ওই স্থানটির পার্শ্ববর্তী জমিগুলো আবাদী জমি হিসেবে এলাকার মানুষ ফসলী জমিতে পরিনত করেছে। এখনই জরুরী ভিত্তিতে স্থানটি রক্ষনাবেক্ষন করা না হলে খুব কম সময়ের মধেই জায়গাটি নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে বলেও ধারণা করছেন স্থানীয়রা। কালের ¯^াক্ষী হয়ে মাথা উচু করে থাকার জন্য স্থানটিকে রক্ষনাবেক্ষনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমনটায় আশা করছেন এলাকাবাসী। উল্লেখ্য, শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের কলাবাড়ী মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনীদের হাতে শহীদ হওয়া প্রায় ৩০জনের কঙ্কালসহ নতুন গণকবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। দীর্ঘ ৪৬ বছর পর জঙ্গল পরিস্কার করতে গিয়ে গণকবরটির সন্ধান পান শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের মৃত ইদ্রিশ বিশ্বাসের ছেলে দুরুল হোদা। জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মোবারকপুর ইউনিয়নের কলাবাড়ি মৌজায় ৪৪১, ৪৪২ ও ৪৪৩ নং দাগের জমিতে এই গণকবরের সন্ধান পাওয়া যায়। সেখানে দেখতে পাওয়া যায় বেশকিছু শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের কঙ্কালের হাঁড়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ সেতাউর রহমান ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুসকে হত্যাকান্ডের পর তাদের লাশ গাছে ঝুলিয়ে ও আগুনে পুড়িয়ে মাটিতে পুঁতে রাখে দেশীয় রাজাকার ও শান্তি কমিটির সহায়তায় পাক হানাদার বাহিনীরা। কানসাট, শ্যামপুর, মোবারকপুর, শাহাবাজপুর ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধাসহ সাধারণ মানুষকে ধরে এনে বিভিন্নভাবে অমানষিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করে গর্তে পুঁতে ফেলতো। এখানে শতাধিক ব্যক্তি শায়িত আছেন। এলাকাবাসীর চাওয়া-পাওয়ার কিছুই নেই। পাকবাহিনীর হাতে নিহত শহীদরা এ গড়ে চিরশায়িত আছেন। এখানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ, মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল শহীদদের রাষ্ট্রীয় মযার্দা দেয়ার ব্যবস্থা হোক।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *