Sharing is caring!

শিবগঞ্জ পৌরসভায় পানির তীব্র সংকট ॥ দূর্ভোগে পৌরবাসী

♦ স্টাফ রিপোর্টার

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ পৌরসভায় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বেশকিছুদিন থেকেই দূর্ভোগ পোহাচ্ছেন পৌরবাসীরা। পাশর্^বর্তী বাড়ি বা দূর থেকে সাবমার্সিবল পাম্প থাকা বাড়ি থেকে পানি সংগ্রহ করে চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। এতে সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপনকারী বাড়ির মালিকরাও পড়েছেন বিপদে। জীবন বাঁচানোর জন্য পানি সরবরাহ দিতে হয়ে হীমসীম খাচ্ছেন। দ্রুতই পানি সমস্যার সমাধান না হলে আরও বেশী সমস্যার সম্মুখিন হবেন পৌরবাসী এমনটায় আশংকা করছেন ভূক্তভোগীরা। পানি সমস্যা দূর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুতই গ্রহণ করবেন এমনটায় আশা করছেন শিবগঞ্জ পৌরবাসী। জানা গেছে, চৈত্র মাসের শুরুতেই পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌরসভায়। প্রায় ৩ সপ্তাহ থেকে এ সংকটের শুরু হয়েছে। ১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত পৌরসভাটিতে এবারই প্রথমবার সবচাইতে বেশি সংকট লক্ষ্য করা গেছে। সরকারী নলক’পগুলোও বেশিরভাগ অকেজো হয়ে গেছে। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্তরা। খাবার পানি ও ব্যবহারের পানির জন্য তাদের ছুটতে হচ্ছে উৎপাদক নলকূপ স্থাপন করা উচ্চবিত্ত প্রতিবেশীদের বাড়িতে। নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের এখন একটায় ভরসা পর্যাপ্ত বৃষ্টির মাধ্যমে পানির স্থর বৃদ্ধি পাওয়া। এদিকে পৌর এলাকায় পাইপলাইনে পানি সরবারাহের জন্য উদ্যোগ নেয়া হলেও পাইপলাইন স্থাপনে টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি দিয়েও সাড়া না পাওয়ায় প্রকল্পটি নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। সেসাথে শহরের ৬টি পয়েন্টে ৬ টি পাম্প স্থাপন করা হলেও বৈদ্যুতিক সংযোগ এখনও দেয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুস্ক মৌসুমে শিবগঞ্জ পৌরসভায় মানুষের পানির কষ্ট চলছে গত ৩ বছর থেকে। প্রতিবছরই কষ্ট বাড়ছে। তবে এবছর শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই পানি সংকট দেখা দেয়ায় গরীবদের এখন একটায় ভরসা বৃষ্টি। বৃষ্টি হলে পানির স্তর বাড়লে আবার নলক’পগুলো সচল হবে এ আশায় পৌরবাসী। বৈদ্যুতিক সংযোগ সমস্যা ও পাইপলাইন স্থাপনে কোন ঠিকাদার না পাওয়া যাওয়ায় পানি সমস্যা চলতি বছর সমাধান নিয়ে আশংকায় পৌরবাসী। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে পৌরবাসী হস্তচালিত নলকূপের ওপর এবং অধিকাংশ পরিবারই নলকূপে মোটর সংযোজন করে উত্তোলিত পানির উপর নির্ভরশীল। কিন্তু গত বছর গ্রীষ্মের শুরু থেকেই মোটরে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে পড়ে। তবে গত বছর গরমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারনে সমস্যা না হলেও এবছর বিপাকে পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ। তবে উচ্চবিত্ত পরিবারগুলো বাড়িতে মিনি উৎপাদক নলকূপ (সাবমার্সিবল পাম্প) স্থাপন করায় যেসব নলক’পগুলোতে পানি পাওয়া যেত সেগুলোও অকেজো হয়ে পড়েছে। শহরের দেওয়ানজাইগীর এলাকার বাসিন্দা দিলীপ কুমার দাশ জানান, নলকূপে আগের মতো পানি উঠছে না। রাতে অথবা ভোরে মোটর চালালে পানি কয়েকদিন ওঠার পর সেটাও অকেজো হয়ে গেলে তিনি কষ্টে সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপনের পর পানি সমস্যা থেকে রেহায় পেয়েছেন। তবে প্রতিবেশিদের পানি সরবরাহ করতে গিয়ে তিনি হিমসিম খাচ্ছেন। মাষ্টারপাড়ার মধ্যবিত্ত সিহাব জানান, গত ৮ মার্চের পর থেকে মোটরে পানি উঠছে না। বাধ্য হয়ে অন্য এলাকা থেকে খাবার পানি আনার জন্য লোক রাখতে হয়েছে। অন্যদিকে, শিবগঞ্জ স্নাতক মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক গোলাম মোস্তফা মামুন জানান, দীর্ঘদিন ধরেই শোনা যাচ্ছে পৌরবাসীর পানি সমস্যা সমাধানে একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে, কিন্তু অধ্যবধি বাস্তবায়ন হয়নি। শুষ্ক মৌসুমে বিষয়টি নিয়ে তোড়জোড় হলেও বছরের অন্য সময় আবারো বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। আর সেলিমাবাদ গ্রামের আলমগীর জয় জানান, গত ৩ বছর ধরে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কথা শুনলেও এখনও পাইপলাইন বসানোর কাজই শুরু করেনি কর্তৃপক্ষ। কয়েকদিন ধরে বাজারপাড়া, কুমারপাড়া, চতুরপুর, বাবুপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে একই ধরনের সমস্যার কথা জানা গেছে। এদিকে, সাবমার্সিবল পাম্প বিক্রিকারী একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্তাধিকারী রোজবুল হক জানান, এবছর পানির স্থর আগেভাগেই নেমে যাবার কারনে প্রতিদিনই একাধিক সাবমার্সিবল পাম্প বিক্রি হচ্ছে। কোম্পানিগুলো পাম্প সরবরাহে হিমসিম খাচ্ছে। পাম্প স্থাপনকারী মিস্ত্রি নোমান জানান, তিনি গত ১ বছরে ১০ থেকে ১৫ টি সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপন করলেও এবছর গত ২০ দিনেই তিনি ২৫ টি পাম্প স্থাপন করেছেন। এব্যাপারে শিবগঞ্জ পৌরসভার নব-নির্বাচিত মেয়র সৈয়দ মনিরুল ইসলাম পানি সংকটের কারনে পৌরবাসীর কাছে দু:খ প্রকাশ করে বলেন, গরমের শুরুতে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক এলাকার নলকূপে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। সাবমার্সিবল পাম্প স্থাপনের কারনে এ সংকট আরো প্রকট হয়েছে। তবে পানি সরবরাহ প্রকল্পটি আরো আগে বাস্তবায়নের উদ্যোগ না নেয়ায় পৌরবাসীকে আরও একটু ধৈয্য ধরতে হবে। প্রকল্পের ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বৈদ্যুতিক সংযোগ সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেয়ার পর জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ প্রকল্পের কাজ ও গভীর নলকুপের কাজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মনিটরিং করা হচ্ছে। আগামী ২০ দিনের মধ্যে পাম্পগুলোতে সংযোগ স্থাপনের জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। আর পাইপলাইন স্থাপনের জন্য যে টেন্ডার হয়েছিল, সেখানে একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়ায় স্বচ্ছতা আনতে আবারো টেন্ডার দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগে তদবীর করা হচ্ছে। পানি সমস্যা সমাধানে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন হোক এমনটাই প্রত্যাশা পৌরবাসীর।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *