Sharing is caring!

shibganj-pic-meyorশিবগঞ্জ প্রতিনিধি \ আসন্ন পৌর নির্বাচনে অংশ গ্রহনের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে ৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন এবং যাচাই-বাছাইয়ে তাদের বৈধ ঘোষণা করেছেন উপজেলা রিটার্নিং অফিসার কায়ছার মোহাম্মাদ। আর এই পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামীলীগ একক প্রার্থী নির্ধারণ করলেও আরও দুইজন বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়া এই পৌরসভা বিএনপির একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী ও পৌর শাখা বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম। অন্যদিকে পৌরসভা সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা শাখা জামায়াতের সহকারি সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান জাফর আলী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। সরকার দলীয় একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে এই পৌরসভায়। ময়েন খাঁন আওয়ামীলীগ সমর্থিত মনোনয়ন নিয়ে নৌকার মাঝি হিসেবে ভোটযুদ্ধে লড়াই করছেন। এছাড়া আওয়ামীলীগের আরো দুইজন বিদ্রোহী প্রার্থী এই পৌরসভা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।  এরা হলেন-পৌর শাখা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কারীবুল হক রাজিন, আওয়ামীলীগ নেতা ভারপ্রাপ্ত মেয়র ইমানী আলী। তবে, সরকার দলীয় সমর্থিত ও বিদ্রোহী প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেও বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা কোন প্রকার নির্বাচনী প্রচারণা করতে মাঠে নামতে পারেননি। বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা রয়েছে গ্রেফতার আতঙ্কে। সামনের দিকে দিন যতটা এগিয়ে যাচ্ছে ততটা যেনো নির্বাচনী উৎসব বেড়ে চলেছে। তবে, আওয়ামীলীগ প্রার্থীদের ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার মতো হলেও দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় নির্বাচনী কোন্দল লক্ষ করা যাচ্ছে। চলছে লবিং-গ্রেুবিং। জানা গেছে, গত ৮ নভেম্বর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৮ জনের মধ্যে ১৭ জনের সম্মতি, এছাড়াও উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত এবং পৌরসভার মধ্যের দলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের সমর্থনের ভিত্তিতে জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রসাীদের হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হাত-পায়ের রগকাটার শিকার হয়ে দলের জন্য এক পা হারানো, দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ আওয়ামীলীগকর্মী পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কারীবুল হক রাজিনের নাম ঘোষণা করা হয়। এছাড়া রাজিন গত পৌর নির্বাচনে অল্প ভোটে বিএনপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। তিনি আন্দোলন-সংগ্রামে সব সময় মাঠে থেকেছেন। তাছাড়া তৃণমূলের মতামতের ভিত্তিতেই তাকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠেই ছিলেন না, আত্মগোপন করে পিঠ বাঁচানোর চেষ্টা করেছেন, সুবিধাবাদী এমন একজন হঠাৎ করেই মনোনয়ন চাওয়ায় শিবগঞ্জ তৃণমূল আওয়ামীলীগে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এছাড়া দলীয় মনোনয়ন নিয়েও রয়েছে সমালোচনার ঝড়। তৃণমূল নেতাকর্মীরা অভিযোগ করছেন ৬৮ কিলোমিটার দূরে বসে থেকে এক নিষ্ক্রীয় নেতা, আওয়ামীলীগের নাম ভাঙিয়ে ঠিকাদার ব্যবসায়ী ময়েন খাঁনকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী ময়েন খাঁন-বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও ব্যাক্তি স্বার্থ। আমি ও আমার স্বপরিবার আওয়ামীলীগের একনিষ্ঠ পরিবার। আমি শিবগঞ্জেই বসবাস করি এবং আমার সন্তানদের লেখা-পড়ার স্বার্থে আমি মাঝে মধ্যে সন্তানদের দেখতে রাজশাহীতে যাই। আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং দলের সুনাম ক্ষুন্ন করতে এই সব বলে বেড়াচ্ছে। বিদ্রোহী প্রার্থী কারীবুল হক রাজিন জামায়াত-শিবিরের উসকানিতে এবং জামায়াত-শিবিরের সাথে আতাত রেখে সে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে। রাজিন দাবি করে তিনি নাকি আওয়ামীলীগের জন্য তার পা হারিয়েছে। কিন্তু সে আওয়ামীলীগের জন্য পা হারায়নি। সে তার ব্যবহারের জন্য পা হারিয়েছে। এছাড়া তিনি আরো বলেন, আমি আশাবাদি আসন্ন পৌর নির্বাচনে দলীয় প্রতিক নিয়ে আমি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে এই আসনটি আওয়ামীলীগ সরকারকে উপহার দিবো। স্বতন্ত্র প্রার্থী কারীবুল হক রাজিন-বলেন তৃণমূল সমর্থিত প্রার্থী। গত ৮ নভেম্বর পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ ১৮ জনের মধ্যে ১৭জনের সম্মতি, এছাড়াও উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত এবং পৌরসভার সকল নেতা-কর্মীদের সমর্থনের আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে আমার নাম ঘোষণা করে। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে নিজের জীবনকে উৎ¯^র্গ করার পরেও যদি আমাকে দলের বাইরে ফেলে দেয় তবুও আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ নিয়ে এই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যাবো। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ তৃণমূল নেতাকর্মীদের ভোটের মাধ্যমে আমাকে এই পৌর নির্বাচনে মেয়র প্রার্থিতা ঘোষণা করে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যারা দলের জন্য কিছু করতে পারবেনা এবং ৬৮ কিলোমিটার দূরে থেকে হঠাৎ করে আওয়ামীলীগের মেয়র প্রার্থি হিসেবে নিষ্ক্রীয় নেতা ময়েন খান নিজে প্রকাশ করেন। এরপর জেলা কমিটিকে ম্যানেজ করে কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন নিয়ে আসে।  বিদ্রোহী প্রার্থি ইমানী আলী- জানান, আমি নির্বাচন করছি এই কারণে যে, আমি আওয়ামীলীগের জন্মান্তর থেকে দলের সাথে কাজ করি। দলকে ভালবাসার কারণে আমার বাড়িতে একাধিকবার জামায়াত-শিবির-বিএনপির ক্যাডাররা হামলা চালিয়ে ভাংচুর-লুটপাট ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া দলীয় মনোনয়নপত্র যাকে দিয়েছেন তার কাছ থেকে প্রচুর অর্থের বিনিময়ে মনোনয়ন দিয়েছেন। এছাড়া তিনি আরো বলেন, আমি বর্তমান ভারপ্রাপ্ত মেয়র। আমি প্রায় ৮ মাস থেকে দায়িত্ব পালন করছি। আমার কর্মদ¶তার কারণে পৌরসভার ৯ টি ওয়ার্ডের জনসাধারণের অনুরোধে আমি এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম জানান. আমরা গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছি। আমাদের নেতাকর্মীরা গ্রেফতার এড়াতে এখনো নির্বাচনী মাঠের বাইরে রয়েছে। সরকার যদি লেবেল প্লেয়িং সঠিক ভাবে করে তাহলে আমরা নির্বাচনী প্রচারণাতে নামতে পারবো। এখনো পর্যন্ত সরকার লেবেল প্লেয়িং মাঠ করতে পারেনি। বিধায়, আমাদের নেতাকর্মীরা গ্রেফতার আতঙ্কে রয়েছে। সরকার যদি লেবেল প্লেয়িং মাঠ সঠিকভাবে করতে পারেন তাহলে আমরা নির্বাচনী প্রচারণায় নামতে পারবো।  পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান জাফর আলী বলেন, আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছি। কিন্তু পুলিশ এত অত্যাচার করেছে, যার ফলে আমাদের নেতাকর্মীরা এলাকায় বাইরে আত্মগোপনে রয়েছে। এসময় যদি আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে তাহলে আমাদের নির্বাচনী অংশ গ্রহন ও প্রচারণা কিছুই করতে পারবোনা। আমরা সরকারের কাছে আবেদন করছি যেনো লেবেল প্লেয়িং মাঠ করে দেন। এব্যাপারে জেলা শাখা আওয়ামীলীগের সভাপতি মঈনদ্দিন মন্ডল জানান, জেলা কমিটি ম্যানেজ হয়ে ময়েন খানকে দলীয় মনোনয়ন পেতে সহযোগিতা করেনি। শিবগঞ্জ পৌরসভা দলীয় মেয়র পদপ্রার্থীদের একক প্রার্থী বাছাইয়ের জেলা কমিটি বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে তথ্য নিয়ে ময়েন খানের নাম চূড়ান্ত করে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সমর্থনে কারীবুল হক রাজিন এই পৌরসভার মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও তাকে কেনো দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়নি এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, রাজিন আওয়ামীলীগ করে ঠিক আছে। সে রাজনীতির জন্য পা হারায়নি। তার চলা ফেরার জন্য সন্ত্রাসীরা তার উপর হামলা চালিয়েছে। এছাড়া আমরা ডিএসবি, এনএসআই, গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে জানতে পেরেছি সে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের কথার উঠাবসা করেছে। সবকিছু চিন্তা ভাবনা করেই ময়েন খানকে দলীয় মনোনয়ন পেতেই তার নাম পাঠানো হয়েছিলো এবং তাকেই দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে কেন্দ্র থেকে।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *