Sharing is caring!

শিবগঞ্জ প্রতিনিধি \ আজ ১১ ডিসেম্বর শিবগঞ্জ মুক্ত দিবস। আজকের এই দিনে ৭ নম্বর সেক্টরের সহ অধিনায়ক বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে কয়েকটি ইউনিয়নের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধারা প্রাণপন যুদ্ধ করে পাক সেনাদের বিতাড়িত করেন এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলাকে মুক্ত করে বর্তমান উপজেলা পরিষদ চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। উপজেলার শাহাবাজপুর ইউপির আবুল খায়ের বিশ্বাসের বাড়ীতে ৩০জন মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ক্যাম্প ছিল। সেখান থেকে মুক্তিযোদ্ধারা ৬ নভেম্বর পাক সেনাদের সাথে সম্মুখ যুদ্ধে পরাস্থ করে কানসাট অভিমুখে অগ্রসর হতে থাকে। এদিকে ৩০ নভেম্বর বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর বালিয়াদিঘী-সোনামসজিদ অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে ধোবড়া এলাকায় পাক সেনাদের অবস্থানে আক্রমন চালান। ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিলে ধোবড়া এলাকায় মুক্তিবাহিনী পাক সেনাদের পরাস্থ করে সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা ডিফেন্স বসায়। ওই সময় ২০/২৫জন পাক সৈন্য মারা যায়। ৮ ডিসেম্বর বিনোদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পাক বাহিনী বিনোদপুর ও মনাকষা এলাকার শতাধিক নিরীহ গ্রামবাসীকে ঘরে আটকে আগুনে পুড়িয়ে মারে এবং পরদিন ওই স্কুল মাঠেই বর্তমান স্মৃতিসৌধ এলাকায় ৫০/৫৫ জন শিক্ষিত ব্যক্তিদের দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে হত্যা করে। এ খবর পেয়ে সাবেক এম.পি অধ্যাপক মোঃ শাহজাহান আলী ও আমানুল্লাহ বিশ্বাসের বাহিনী এবং মনাকষা এলাকায় মইনউদ্দিন আহম্মেদ মন্টু ডাক্তারের মুক্তিবাহিনী ত্রিমুখী ভাবে আক্রমন করে সম্মুখ যুদ্ধে মিলিত হয়ে ৬/৭ জন পাক সেনাকে নিহত করার পর শিবগঞ্জ অভিমুখে অগ্রসর হতে থাকে। একই ভাবে চককীর্তি ধাইনগর সহ আরও বিভিন্ন এলাকা থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের দলগুলো শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসে মিলিত হয় এবং পাক বাহিনীকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের দিকে তাড়িয়ে দিয়ে সেদিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর পৌঁছা মাত্রই বর্তমান উপজেলা পরিষদ চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শিবগঞ্জকে মুক্ত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরে ১৪ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সদরের দিকে এগুতে থাকে এবং মহানন্দা নদীর তীরে বারঘরিয়া-রেহায়চর নামক স্থানে পাক বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর শহীদ হলে তাঁকে সোনামসজিদ প্রাঙ্গণে সমাহিত করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *