Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিষ্টার অফিসের ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির সংবাদ প্রকাশ করায় জাতীয় দৈনিক মানব জমিন, দৈনিক চাঁপাই দর্পণ এর উপজেলা প্রতিনিধি ও দেশের অন্যতম গণমাধ্যম অনলাইন নিউজ পোর্টাল এইবেলা ডটকম এর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক ইমরান আলী ও তার সহকর্মীদের বিভিন্নভাবে হুমকি এমনকি প্রাণ নাশের হুমকিও দিয়েছে শিবগঞ্জ নকল নবিস সমিতির নামে দূর্ণীতিবাজ নেতা-কর্মীরা। বাধ্য হয়ে সাংবাদিক ইমরান আলী শিবগঞ্জ থানায় নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন। শিবগঞ্জ থানা ডায়েরী নম্বর-১০৩. তারিখ-০৩-০৫-২০১৬ইং। ডায়েরীতে উলে­খ্য করা হয়েছে “শিবগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিষ্টার অফিসে চলছে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতি” শীর্ষক শিরোনামে গত ০৭/০৩/২০১৬ইং তারিখে দেশের অন্যতম গণমাধ্যম অনলাইন নিউজ পোর্টাল এইবেলা ডটকমে ও ০৮/০৩/২০১৬ ইং তারিখে জাতীয় দৈনিক মানব জমিন, রাজশাহী থেকে প্রকাশিত রাজবার্তা ও জেলা থেকে প্রকাশিত চাঁপাই দর্পণ পত্রিকা একযোগে প্রকাশিত হয়। এছাড়া গত ১৯/০৪/২০১৬ ইং তারিখে প্রকাশিত রাজশাহী হতে প্রকাশিত আমাদের রাজশাহী, উত্তরা প্রতিদিন ও দৈনিক দূর্ণীতির আখড়া পত্রিকায় ফলোআপ সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপরপরই উপজেলা সাব-রেজিষ্টার অফিসে অনিয়ম ও দূর্নীতি অনেকটা কমে যায় এবং সচেতন মহল সর্তক হোন। ফলে সব দূর্ণীতির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের টনক নড়ে বসে। তারা কোন ধরণের অনিয়ম ও দূর্ণীতি না করতে পারাই গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৩৩ মিনিটে নকল নসিব সমিতির সভাপতি সারওয়ার হোসেনের ০১৭১৪-৬৫৭৯০৫মোবাইল নম্বর থেকে সাংবাদিক ইমরান আলীর ব্যবহৃত মুঠোফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগালিজ ও বিভিন্নভাবে হুমকি এমনকি প্রাণ নাশেরও হুমকি দেন সারওয়ার হোসেন ও শরিফুল ইসলাম। উল্লেখ্য, শিবগঞ্জ সাব-রেজিষ্টার অফিসে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয় বিভিন্ন সংবাদপত্রে। সংবাদে উল্লেখ করা হয়,

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিষ্টার অফিসে চলছে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতি। দলিল তৈরির নামে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। দলিল লেখকসহ ভুক্তভুগিরা পড়েছেন ব্যাপক বিপাকে। সরেজমিনে দেখা গেছে যদি কোন ব্যাক্তি দলিল তৈরি করে তাহলে তাকে সেখানে ৩২ শত টাকার অধিক কমিশন দিতে হয়। আর সেই কমিশনের টাকা অবৈধ্য ভাবে ভোগ করেন সাব-রেজিষ্টার অফিসের কমিশনাররা। কিন্তু রেজিষ্ট্রেশন আইন ও বিধিমালার ৩২ নম্বর ধারায় উল্লেখিত আছে যে, ৩১ ধারা, ৩৩ ধারার (৩) উপধারা বা ৩৮ (২) উপধারার বিধানানুযায়ী সকল ভিজিট অথবা ৩৩ ধারার (৩) উপধারা বা ৩৮ ধারার (২) উপধারার অধীনে কমিশন জারির যাবতীয় দরখাস্তের সহিত আদায় যোগ্য ফিসাদি ৩ শত টাকা। কিন্তু রেজিষ্ট্রেশন আইন ও বিধিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে ৩ শত টাকার স্থলে আদায় করে নিচ্ছেন ৩২ শত টাকা। যা দলিল প্রতি ২৭ শত টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। আর সেই চাঁদার টাকা সাব-রেজিষ্টার অফিসের ৩ জন কমিশনার ভাগবাটোয়ারা করে খাচ্ছেন। তাদের মধ্যে সাব-রেজিষ্টার শুকুমার চন্দ্র দেউরী শতকরা ৬০ভাগ ও আব্দুল খালেক শতকরা ২৫ভাগ এবং মোঃ মৌজাউর রহমান (বাবলু)সহ অফিস কর্তৃপক্ষ শতকরা ১৫ভাগ চাঁদার টাকা ভোগ করছেন বলে জানা গেছে। শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট এলাকার মোঃ শহিদুল ইসলাম ও মোঃ মোজাম্মেল হক অভিযোগ করে বলেন, রেজিষ্ট্রেশন আইন অনুযায়ী কমিশন ৩ শত টাকা হলেও তাদের কাছ থেকে ৩২ শত করে টাকা কমিশন বাবদ নিয়েছেন। যেখানে প্রতিটি দলিলে ২৭ শত করে টাকা নির্বিগ্নে আদায় করে নিচ্ছেন উপজেলা সাব-রেজিষ্টার ও তার মোহরাররা। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক পরিচয় গোপন রেখে দলিল লেখক মোঃ এন্তাজ আলম ও মোঃ রাকিমুল হকের সাথে ফোন আলাপে দলিলের কমিশন সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন ৩৭ শত থেকে ৪ হাজার টাকা কমিশন বাবদ অফিসকে ফি দিতে হয়। এই সকল বিষয় সম্পর্কে শিবগঞ্জ উপজেলা সাব-রেজিষ্টার শুকুমার চন্দ্র দেউরীর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে অফিসে তাকে না পাওয়াই মুঠোফোনে কথা বললে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, তিনি কিছুই জানেন না। তবে তিনি অফিস কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল খালেকের সাথে কথা বলতে বলেন। কিন্তু আব্দুল খালেক কমিশনের ফিসাদি হিসেবে অতিরিক্ত চাঁদা আদায়ের কথা ¯ি^কার করেন। এখানেই শেষ নয়, হেবার ঘোষনা দলিলে ৬ শত টাকা সেরেস্তা এবং অনান্য এককালিন দলিলে ৮ শত টাকা সেরেস্তার চাঁদা আদায় করেন অফিস কর্তৃপক্ষ। যা রেজিষ্ট্রেশন আইন ও বিধিমালায় অন্তর্ভূক্ত নয়। এছাড়াও আরও অভিযোগ উঠে এসেছে টিপসহির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের। শুধু টিপসহির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করছে সাব-রেজিষ্টারের কর্মতকর্তা-কর্মচারিরা বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, উপজেলা সাব-রেজিষ্টার অফিসে সাপ্তাহে ৩ দিন জমি রেজিষ্ট্রি করা হয়। আর জমি খারিজ, বণ্টনমানা কিংবা ক্রয়কৃত জমি রেজিষ্ট্রি করতে গেলে প্রথমেই টিপসহির মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয় এবং সেখানে প্রতি টিপসহি থেকে চাঁদা আদায় করা হয় ৪০ টাকা। এদিকে অভিযোগ সতত্যা নিশ্চিত করতে সরজমিনে সাব-রেজিষ্টার অফিস পরিদর্শন করে চাঁদা আদায় ও বিভিন্ন দূর্নীতি-অনিয়মের ভিডিও চিত্র ধারণ করা হয়। এব্যাপারে ভূক্তভোগি ও অভিযোগকারী আলফাজ উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম, তারিফ হোসেন, জমির উদ্দিন, শরিফুল ইসলাম সহ অনেকে অভিযোগ করে বলেন, ক্রয়-বিক্রয়কৃত জমি রেজিষ্ট্রি করার জন্য সাব-রেজিষ্টার অফিসে আসি এবং প্রথমে আমাদের টিপসহি দিতে বলে এবং টিপ দেয়ার পর প্রতি টিপে ৪০ টাকা করে চাঁদা দাবি করে এবং তা আদায়ও করেন। এছাড়া সাব-রেজিষ্ট্রার অফিসের বিভিন্ন টেবিলে টাকা দিতে হচ্ছে বলেও তারা জানান। এব্যাপারে টিপসহি প্রদান ক¶ে কর্মরত কর্মচারি মবিন আলীর কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে বলে এবং পরে চেয়ার ছেড়ে বাইরে পালিয়ে যায়। তাই আবারও উপজেলা সাব-রেজিষ্টার শুকুমার চন্দ্র দেউরীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, টিপসহির সময় যে টাকা নেয়া হয় তা আমি জানিনা। তবে তিনি বড় বাবুর সাথে কথা বলতে বলেন, বড় বাবুই এসব দেখাশোনা করেন। কিন্তু কে এই বড় বাবু তা অফিসের কেউ বলতে পারেননি।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *