Sharing is caring!

স্টাফ রিপোর্টার \ শীতকালে মাছ চাষে নতুন উদ্ভাবনী বিষয়ে আলোচনা সভা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে। মাছ চাষে সমৃদ্ধ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্নস্থানের মাছ চাষীদের নিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে জেলা মৎস্য দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা মৎস্য দপ্তরের আয়োজনে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অদিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মঞ্জুরুল হুদা। জেলা মৎস্য কর্মকর্তার শামছুল আলম শাহ এর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে মাছ চাষের বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য রাখেন জেলার সর্ববৃহৎ মৎস্য খামারের মালিক আলহাজ্ব মোঃ আকবর হোসেন, খাচায় মাছ চাষে জাতীয় পুরস্কার প্রাপ্ত মাছ চাষী মোঃ মতিউর রহমান, জেলা থেকে জীবন্ত মাছ রপ্তানীকারক মাছ ব্যবসায়ী রাকিবুল ইসলাম বাবু। এসময় শিবগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বরুণ কুমার মন্ডল, নাচোল খামার ব্যবস্থাপক আনোয়ারুল কবির, ভোলাহাট উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অঃ দাঃ) ওয়ালিউল ইসলাম, আমনুরা ফার্ম ম্যানেজার আব্দুর রহিম, মোসাঃ সামশুন্নাহারসহ মাছ চাষী ও গণমাধ্যমকর্মীরাসহ ৩০জন উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বলেন, শীতকালে তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় মাছের খাবার চাহিদা কমে যায়। এমনকি মাছ দূর্বল ও রোগাক্রান্ত হয়ে মারাও যায়। এ অবস্থায় শীতকালে পুকুরে পলিথিন ব্যবহারের মাধ্যমে ঢেকে পুকুরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে মাছের চাহিদা মেটাতে সকল মাছ চাষীকে এগিয়ে আসার আহবান জানান। জেলার বৃহৎ মৎস্য খামার ‘নবাব মৎস্য খামার’ এর মালিক আলহাজ্ব আকবর হোসেন বলেন, মাছে-ভাতে বাঙ্গালী আমরা। বাঙ্গালীরদের প্রধান খাবার মাছ ও ভাত। তাই ভাতের মাছ লাগেই আমাদের। এক সময় বাংলাদেশ সরকার কোটি কোটি ডলারের মাছ বিদেশ থেকে আমদানী করতো। কিন্তু দেশের সকল উদ্যোক্তাদের ও চাষীদের চেষ্টায় বর্তমানে বাংলাদেশ মাছ উৎপাদনে প্রায় সয়ংসংম্পুর্ণ। মাছ আমদানী করতে হয়না বললেই চলে। বাংলাদেশ এখন মাছ উৎপাদনে বিশ্বে ৫ম স্থানে রয়েছে। বিশেষ করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় আগের চেয়ে অনেক অনেক বেশী ব্যবসায়ীরা মাছ চাষে এগিয়ে এসেছে। উৎপাদনও অনেক বেড়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আগামীতে আরও মাছের উৎপাদন বাড়বে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। জেলার বিশিষ্ট মাছ ব্যবসায়ী জীবন্ত মাছ সরবরাহকারী ও মাছে খাবার সরবরাহকারী রাকিবুল ইসলাম বাবু জেলায় আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে এবং মৎস্য কর্মকর্তাদের পরামর্শ গ্রহণ করে জেলার মাছের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সকল মাছ চাষীকে আহবান জানান। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সভায় বলেন, বোরো মৌসুমে পাঙ্গাস ও মনোসেক্সসহ অন্যান্য মাছের উৎপাদন ব্যাহত হয়। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীতল রক্ত বিশিষ্ট প্রাণীর খাবার গ্রহণে আগ্রহ কমে যায়। ফলে বিশেষ করে পাঙ্গাসের উৎপাদন ব্যাহত হয়। তাপমাত্রা কমে যাওয়ার ফলে না খেয়ে পাঙ্গাসের ব্যপক মোড়কও শুরু হয়। তাই পলিথিন দিয়ে পুরো পুকুর ঢেকে রেখে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই মোড়ক রোধসহ অন্যান্য মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির নতুন উদ্ভাবনী উদ্যোগের উদ্দ্যেশেই এই সভার আয়োজন। এছাড়া বোরো জমিতে ২ ফুট মাটি কেটে গভীর করে সেই পানিতে মাছ চাষ করে অনেক মাছ উৎপাদন করা যাবে। বিশেষ করে পৌষ ও মাঘ মাসে রৌদ্রের তাপ থাকে না। তাই এসময় বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করে মাছ চাষে সকল মাছ চাষীকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা। জেলার মাছ চাষীদের উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিতে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তার অনুরোধ জানান বক্তারা।

আপনার মতামত লিখুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *